শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ঢাকা

সব শ্রেণির মানুষের জন্য এই বাজেট: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম

শেয়ার করুন:

bUDGET
সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের একদিন পর বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সঙ্গে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা। সেখানে সূচনা বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, এবারের বাজেট সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য। বিগত স্বৈরাচারী সময়ে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি।

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল ৩টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়।


বিজ্ঞাপন


সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত রয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, শিক্ষামন্ত্রী আ.ন.ম. এহসানুল হক মিলন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী. মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করছেন অর্থ সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারের মাত্র তিন মাসের মধ্যে এই বাজেট দেওয়া ছিল চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার। বাজেট তৈরিতে যারা যেভাবে সহযোগিতা করেছেন তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান। 

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার প্রতিটি মানুষকে উন্নয়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। সে কারণেই সবার জন্য বাংলাদেশ স্লোগানকে সামনে রেখে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। অর্থনৈতিক গণতন্ত্রের ধারণাকে গুরুত্ব দিয়ে এমন একটি বাজেট তৈরি করা হয়েছে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে থাকা মানুষদেরও অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, অতীতে দেশের অর্থনীতি মূলত পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক ছিল। কিছু ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা সংগঠিত স্বার্থান্বেষী মহল অর্থনৈতিক সুবিধা ভোগ করলেও অনেক মানুষ উন্নয়নের মূলধারার বাইরে রয়ে গিয়েছিল। এবারের বাজেটে সেই বৈষম্য কমিয়ে সকল শ্রেণির মানুষের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


Budget2

অর্থমন্ত্রী বলেন, সীমিত সম্পদ ও বিভিন্ন ধরনের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বাজেটে সমাজের প্রায় সব শ্রেণির মানুষের জন্য কমবেশি বরাদ্দ, কর্মসূচি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। শুধু নীতিগত ঘোষণা নয়, সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় রোডম্যাপও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এ কারণেই এবারের বাজেটের প্রেক্ষাপট, দর্শন ও পরিকল্পনা অন্য সময়ের তুলনায় ভিন্ন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক, সরকারের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার এবং সামনের দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশল তুলে ধরছেন। পাশাপাশি বাজেট নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবও দিচ্ছেন। 

গতকাল সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী। দেশের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় বাজেট। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং অর্থনীতিকে আরও উৎপাদনমুখী ও বিকেন্দ্রীভূত করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত বাজেটের আকার দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ।

জেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর