রোববার, ৩ মে, ২০২৬, ঢাকা

এবছর উল্লেখযোগ্য অর্জন হলো ‘মানুষ’

নিশীতা মিতু
প্রকাশিত: ৩১ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:৩১ পিএম

শেয়ার করুন:

এবছর উল্লেখযোগ্য অর্জন হলো ‘মানুষ’

দেখতে দেখতে শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে ২০২২। আগামী সূর্যোদয় জানান দেবে নতুন এক বছরের। ২০২৩ সালকে বরণ করে নিতে সবাই প্রস্তুতি সেরে ফেলেছেন ইতোমধ্যেই। চলতি বছর নানা অভিজ্ঞতা যোগ হয়েছে জীবন খাতায়। ফেসবুকভিত্তিক নারী উদ্যোক্তাদের প্ল্যাটফর্ম হার ই-ট্রেডের প্রেসিডেন্ট ওয়ারেছা খানম প্রীতির সঙ্গে আড্ডা হয় ঢাকা মেইলের। গল্পে কথায় তিনি জানান কেমন কেটেছে ২০২২। 

প্রীতি বলেন, বছরটা কেটেছে ভালো ও মন্দের মিশ্রিত একটা অনুভবে, আবার কখনোবা তুমুল উচ্ছ্বাসে। তবে আমার ক্ষেত্রে এসব অনুভূতির কোনটার প্রকাশেই তেমন তীব্রতা বা ব্যাপকতা থাকে না। নিজেকে পরিশীলিত রাখতে পারার এই সক্ষমতা আমার জীবনের গতিকে সমান্তরাল ও ভীষণভাবে সহজ করেছে। 


বিজ্ঞাপন


prity

মনে দাগ কাটার মতো কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না জানতে চাই তার কাছে। প্রীতি জানান, এমন অনেক ঘটনাই ঘটেছে তবে গত সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রামের জিইসি কনভেনশন সেন্টারের ২৫ হাজার স্কয়ার ফিট আয়তনের বিশাল পরিসরে হার ই-ট্রেড আয়োজিত এক্সিবিশন ছিল সেরা অভিজ্ঞতা। 

তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশ থেকে উদ্যোক্তারা গিয়ে সেখানে অংশ নিয়েছেন। এক্ষেত্রে চট্টগ্রামবাসীর অভূতপূর্ব অংশগ্রহণ, সাড়া এবং তাদের প্রাণময়তা মুহুর্মুহু আমাদেরকে অভিনন্দিত করেছে। তবে যে পরিমাণ স্ট্রেস নিয়ে এই আয়োজনটা আমাকে সম্পন্ন করতে হয়েছে তাতে আমার ম্যাচিউরিটি লেভেল এক ধাক্কায় পনেরো বছর বেড়ে গিয়েছে। 

prity


বিজ্ঞাপন


চলতি বছরের অর্জন সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রীতি বলেন, ‘অর্জনের ক্ষেত্রে মেটেরিয়ালিস্টিক কোনো কিছু না। আমার কাছে সবসময়ই প্রাধান্য পায় মানুষ। তাই এবছর আমার উল্লেখযোগ্য অর্জন হলো মানুষ। প্রচুর সংখ্যক শুভাকাঙ্ক্ষী পেয়েছি। মূলত যাদের প্রত্যেকেরই আমার কার্যক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ আবার কখনোবা প্রচ্ছন্ন অবদান আছে। আমি মানুষের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম অবদানকে মনে রাখি। সেইসঙ্গে প্রতিমুহূর্তে সমীহ করি আমার সেই অর্জনকে। 

অর্জন যেমন থাকে, আফসোসও থাকে। বছর শেষে এসে আমাদের মনে হয়, এই কাজটা বোধহয় করা উচিত ছিল। প্রীতির ক্ষেত্রে উপলব্ধিটি কেমন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগামী বছরের প্রথমার্ধে আমার একটা স্টার্টআপ লঞ্চ হবে। এটা কয়েকবছরের পরিকল্পনা, করোনার কারণে থেমে যাওয়া, আবার সেই পরিকল্পনাকে একটু একটু করে এগিয়ে নিচ্ছি। এই সময়ের মাঝে অনেকবার চিন্তা করেছি বিষয়টার ওপরে একটা উচ্চতর ডিগ্রি নিতে। কারণ একাডেমিক ধারণা কাজের ক্ষেত্রে নানাভাবে সমাধানসূত্র খুঁজে দেয়। বছরশেষে সেটা করতে না পারার অপারগতাটা ভীষণ তীব্র হয়েছে। এছাড়া দক্ষতা উন্নয়নের বিশেষ করে কমিউনিকেশন স্কিলসের ওপরে কিছু কোর্স করি করি করেও করা হয়ে ওঠেনি। আগামী বছর সেসব ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করব। 

prity

এই নারী উদ্যোক্তা মনে করেন জীবনযাত্রার মান কিছুটা হলেও উন্নত হয়েছে। তবে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে সেই মানকে টিকিয়ে রাখা ভীষণরকম কঠিন হয়েছে। প্রীতি বলেন, আমাদের জীবনযাপনকে সমন্বয় করে অনেকগুলো খাত। প্রত্যেকটা খাত একে ওপরের সাথে সম্পৃক্ত। সেই সম্পৃক্ততার হিসাব না করে মাঝখান থেকে কোনো একটা খাতকে নিয়ে যদি টানাহেঁচড়া করা হয় সেক্ষেত্রে যাপনের সবগুলো খাতেই টান পরে। 

আমরা প্রতিনিয়ত কোনো না কোনো খাত দ্বারা টানাহেঁচড়ার শিকার হয়ে থাকি। যাপনের একদিক জোড়া দিতে আমাদের আরেকদিক খুলে যায়। আমরা তখন দিশেহারা হয়ে পড়ি কারণ আমরা জানি খুলে যাওয়া খাতকে জোড়াতালি দেয়ার জন্য সরকার কোন নীতি নির্ধারণই করেনি! প্রশাসনিকভাবে সব সেক্টরের মধ্যে সমন্বয় না থাকার ফল আমরা জনগণ ভোগ করে থাকি। তবে আমি আশাবাদী মানুষ। আমি জানি বর্তমানের চেয়ে আগামী সুখকর হবে এবং হয়ও তাই। সুতরাং জীবনযাত্রার মান কঠিন হলেও সেটা উৎরে যাওয়ার দীক্ষাও আমাদের জানা আছে– যোগ করেন তিনি। 

prity

চলতি বছর জীবন থেকে হারানোর গল্প শুনতে চাই। প্রীতি বলেন, প্রতিনিয়তই হারাই। হারানোর প্রেক্ষিত শুধু মৃত্যুজনিত হয় তা কিন্তু নয়। উপরন্তু আমার মতে মৃত্যুতে মানুষ হারিয়ে যায় না বরং অস্তিত্বের সঙ্গে আরও বেশি পরিমাণে মিশে থাকে। জীবন থেকে হারিয়ে যায় জীবিত মানুষ। নানাবিধ কারণে হারায়। এভাবে হারিয়ে গেছে কত কত আত্মীয়, বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী আর প্রিয়জন। জীবন থেকে প্রতিটা হারানোর অনুভূতি একেকটা করে মৃত্যুর সমান। সেই হিসেবে অনেকবারই মৃত্যু যন্ত্রণা অনুভব করেছি এবং জানি ভবিষ্যতেও করতে হবে কারণ; এটাই সায়েন্স।

চলতি বছরের অভিজ্ঞতা থেকে সবার জন্য কোনো উপদেশ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপদেশ না বরং এটাকে অভিজ্ঞতা বিনিময় বলা যেতে পারে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই কিছু প্রত্যাশা থাকে যেটা পেলে বা অর্জন করতে পারলে ভেবে নেই জীবন সার্থক হয়ে যাবে। সুতরাং প্রত্যাশালব্ধ বিষয় নিয়ে স্বপ্ন দেখি; বসে দেখি, শুয়ে দেখি, ঘুমিয়ে দেখি, জেগে দেখি। স্বপ্ন দেখতে দেখতে একসময় আসল কাজের কথাই আমরা ভুলে যাই। মূলত স্বপ্নের পেছনে ছুটতে না জানলে স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই থেকে যায়। এই ইন্টারনেটের যুগে মেধাসত্ত্ব কপি হওয়ার মতো যেকারো স্বপ্নও আলোর গতিতে কপি হয়। সুতরাং নিজের স্বপ্ন অন্যেরা পূরণ করে ফেলার আগেই সময়ের কাজটুকু সময়েই করার ব্যাপারে সবারই সচেষ্ট হওয়া উচিত। 

prity

পাশাপাশি আরেকটা জরুরী জিনিস জানিয়ে রাখি। আমরা প্রায়শই ভুলে যাই যে জীবনের কোনকিছুই ধ্রুব না, সবই পরিবর্তনশীল। আমাদের স্বভাব হলো আরাধ্য কোন বিষয় নিয়ে আমরা অতিমাত্রায় সিরিয়াস হয়ে যাই। আমাদের মেনে নিতে কষ্ট হয় পৃথিবীর বা প্রকৃতির কিংবা যেখানে অন্যের মতামত দেয়ার সুযোগ আছে সেসবের অনেককিছুই আমাদের নিজস্ব খেয়ালে চলবে না। যা আসলে আমার হাতে নেই সেখান থেকে খুব বেশি আশা না করে কিছুটা নিরাসক্ত হওয়ার মানসিকতাও আমাদের রাখতে হবে, সুতরাং আরাধ্যকে অর্জন করতে না পারলে সেটা নিয়ে যথেষ্ট সময় ব্যয় না করে দ্রুত বিকল্প চিন্তা করবেন। এক বিকল্প কাজ না করলে আরেক বিকল্প যেন মনের ভেতরে প্রস্তুত থাকে— বলেন প্রীতি। 

আরও পড়ুন- 
>> এই বছরটা আমাকে দু’হাত ভরে দিয়েছে
>> ভালো-মন্দের অনুভূতিতে কেটেছে বছর

নতুন বছরে নিজেকে বাড়তি আদর আপ্যায়ন করে আনন্দে রাখার ইচ্ছা পোষণ করেন এই নারী উদ্যোক্তা। প্রীতি বলেন, কাজ তো থাকবেই কাজের জায়গায়। সেটা নিয়ে বলার কিছু নেই তবে আলসেমি করে কাজের ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ বাদ দেবো। এই পরিবর্তনটুকু আনতে চাই, ব্যস! দেশ ও সমাজের পরিবর্তন নিয়ে কোন মন্তব্য করবো না। তবে কিছু চাওয়া তো থাকেই। যেমন- প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থান হোক, রাষ্ট্রের কাছে প্রত্যেকটা জীবন নিরাপদ হোক, সমাজে বেশি বেশি মানবিক মানুষ হোক, আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে এই বাক্যের মতো দেশের প্রতিটা নাগরিক যেন থাকে দুধেভাতে।

এনএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর