২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে সামগ্রিকভাবে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব হিসেবে মূল্যায়ন করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। তবে উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং ঘোষিত সংস্কার কার্যক্রমের কার্যকর বাস্তবায়নের ওপরই বাজেটের প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে বলে মন্তব্য করেছেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাজধানীর ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত তাৎক্ষণিক বাজেট প্রতিক্রিয়া অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ও ৩ লাখ কোটি টাকার এডিপি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়ানো এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। চলতি অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার মাত্র ৩৬ দশমিক ১৯ শতাংশ হওয়ায় বড় বরাদ্দের চেয়ে কার্যকর বাস্তবায়নকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।
ডিসিসিআইর মতে, কর ব্যবস্থাপনায় একাধিক ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উৎসে করকে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করা, শিল্পের কাঁচামালে উৎসে কর হ্রাস, ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কম হারে উৎসে কর, পাঁচ বছরের কর কাঠামো আগাম ঘোষণা এবং স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বৈদ্যুতিক যানবাহন খাতে কর সুবিধা ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একইসঙ্গে ভ্যাটের হার না বাড়িয়ে করের আওতা সম্প্রসারণ এবং ত্রৈমাসিক অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে সংগঠনটি।
তবে মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় করমুক্ত আয়সীমা অপরিবর্তিত রাখা এবং সর্বোচ্চ আয়কর হার ৩৫ শতাংশ নির্ধারণকে হতাশাজনক বলে উল্লেখ করেন তাসকীন আহমেদ। তিনি করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করার দাবি জানান।
ক্ষুদ্র, কুটির, মাঝারি ও মাইক্রো শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কর সুবিধা, নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের জন্য বাড়তি টার্নওভার সীমা এবং ই-লোন চালুর উদ্যোগকে প্রশংসনীয় বলে মনে করছে ডিসিসিআই। তাদের মতে, এসব পদক্ষেপ উদ্যোক্তা বিকাশ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।
বিজ্ঞাপন
শিল্প ও বিনিয়োগ খাতে বৈদ্যুতিক গাড়ি, মোবাইল ফোন, ফ্রিজ, এসি এবং প্রযুক্তিপণ্যে কর হ্রাস দেশীয় শিল্পে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল স্থাপন, স্থানীয় ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাক শিল্পে শুল্ক সুবিধা এবং ই-বাইক শিল্পে রেয়াতি সুবিধা প্রদানের সিদ্ধান্তকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখছে ব্যবসায়ীদের এই শীর্ষ সংগঠন।
জ্বালানি খাতে ইলেকট্রিক ভেহিকেলের জন্য ২০৩০ সাল পর্যন্ত ভ্যাট অব্যাহতি, নিবন্ধনে অগ্রিম আয়কর হ্রাস এবং চার্জিং অবকাঠামো আমদানিতে কর শূন্য করার উদ্যোগকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করলেও গ্যাস অনুসন্ধানে আরও বড় উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করে ডিসিসিআই। একইসঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল জ্বালানি মূল্য কাঠামো প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া সিঙ্গেল উইন্ডো সেবা বাধ্যতামূলক করা, সাত দিনের মধ্যে ওয়ার্ক পারমিট প্রদান, বিদেশি ঋণের সুদে উৎসে কর ২০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং উৎসে কর কর্তনসংক্রান্ত জটিলতা দূর করার উদ্যোগ বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করে ঢাকা চেম্বার।
অনুষ্ঠানে ডিসিসিআইর ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, সহ-সভাপতি মো. সালিম সোলায়মান এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এমআর/জেবি




























































































