বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ঢাকা

কৃষিতে বিশেষ গুরুত্ব, বরাদ্দ বাড়ল ৬২০৯ কোটি টাকা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ জুন ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম

শেয়ার করুন:

কৃষিতে বিশেষ গুরুত্ব, বরাদ্দ বাড়ল ৬২০৯ কোটি টাকা

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এজন্য নতুন বাজেটে কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট ৪৩ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা জিডিপির ০.৬৩ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় এবার এই খাতে ৬২০৯ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৭ হাজার ১২৬ কোটি টাকা (জিডিপির ০.৬১ শতাংশ)।


বিজ্ঞাপন


‎বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকালে জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রস্তাব করছেন।

‎বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার হলো কৃষিকে জাতীয় সমৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত করা। কৃষি খাতে মৌলিক রূপান্তর আনতে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় ১০টি সেবা পৌঁছে দিতে সরকার চলতি বছরের পহেলা বৈশাখ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি চালু করেছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১০০ উপজেলায় ৪২.৫ লক্ষ কৃষককে ‘কৃষক কার্ড’ প্রদান করা হবে এবং দেশের সকল কৃষককে পর্যায়ক্রমে ‘কৃষক কার্ড’ প্রদান করার পরিকল্পনা রয়েছে।

‎অর্থমন্ত্রী বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকগণ প্রতি বছর একবার ২,৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা পাবেন। আমি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রাথমিকভাবে কৃষক কার্ড বাবদ ১ হাজার ৬২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি।

‎আমির খসরু বলেন, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে গৃহীত সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ কর্মসূচি ইতোমধ্যেই বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং এ বাবদ চলতি অর্থ বছরে ১ হাজার ৫ শত ৬৭ কোটি ৯৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


‎‎কৃষির সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, কৃষি পুনর্বাসন ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে বীজ, সার ও অন্যান্য উপকরণ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। ভর্তুকি মূল্যে কৃষক পর্যায়ে সার সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়েছে। ভর্তুকির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে ও সাশ্রয়ী উৎপাদন নিশ্চিতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ কর্মসূচি জোরদার করা হচ্ছে।

আমির খসরু আরো বলেন, কৃষিপণ্যের বহুমুখীকরণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পচনশীল পণ্যের জন্য কোল্ড স্টোরেজ ও কোল্ড চেইন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। আম চাষিদের জন্য বরেন্দ্র অঞ্চলে বিশেষ হিমাগার স্থাপন করা হচ্ছে। কৃষি উপকরণ বিতরণ, কৃষি পুনর্বাসন ও প্রণোদনা কার্যক্রম সুচারুরূপে সম্পাদনের লক্ষ্যে কৃষক ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ইতোপূর্বে বিএনপি সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত 'স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসূচি' বাংলাদেশের একটি সফল সামাজিক আন্দোলনের নাম যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুনরায় চালু করেছেন। এ কর্মসূচির আওতায় সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি কৃষি মন্ত্রণালয়ও ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

‎‎খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম জনবহুল দেশ। এ বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন কাজ হলেও আমাদের সরকার এ বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। এ লক্ষ্যে- সরকারি পর্যায়ে খাদ্যশস্য ধারণ ক্ষমতা বর্তমান ২৩.১৬ লক্ষ মে. টন হতে বৃদ্ধি করে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২৪.৫০ লক্ষ মে. টনে উন্নীতকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

‎তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে খাদ্যশস্য সংগ্রহের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ৩৮.১৯ লক্ষ মেট্রিক টন, যা ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪১.২৯ লক্ষ মেট্রিক টনে উন্নীতকরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে ৫৫ লক্ষ উপকারভোগী পরিবারকে কর্মাভাবকালীন ৬ মাসে ১৫ টাকা কেজি দরে প্রতিমাসে ৩০ কেজি চাল প্রদান করা হচ্ছে।

‎তিনি আরও বলেন, সারা দেশে ১ হাজারের বেশি বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে ভর্তুকিমূল্যে চাল ও আটা সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়েছে। চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৪১৯ উপজেলায় অতিরিক্ত ওএমএস কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন ভর্তুকিমূল্যে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। খাদ্যশস্যের বাজারদর পর্যবেক্ষণে অনলাইন মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

‎‎মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে আমরা জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করেছি। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে- ৫৬ লক্ষ ৩৫ হাজার মেট্রিক টন মৎস্য উৎপাদন। সুনীল অর্থনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে ২০৩০ সালের মধ্যে মৎস্য রপ্তানি আয় ১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

‎তিনি বলেন, আমরা প্রকৃত মৎস্যজীবী ও কৃষকদের সুরক্ষায় 'জাল যার জলা তার' নীতির ভিত্তিতে জলমহাল, উপকূলীয় খাল ও হাওরগুলো স্থানীয় মৎস্যজীবী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ১৫ লক্ষ জেলে পরিবারকে ভিজিএফ সুবিধার আওতায় আনার কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। মৎস্য চাষিদের ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশে প্রথমবারের মতো মৎস্য বিমা স্কিম চালু এবং বাণিজ্যিক মৎস্য খামার যান্ত্রিকীকরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।

‎তিনি আরও বলেন, হাঁস-মুরগি ও মৎস্য খামারের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত 'ফিড' উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। গবাদিপশু পালনকারীদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, বিমা এবং বাজারজাতকরণ সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে এ খাতের খামারিদের ইতোমধ্যে 'কৃষক কার্ড'-এর আওতায় আনা হয়েছে।

‎‎এএম/এমআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর