মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০২৪, ঢাকা

প্রথম বিশ্বকাপে নারীদের ঐতিহাসিক যাত্রা

শ্রীবাস চৌধুরী নিলয়
প্রকাশিত: ২৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:২২ এএম

শেয়ার করুন:

প্রথম বিশ্বকাপে নারীদের ঐতিহাসিক যাত্রা

চলতি বছরের (২০২২) মার্চ ও এপ্রিলে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বসে নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপের দ্বাদশ আসর। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চে আসরটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে বিশ্বব্যাপী কোভিড মহামারির কারণে প্রতিযোগিতাটি স্থগিত করা হয়েছিল।

এবারের আসরেই বাংলাদেশের নারীরা ক্রিকেটারা (টাইগ্রেস) নতুন যুগের সূচনা করেন। যেখানে প্রথমবারের মতো খেলার সুযোগ পায় নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। আর নারী ক্রিকেটের সর্বোচ্চ এই আসরে প্রথমবার অংশ নিয়েই নিজেদের পথচলা স্মরণীয় করে রাখে বাংলার মেয়েরা। 


বিজ্ঞাপন


প্রথমবারের মতো নারী বিশ্বকাপে খেলতে নেমে ফারজানা হক, শারমিন আকতার, নিগার সুলতানা নিশাতদের প্রাপ্তি কি? চলুন একনজরে দেখে নেওয়া যাক। তবে তার আগে জেনে নেই কিভাবে বিশ্বকাপে সুযোগ পেল বাংলার নারীরা।

২০০৭ সালের জুলাইয়ে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়। এরপর দলটি ২০০৭ সালে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ও শিরোপা অর্জন করে। ২০১১ সালে বাংলাদেশ প্রমিলা ক্রিকেট দল একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ (ওডিআই) খেলার মর্যাদা লাভ করে।

এরপর ২০১৩ ও ২০১৭ সালে বিশ্বকাপ আয়োজিত হলেও টাইগ্রেসরা সেখানে সুযোগ পেতে ব্যর্থ হয়। ২০২১ সালে বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির কারণে সেবারের বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব স্থগিত করা হয়। আর তাতেই ভাগ্য খুলে যায় বাংলাদেশের। আইসিসি জানায়, সর্বশেষ ওয়ানডে র‌্যাংকিং অনুযায়ী ২০২২ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সুযোগ পাবে তিনটি দেশ। যার মধ্যে ৯৫ রেটিং নিয়ে শীর্ষস্থানে ছিল বাংলাদেশ। ফলে সরাসরি চলে যায় বিশ্বকাপের মূল পর্বে।

প্রথম ম্যাচ (৫ মার্চ, ২০২২)


বিজ্ঞাপন


সেদিন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম খেলতে নামে বাংলাদেশ। টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় তারা। ৪৯.৫ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে টাইগ্রেসদের ২০৮ রানের টার্গেট দেয় তারা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৪৯.৩ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তুলে মাত্র ১৭৫ রান। ফলে ৩২ রানের জয় পায় দক্ষিণ আফ্রিকা প্রমিলা ক্রিকেট দল।

(৭ মার্চ, ২০২২)

স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামে বাংলাদেশ। টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ব্ল্যাক ক্যাপসরা। বৃষ্টির কারণে ওইদিন কপাল পুড়ে বাংলাদেশের। ডিএল মেথডে ইনিংসপ্রতি মাত্র ২৭ ওভারে খেলা হয়। টাইগ্রেসরা ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪০ রান সংগ্রহ করে। বাংলাদেশের পক্ষে ফারজানা হক সর্বোচ্চ ৫২ রানের ইনিংস খেলেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারেই মাত্র ১টি উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় স্বাগতিক দেশটি।

(১৪ মার্চ, ২০২২)

টাইগ্রেসদের তৃতীয় ম্যাচে নতুন ইতিহাসের জন্ম দেয় বাংলাদেশ। এদিনের ম্যাচে টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটের বিনিমেয় ২৩৪ রান তোলে বাংলাদেশ। মেয়েদের ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দলগত ইনিংস। ফারজানা হক ৭১, শার্মিন আখতার ৪৪ ও নিগার সুলতানা ৪৬ রান করেন। ৪১ রানে ৩টি উইকেট নেন পাকিস্তানের নাশরা সান্ধু। জবাবে ব্যাট করতে নেমে এক সময়ে পাকিস্তানের রান ছিল ২ উইকেটে ১৮৩। পাকিস্তানের ওপেনার সিদরা আমিন যতক্ষণ পিচে ছিলেন মনে হয়েছে ম্য়াচ জেতা পাকিস্তানের সময়ের অপেক্ষা। সিদরা আমিন শতরানও করেন। কিন্তু ১৮৩ রানের পর কার্যত ধস নামে পাকিস্তান ব্যটিং লাইনআপে। ১০৪ রান করে রান আউট হন সিদরা আমিন। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২২৫ রান করে পাকিস্তান। ফলে ৯ রানে বাংলাদেশ প্রমিলা ক্রিকেট দল তুলে নেয় বিশ্বকাপে তাদের প্রথম জয়। বল হাতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন ফাহিমা খাতুন।

(১৮ মার্চ, ২০২২)

এদিন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলতে নামে বাংলাদেশ। টসে জিতে আবারো ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় তারা। নির্ধারিত ৫০ ওভার খেলে ৯ উইকেট হারিয়ে টাইগ্রেসদের মাত্র ১৪০ রানের টার্গেট দেয় শেইমেন ক্যাম্পবেলরা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৪৯.৩ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তুলে মাত্র ১৩৬ রান। ফলে মাত্র ৪ রানের জয় পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রমিলা ক্রিকেট দল।

(২২ মার্চ, ২০২২)

হ্যামিল্টনে সেদিন প্রতিবেশী দেশ ভারতের বিপক্ষে খেলতে নামে বাংলাদেশ। টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। নির্ধারিত ৫০ ওভার খেলে ৭ উইকেট হারিয়ে টাইগ্রেসদের ২২৯ রানের বিশাল টার্গেট দেয় ইয়াস্তিকা ভাটিয়ারা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৪০.৩ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। আর সংগ্রহ করে মাত্র ১১৯ রান। ফলে ১১০ রানের বিশাল জয় পায় ইন্ডিয়ান প্রমিলা ক্রিকেট দল।

(২৫ মার্চ,২০২২)

ওয়েলিংটনে ২২ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন দেশ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলতে নামে বাংলাদেশ। বৃষ্টির কারণে ওইদিনও ডিএল মেথডে ইনিংসপ্রতি ৪৩ ওভারে খেলা হয়। টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। নির্ধারিত ৪৩ ওভার খেলে ৬টি উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের নারীরা সংগ্রহ করেন মাত্র ১৩৫ রান। জবাবে ৩২.১ ওভারে মাত্র ৫টি উইকেট হারিয়ে ১৩৬ রান করে সহজেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বেথ মুনিরা। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন লতা মণ্ডল। বল হাতে ৯ ওভারে ২৩ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন বাংলাদেশের সালমা খাতুন।

(২৭ মার্চ, ২০২২)

এইদিন ছিল টাইগ্রেসদের আসরের শেষ ম্যাচ। বাংলাদেশ সাবেক চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েলিংটনের মাঠে নামে। ইংলিশরা টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে যায়। নির্ধারিত ৫০ ওভারে তারা মাত্র ৬ উইকেট হারিয়ে ২৩৪ রানের বিশাল টার্গেট দেয় বাংলাদেশকে। জবাবে বাংলাদেশ ৪৮টি ওভার খেলে সব উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৩৪ রানেই নিজেদের গুটিয়ে নেয়। লতা মণ্ডল বাংলাদেশের পক্ষে ৩০ রানের সর্বোচ্চ ইনিংস খেলেন। সালমা খাতুন ১০ ওভার বল করে ৪৬ রানের বিনিময়ে নেন ২টি উইকেট। ম্যাচসেরার পুরস্কার পান ইংল্যান্ডের সোফিয়া ডাংকলি। তিনি ৭২ বলে ৬৭ রানের করেন।

৭টি খেলায় মাত্র একটি জয় নিয়ে শেষ হয় বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের প্রথম ক্রিকেট বিশ্বকাপ যাত্রা। তবে সেবার বাঘিনীরা দেশের ক্রিকেটের জন্য অনন্য এক মাইলফলক ছুঁয়েছিলেন। নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে এসে পাকিস্তানের মতো বড় দলের বিপক্ষে জয় টাইগ্রেসদের নান্দনিক এক উত্থানের সূচনা করে। 

এসসিএন/এমএএম 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর