বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ঢাকা

৩ বছরে ৩ সরকারের ৩ বাজেট, অর্থনীতির নতুন পরীক্ষায় বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ জুন ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম

শেয়ার করুন:

৩ বছরে ৩ সরকারের ৩ বাজেট, অর্থনীতির নতুন পরীক্ষায় বিএনপি

মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশের অর্থনীতি দেখছে তিন সরকারের তিন ধরনের বাজেট। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আওয়ামী লীগ সরকারের বাজেট, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অন্তর্বর্তী সরকারের সংকোচনমুখী বাজেট এবং এবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিএনপি সরকারের উচ্চাভিলাষী বাজেট।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও নতুন বাস্তবতার মধ্যে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। দীর্ঘ ১৯ বছর পর বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট হওয়ায় এর দিকে নজর রয়েছে অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের।


বিজ্ঞাপন


বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট এটি এবং বিএনপির জন্য প্রায় দুই দশক পর জাতীয় বাজেট পেশের ঘটনা। এর আগে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ২০০৬-০৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

এবারের বাজেট আসছে এক ভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতায়। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। সেই সরকারের অধীনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। আর জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে এবার প্রথমবারের মতো বাজেট দিচ্ছে বিএনপি সরকার।

প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেটের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বড়। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেট ছিল ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে, যার আকার ছিল মাত্র ৭১৯ কোটি টাকা। সেই হিসেবে ৫৫ বছরে দেশের বাজেটের আকার বেড়েছে প্রায় ১ হাজার ৩০৩ গুণ।

‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ প্রতিপাদ্য নিয়ে প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। ফলে বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।


বিজ্ঞাপন


এই ঘাটতি পূরণে সরকার বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ বাজেট, যার আকার ছিল ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। পরের অর্থবছরে অন্তর্বর্তী সরকার ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট দেয়, যা দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আগের বছরের তুলনায় ছোট আকারের বাজেট হিসেবে রেকর্ড গড়ে।

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে উপস্থাপিত হতে যাওয়া এই বাজেট স্বাধীন বাংলাদেশের ৫৫তম বাজেট। বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটিই আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট। সংসদে পাস হওয়ার পর আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থবছরের বাজেট কার্যকর হবে।


এমআর/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর