মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০২৪, ঢাকা

যাদের হারিয়েছে বিশ্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:৫১ পিএম

শেয়ার করুন:

যাদের হারিয়েছে বিশ্ব

প্রতিটি বছরই আমাদের জীবনে নতুন সম্ভাবনা ও বৈচিত্র্য নিয়ে আসে। একইসঙ্গে বছর শেষে দেখা যায়, অনেক প্রিয় মানুষই আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। এটি প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম- কিছু পাই, কিছু হারাই। বিশ্ব অঙ্গনেও একই চিত্র। অনেক ক্ষমতাধর নেতার উত্থান হয়েছে ২০২২ সালে। একইসঙ্গে অনেক বরেণ্য নেতাকেও আমরা হারিয়েছি। সময়ের অতল গহ্বরে হারিয়ে যাওয়া এসব বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তির মধ্যে আছেন- সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট ও আবুধাবির শাসক শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে, চীনের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াং জেমিন, ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের শেষ নেতা মিখাইল গর্বাচেভ প্রমুখ।

শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান
২০২২ সালের ১৩ মে তারিখে মারা গেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট ও আবুধাবির শাসক শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। মুত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তার মৃত্যুতে সমবেদনা জানিয়েছিল বিভিন্ন আরব দেশ, ইসলামিক বিশ্ব এবং পুরো পৃথিবী।


বিজ্ঞাপন


শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ২০০৪ সালের ৩ নভেম্বর থেকে আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট ও আবুধাবির শাসকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ২০০৪ সালে শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের বাবা শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান মারা গেলে তিনি প্রেসিডেন্ট হন।
শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ১৯৪৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আরব আমিরাতের দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট ও আবুধাবির ১৬তম শাসক ছিলেন। তিনি ছিলেন শেখ জায়েদের সর্বকনিষ্ঠ ছেলে।

প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান আবুধাবির অবকাঠামো উন্নয়নে মনোযোগ দেন। আরব আমিরাতের বর্তমান অবস্থানের জন্য তার অবদান অনস্বীকার্য। তিনি দেশটির তেল ও গ্যাস সম্পদের ওপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন।

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে
শিনজো আবে ছিলেন জাপানের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী প্রধানমন্ত্রী। একজন রক্ষণশীল জাতীয়তাবাদী হিসাবে পরিচিত ৬৭ বছরের এ নেতার নেতৃত্বে লিবারের ডেমোক্রাটিক পার্টি (এলডিপি) দু-দুবার নির্বাচনে জেতে।

প্রথম দফায় তিনি খুব অল্প সময় ক্ষমতায় ছিলেন- ২০০৬ সালের শুরু থেকে এক বছরের কিছুটা বেশি। তার ওই শাসনকাল নিয়ে বিতর্ক ছিল। কিন্তু ২০১২ সালে তার ক্ষমতায় ফেরা ছিল সত্যিই বিস্ময়কর। তারপর ২০২০ সালে স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করা পর্যন্ত টানা আট বছর তিনি জাপানের ক্ষমতায় ছিলেন।


বিজ্ঞাপন


দ্বিতীয় দফায় আবে যখন প্রধানমন্ত্রী হন, জাপান তখন অর্থনৈতিক মন্দার কবলে পড়ে। মুদ্রা সরবরাহ সহজ করে এবং ব্যবসায় নানান ধরনের অর্থিক প্রণোদনা দিয়ে তিনি জাপানের স্থবির সেই অর্থনীতিকে প্রবৃদ্ধির পথে নিয়ে আসেন।

২০১১ সালের সুনামি ও ভূমিকম্পের ধ্বংসযজ্ঞে জাপানে প্রায় ২০ হাজার মানুষ মারা যায়। সে সময় ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্রে দুর্ঘটনায় দেশটি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এসব ধাক্কা গিয়ে পড়ে অর্থনীতিতে। এর কিছুদিন পর ক্ষমতায় এসে সেই সংকট সামলেছিলেন শিনজো আবে।

আবে নতুন করে পাকস্থলীর জটিল আলসারে আক্রান্ত হয়েছেন- এমন সন্দেহ-কানাঘুষার মধ্যেই ২০২০ সালে পদত্যাগ করেন তিনি। একই রোগের কারণে ২০০৭ সালেও তিনি পদত্যাগ করেছিলেন।

২০২২ সালের ৮ জুলাই জাপানের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের নির্বাচনে এক প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণার জন্য দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নারায় যান তিনি। সেখানে বক্তৃতা দেওয়ার সময় ৪১ বছর বয়সী এক বন্দুকধারী শিনজো আবেকে গুলি করে। জানা গেছে, হত্যাকারী একজন সাবেক নৌ সেনা। হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও আবে সচেতন ছিলেন, কিন্তু পরে তিনি মারা যান।

চীনের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াং জেমিন
চীনের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াং জেমিন ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর ৯৬ বছর বয়সে মারা যান। দেশটির ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি, সংসদ, মন্ত্রিপরিষদ এবং সামরিক বাহিনী সাবেক এই নেতার মৃত্যুর ঘোষণা দিয়ে চীনা জনগণের কাছে একটি চিঠি প্রকাশ করেছিল।

চীনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ওয়েইবো প্লাটফর্মের অসংখ্য ব্যবহারকারী জিয়াংয়ের মৃত্যুকে একটি যুগের সমাপ্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যিনি অবসর গ্রহণের পরও প্রভাবশালী ছিলেন।

চীনা সরকারের রাষ্ট্রীয় বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, আমাদের প্রিয় কমরেড জিয়াং জেমিন উচ্চ মর্যাদার একজন অসামান্য নেতা, মহান মার্কসবাদী, রাষ্ট্রনায়ক, সামরিক কৌশলবিদ, কূটনীতিক ও দীর্ঘ-পরীক্ষিত কমিউনিস্ট যোদ্ধা।

জিয়াং জেমিন ১৯৯৩ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত চীনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৮৯ সাল থেকে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান হিসেবে চীনের শীর্ষ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন এবং ২০০২ সালে হু-এর কাছে এই পদ হস্তান্তর করেন।

ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ 
ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ২০২২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর তারিখে মারা যান। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর। দ্বিতীয় এলিজাবেথ (এলিজাবেথ আলেকজান্দ্রা মেরি) ছিলেন যুক্তরাজ্যসহ ১৫টি কমনওয়েলথ রাজ্যের রানি। তিনি লন্ডনের মেফেয়ারে ইয়র্কের ডিউক এবং ডাচেসের (পরে রাজা জর্জ এবং রানি এলিজাবেথ) প্রথম সন্তান হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

তার বাবা ১৯৩৬ সালে নিজের ভাই রাজা অষ্টম এডওয়ার্ডের পরে সিংহাসনে আরোহণ করেছিলেন। আর সেই সময় থেকেই এলিজাবেথ সিংহাসনের উত্তরাধিকারী ছিলেন। তিনি বাড়িতে ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষিত হয়েছিলেন এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ স্থলবাহিনীর নারী বিভাগ অক্সিলিয়ারি টেরিটোরিয়াল সার্ভিসে কর্মরত দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৭ সালে তিনি গ্রিক ও ডেনমার্কের প্রাক্তন রাজপুত্র ডিউক অফ এডিনবরা ফিলিপকে বিয়ে করেন। এলিজাবেথ-ফিলিপ দম্পতির চার সন্তান হচ্ছেন- ওয়েলসের যুবরাজ চার্লস, রাজকুমারী অ্যান, ইয়র্কের ডিউক যুবরাজ অ্যান্ড্রু এবং ওয়েসেক্সের আর্ল যুবরাজ এডওয়ার্ড।

১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারিতে তার বাবা রাজা জর্জ মারা গেলে এলিজাবেথ কমনওয়েলথের প্রধান হন।

মিখাইল গর্বাচেভ
সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের শেষ প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভ ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখে মারা যান। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। মস্কোর নোভোদেভিচি সমাধিক্ষেত্রে তার স্ত্রী রাইসার পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

মিখাইল গর্বাচেভ ১৯৮৫ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের সর্বশেষ নেতা এবং প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি পূর্ববর্তী কনস্তান্তিন চেরনেনকোর মৃত্যুর পর ১৯৮৫ সালে ৫৪ বছর বয়সে ক্ষমতায় আসেন। এ সময় তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও প্রধান নেতা নিযুক্ত হন।

১৯৯০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নে সমাজতন্ত্রের পতন হলে গর্বাচেভ রাশিয়ার প্রথম ও একমাত্র প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন। ১৯৯১ সালের ২৫ ডিসেম্বর সোভিয়েত ইউনিয়নের আনুষ্ঠানিক বিলুপ্তির দিন তিনি পদত্যাগ করেন। এর মাধ্যমেই চার দশক ধরে চলা স্নায়ুযুদ্ধের সমাপ্তি হয়।

বহু রাশিয়ান তাকে ও তার সংস্কারবাদী নীতিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন পতনের জন্য দায়ী করেন। তবে পূর্ব ইউরোপের জাতীয়তাবাদী মানুষের কাছে তাই গর্বাচেভ একজন ত্রাণকর্তা। দুই জার্মানির পুনঃএকত্রীকরণের ক্ষেত্রেও তার সক্রিয় ভূমিকা জার্মানিতে ব্যাপক প্রশংসিত।

প্রেসিডেন্ট থাকাকালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির মাধ্যমে সামরিক উত্তেজনা কমিয়ে এনেছিলেন গর্বাচেভ। সেই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯০ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।

এমইউ/একে

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর