- মিত্রদের চরম নির্বাচনি বিপর্যয়
- পার্থ-নুর-ববি-সেলিমদের বাজিমাত
- খেজুর গাছের ব্যাপক ভরাডুবি
- জামায়াত ও স্বতন্ত্রের জয়জয়কার
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বড় ছাড় পেয়েও সুবিধা করতে পারেননি জোটের শরিক ও মিত্র দলগুলোর শীর্ষ নেতারা। কেউ নিজের প্রতীক বিলুপ্ত করে ধানের শীষ নিয়েছেন, কেউ পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন, আবার কেউ লড়েছেন নিজস্ব প্রতীকে। কিন্তু বৃহস্পতিবারের নির্বাচনি লড়াই শেষে দেখা গেছে, হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া মিত্রদের বড় অংশই পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
বিলুপ্ত দল ও দলছুট নেতাদের ভাগ্য: বিজয়ী শুধু সেলিম
আন্দোলনের শরিক দলগুলো থেকে বিএনপিতে নাম লিখিয়ে বা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়া হেভিওয়েট প্রার্থীদের ফলাফল নিচে দেওয়া হলো:
লক্ষ্মীপুর-১: এলডিপি বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেওয়া শাহাদাত হোসেন সেলিম ৮৬ হাজার ৮১১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির মাহবুব আলম পেয়েছেন ৫৯ হাজার ২৬৫ ভোট। মাহবুব সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ভাই।
কিশোরগঞ্জ-৫: বাংলাদেশ জাতীয় দল বিলুপ্ত করে ধানের শীষ নেওয়া সৈয়দ এহসানুল হুদা পেয়েছেন ৬৬ হাজার ১১৮ ভোট। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল ৭৯ হাজার ২১০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এই আসনে জামায়াতের রমজান আলী পেয়েছেন ৪৪ হাজার ১৩৬ ভোট।
বিজ্ঞাপন
কুমিল্লা-৭: এলডিপি ছেড়ে বিএনপিতে আসা ড. রেদোয়ান আহমেদ ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৯২৫ ভোট। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম শাওন ৯০ হাজার ৮১৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
নড়াইল-২: এনপিপি ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়া ফরিদুজ্জামান ফরহাদ মোটেও ভালো করতে পারেননি। এই আসনে জামায়াতের আতাউর রহমান বাচ্চু ১ লাখ ১৮ হাজার ১৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। ফরহাদ হয়েছেন তৃতীয়।
'খেজুর গাছে'র বিপর্যয়
বিএনপির অন্যতম মিত্র জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থীদের জন্য এই নির্বাচন ছিল রীতিমতো বিপর্যয়কর। 'খেজুর গাছ' প্রতীক নিয়ে লড়া দলটির চারজন হেভিওয়েট প্রার্থী ধরাশায়ী হয়েছেন। এর মধ্যে তিনজনই পরাজিত হয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহীর কারণে।
সিলেট-৫: জমিয়ত সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুক পেয়েছেন ২০ হাজার ৬৬০ ভোট। বিপরীতে খেলাফত মজলিসের মুফতি আবুল হাসান দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকে ৪৪ হাজার ১৮১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এখানে জমিয়ত সভাপতি পরাজিত হওয়ার প্রধান কারণ বিএনপির বিদ্রোহী মামুনুর রশীদ ওরফে চাকসু মামুন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২: জমিয়তের মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৯২৭ ভোট। এখানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রুমিন ফারহানা ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৯৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
নীলফামারী-১: জমিয়ত মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ১৬০ ভোট। এখানে জামায়াতের মাওলানা আবদুস সাত্তার ১ লাখ ৪৯ হাজার ২১৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ-৪: জমিয়তের মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী পেয়েছেন ৮০ হাজার ১৩৮ ভোট। এখানে জামায়াত জোটের শরিক এনসিপির আবদুল্লাহ আল আমিন ১ লাখ ৪ হাজার ৪৮২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। এখানেও জমিয়ত প্রার্থীর পরাজয়ের পেছনে বিএনপির একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকাকে দায়ী করা হচ্ছে।
নিজস্ব প্রতীকে লড়াই: উজ্জ্বল পার্থ, সাকি ও নূর
জোটের সমর্থনে নিজস্ব দলীয় প্রতীকে লড়ে কপাল খুলেছে কয়েকজনের। তারা হলেন-
ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ (ভোলা-১): 'গরুর গাড়ি' প্রতীকে ১ লাখ ৪ হাজার ৪৬২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের নজরুল ইসলাম পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৭৭৩ ভোট।

জোনায়েদ সাকি (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬): গণসংহতি আন্দোলনের এই নেতা 'মাথাল' প্রতীকে ৯৫ হাজার ৩৪২ ভোট পেয়ে বড় জয় পেয়েছেন। জামায়াতের প্রার্থী মহসীন পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৯৬৭ ভোট।
নুরুল হক নুর (পটুয়াখালী-৩): গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি 'ট্রাক' প্রতীকে ৯৬ হাজার ৭৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন পেয়েছেন ৮০ হাজার ৫৭৬ ভোট।
সাফল্য পাননি সাইফুল হক (ঢাকা-১২): বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক 'কোদাল' প্রতীকে পেয়েছেন ৩০ হাজার ৯৬৩ ভোট। এখানে জামায়াতের সাইফুল আলম ৫৩ হাজার ৭৭৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।
ধানের শীষ হাতেও ববি হাজ্জাজ ছাড়া সবাই ব্যর্থ
বিএনপির মূল প্রতীক 'ধানের শীষ' নিয়েও মিত্ররা জয়ের মুখ দেখতে হিমশিম খেয়েছেন। শুধু ববি হাজ্জাজ বিএনপিতে যোগ দিয়ে তিনি ভোটের মাঠে বিজয়ী হয়েছেন।
ববি হাজ্জাজ (ঢাকা-১৩): ধানের শীষ নিয়ে ৮৮ হাজার ৩৮৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাওলানা মামুনুল হক পেয়েছেন ৮৬ হাজার ০৬৭ ভোট।
রাশেদ খান (ঝিনাইদহ-৪): ধানের শীষ নিয়ে মাত্র ৫৫ হাজার ৬৭০ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। এখানে জামায়াতের আবু তালিব ১ হাজার ৪ হাজার ৩১ ভোট পেয়ে জয়ী হন।
মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাস (যশোর-৫): ধানের শীষ নিয়ে লড়লেও এখানে জামায়াতের প্রার্থী গাজী এনামুল হক দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৭৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এই আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী শহীদ মো. ইকবাল হোসেন কলস প্রতীকে পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৫ ভোট। মুফতী রশীদ বিন ওয়াক্কাস হয়েছেন তৃতীয়।
বিইউ/জেবি




















































































































































