চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বিজ্ঞানে পাসের জয়জয়কার থাকলেও মানবিক বিভাগে দেখা দিয়েছে হাহাকার। বিজ্ঞান বিভাগে যেখানে প্রতি ১০০ জন পরীক্ষার্থীর প্রায় ৮১ জন পাস করেছে, সেখানে মানবিক বিভাগে প্রতি ১০০ জনে ৫১ জনের বেশি ফেল করেছে। মানবিক বিভাগের এই খারাপ ফলের প্রভাব পড়েছে এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার সামগ্রিক ফলাফলেও।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল ঘোষণা অনুষ্ঠানে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরাও মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ও গণিতে দুর্বলতার বিষয়টি তুলে ধরেন।
এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। ২০০৭ সালের পর এবারই পাসের হার সবচেয়ে কম। ২০০৭ সালে পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের ফলাফলই এবার সবচেয়ে খারাপ হয়েছে।
এ বছর মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষা দিয়েছে ৬ লাখ ১৭ হাজার ৮৮৫ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৩ লাখ ১ হাজার ১৭৪ জন। এ বিভাগে পাসের হার ৪৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। অর্থাৎ মানবিক বিভাগে ফেলের হার ৫১ দশমিক ২৬ শতাংশ। হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ১০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫১ জনের বেশি ফেল করেছে।
অন্যদিকে বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮০ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এ বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৯৫৮ জন। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৪ লাখ ৫৭ হাজার ১৮৮ জন। অর্থাৎ বিজ্ঞান বিভাগের প্রতি ১০০ জন পরীক্ষার্থীর প্রায় ৮১ জনই পাস করেছে।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগেও মানবিকের তুলনায় ভালো ফল হয়েছে। এ বিভাগে পাসের হার ৬৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে এবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৬৯৬ জন। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১ লাখ ৪১ হাজার ২৪৮ জন।
শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ও গণিতে দুর্বলতা এবারের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে। এ দুটি বিষয়ে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক বেশি ফেল করেছে। ফলে এ বিভাগের পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং এর প্রভাব পড়েছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার সামগ্রিক পাসের হারেও।
এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। ফেল করেছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন। সব মিলিয়ে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ।
ফলাফলে শুধু পাসের হারেই ধস নামেনি, কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। মানবিক বিভাগের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি এবারের সার্বিক ফলাফলের বড় দুর্বলতা হিসেবে সামনে এসেছে।
টিএই/জেবি



































