বাড়তি খরচে সংসার চালানোর চিন্তায় বিমর্ষ তারা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ আগস্ট ২০২২, ০২:৩৫ পিএম
বাড়তি খরচে সংসার চালানোর চিন্তায় বিমর্ষ তারা

হাবিবুর রহমান একটি বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন। ছোটবেলা থেকে ঢাকায় বেড়ে উঠা হাবিবুর পরিবারসহ থাকেন রাজধানীর ফার্মগেটে। অফিস উত্তরার হাউজ বিল্ডিং এলাকায়। ফার্মগেট থেকে উত্তরায় প্রতিদিন মোটরসাইকেলে যাওয়া আসা ৩৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে বাইকে তার ১ লিটার তেল (অকটেন) খরচ হয়। মাসে চারটি ছুটির দিন বাদে ২৬ দিন যাতায়াতে তার খরচ হতো ২৩ শ টাকার একটু বেশি। সেই খরচ এখন ৩৫শ টাকার বেশি হবে। মাসে ১২শ টাকার মতো শুধু অফিস যাতায়াতে বাড়তি খরচ যোগ হচ্ছে সরকারের জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে। ফলে হিসেবি টাকার বাড়তি খরচের হিসাব মেলাতে তালগোল পাকিয়ে ফেলছেন হাবিবুর। বাড়তি খরচের কারণে সামনের দিনগুলোতে কিভাবে সংসার চালাবেন সেই দুঃচিন্তায় আছেন তিনি। হাবিবুরের মতো রাজধানীতেই অসংখ্য মানুষকে পেয়েছে বাড়তি খরচের দুশ্চিন্তায়।

তবে সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু শনিবার (৬ আগস্ট) জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাধ্য হয়েই সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব অন্যান্য খাতেও পড়বে বলে শঙ্কায় রয়েছেন সাধারণ মানুষ।

দীর্ঘদিন ধরেই নিত্যপণ্যের মূল্য লাগামছাড়া। ভোজ্যতেলও মানুষকে ভোগাচ্ছে। গত জুন মাসে বাড়ে গ্যাসের দামও। রান্নার গ্যাসের জন্য দুই চুলার (ডাবল বার্নার) মাসিক বিল ৯৭৫ টাকা থেকে বেড়ে ১০৮০ টাকা, এক চুলার মাসিক বিল ৯২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯৯০ টাকা করা হয়। আর প্রিপেইড মিটারে প্রতি ইউনিটের খরচ ১২ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৮ টাকা করা হয়। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় কীভাবে সংসার চালাবেন সেই চিন্তায় রয়েছে মানুষ।

শনিবার (৬ আগস্ট) সকালে অফিসগামী হাবিবুর ফার্মগেটস্থ খামাড়বাড়ি মোড়ে মুখভার করে চা হাতে নিয়ে বলছিলেন জীবনের হিসাব মেলানোর কথা। ঢাকা মেইলকে তিনি বলেন,  ২৫ হাজার টাকার চাকরিতে সংসার চলে না। বাইক নিয়ে অফিসে না গেলে রাস্তায় অনেক সময় নষ্ট হয়। তেলের খরচ আগে ছিল ২৩শ টাকা সেই সঙ্গে মবিল খরচ আছে। মাসে যদি সার্ভিসিং করাতে হয় সে খরচ আছে। কোনো কিছু চেঞ্জ করলে সে খরচ আছে। ক্লাসের তার ছিড়ে যায়, ব্রেক পাল্টাতে হয়, টায়ার পরিবর্তন এসব খরচের একটি হিসাব আছে। এখন বাড়তি তেলের দাম মাসে যোগ হবে ১২০০ টাকা। আমার নিজের একটা পকেট খরচ আছে। মাসে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে ৫-৬ হাজার টাকার খরচ। কাঁচাবাজারের খরচ ডাবল হয়ে গেছে। বাসাভাড়া আছে। সামনে কীভাবে চলব বলেন?

হাবিব বলেন, বেসরকারি চাকরিতে বছরঘুরে বেতন যতোটা বাড়ে খরচ বাড়ে দ্বিগুণের বেশি।

মোহাম্মদপুর থেকে পল্টনে অফিসে যাতায়াতকারী আব্দুল ওয়াহাব বাসে যাতায়াত করেন। আগের চেয়ে ভাড়া বেড়েছে বাসে ১০ টাকা বেড়েছে অটোমেটিকভাবে। ওয়াহাব বলেন, সড়কে বাস কম। যা চলছে তাদের সবগুলো আজ থেকেই ভাড়া নিজেদের মতো বাড়িয়ে চলছে। হয়তো সরকার একটি ভাড়া নির্ধারণ করে দিবে সেখানেতো আর কমবে না তেলের দাম যেহেতু বাড়ছে ভাড়াও বাড়বে। যদি আমার এই পথে ৫ টাকাও বাড়ে তাহলে আমার মাসের খরচে ১৫০ টাকা বেড়ে গেলো। সর্বশেষ গ্যাসের দাম বাড়ানোতে খরচ বেড়েছে ১০৫ টাকা।

ওয়াহাব বলেন, বাচ্চারা এখানে স্কুলে পড়ে। এলাকা ছেড়ে অন্য এলাকায় বাসা ভাড়া নেবো সে উপায়ও নেই।

আসাদ গেটের বাসিন্দা আব্দুল জলিল একজন ব্যবসায়ী। রাজধানীতে টাইলসের দোকান রয়েছে তার। ব্যবসার পরিস্থিতি ভালো নয় উল্লেখ করে ঢাকা মেইলের সঙ্গে আলাপকালে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, দিন দিন দেশের পরিস্থিতি আসলে কোন দিকে যাচ্ছে? তিনি বলেন, আমার ব্যবসার বিক্রি কমে গেছে। মানুষ টাইলস কিনছে কম। সৌখিনতা তখনই দেখায় প্রয়োজন মেটানোর পর।

আব্দুল জলিল বলেন, জ্বালানি তেলের প্রভাবে বাজারে পণ্যের দাম অনেক বেড়ে যাবে। শাক সবজি মাছ মাংস দ্বিগুণ তিনগুণ বাড়তে পারে। বাংলাদেশ বলে কথা এখানে সুযোগ পেলে যার যার মতো লাভ করতে যায়।

ডব্লিউএইচ/এমআর

টাইমলাইন