সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

সাতক্ষীরার চার প্রতিষ্ঠানে পাস করেনি একজনও

জেলা প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম

শেয়ার করুন:

সাতক্ষীরার চার প্রতিষ্ঠানে পাস করেনি একজনও

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে সাতক্ষীরার চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিম্নমাধ্যমিক, নৈশ ও মাধ্যমিক পর্যায়ের বিদ্যালয় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা না পাওয়া, শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতি ও নানা অব্যবস্থাপনার কারণে শিক্ষার পরিবেশ সংকটে পড়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও জেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া চারটি প্রতিষ্ঠান হলো—আশাশুনি উপজেলার আশাশুনি গোদাড়া নিম্নমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, সাতক্ষীরা সদরের সাতক্ষীরা নৈশ বিদ্যালয় (নাইট স্কুল), দেবহাটা উপজেলার বাবুরাবাদ ঢেবুখালী বিদ্যালয় এবং শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের সাহেবখালী সিদ্দিকগাজী বিদ্যালয়।

আশাশুনি গোদাড়া নিম্নমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জেবুন্নেছা বলেন, এ বছর বিদ্যালয়টি থেকে মানবিক বিভাগে চারজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। প্রকাশিত ফলে তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

দেবহাটার বাবুরাবাদ ঢেবুখালী বিদ্যালয়ের চিত্র আরও নাজুক। বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী নূর হোসেন জানান, ২০০১ সাল থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কোনো বেতন-ভাতা পান না। এ কারণে অনেক শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না।

নূর হোসেন বলেন, কাগজে-কলমে বিদ্যালয়ে আটজন শিক্ষক থাকলেও তাদের উপস্থিতি নিয়মিত নয়। বর্তমানে একজন শিক্ষিকা ও একজন হুজুর শিক্ষক বিদ্যালয়ে থাকলেও তারাও নিয়মিত সময় দেন না। তিনি বলেন, ‘বলতে গেলে আমি অফিস সহকারী হিসেবে একাই স্কুলটি দেখে-শুনে টিকিয়ে রেখেছি।’

আরও পড়ুন

পঞ্চগড়ের বোদায় দুই স্কুলে কেউ পাস করেনি, চার পরীক্ষার্থীই ফেল

তবে গত বছরের ফলাফল তুলনামূলক ভালো ছিল বলে জানান নূর হোসেন। তার তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বিদ্যালয়টির পাঁচজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে চারজন পাস করেছিল। এবার কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।

সাতক্ষীরা নৈশ বিদ্যালয়ের ফলাফল সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মমিনুর রহমান বলেন, ফলাফলের সঠিক তথ্য এই মুহূর্তে তার জানা নেই। বোর্ড ও অনলাইনভিত্তিক নথি দেখে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারবেন।

শ্যামনগরের সাহেবখালী সিদ্দিকগাজী বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার কারণ জানতে প্রধান শিক্ষকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

সাতক্ষীরা জেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের বলেন, যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ফলাফলের বিস্তারিত পাঠানো হচ্ছে। যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, সেগুলোর বিষয়ে অনুসন্ধান করা হবে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

aea65793-f6a5-4079-b47f-bf745f3ca4d1

শিক্ষাবিদদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের ফলাফল খারাপ হওয়ার পেছনে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অনাগ্রহের পাশাপাশি শিক্ষক সংকট, শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি, অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন না পেলে সেখানে মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

সোমবার সকালে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এবার গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সারা দেশের ৩০ হাজার ৪০২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩১২টি প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।

এ বছর সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি পরীক্ষায় ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল পরীক্ষায় ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল।

সাতক্ষীরার চারটি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষক উপস্থিতি, বেতন-ভাতা ও দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক সমস্যাগুলো খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর