সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

‘শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা কাটাতে বাড়ি পর্যন্ত গিয়েছেন শিক্ষকরা’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০১:২৯ পিএম

শেয়ার করুন:

‘শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা কাটাতে বাড়ি পর্যন্ত গিয়েছেন শিক্ষকরা’
ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. জাবের হোসাইন। ছবি: ঢাকা মেইল

ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. জাবের হোসাইন বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা কাটাতে শিক্ষকরা বিশেষভাবে কাজ করেছেন। প্রয়োজন হলে শিক্ষার্থীদের বাড়িতে গিয়েও তাদের সহযোগিতা করেছেন শিক্ষকরা।’

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে ডিআরএমসিতে এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর চলতি বছরের ফলাফল ও শিক্ষার্থীদের সাফল্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. জাবের হোসাইন বলেন, ‘আমরা ধারাবাহিকভাবে আমাদের ফলাফল ধরে রাখতে পেরেছি। ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের মতো প্রতিষ্ঠানের কাছে সবার প্রত্যাশা অনেক বেশি। এখানে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও শিক্ষা উপকরণ রয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের ভালো ফল নিশ্চিত করতে শিক্ষকরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ভালো ফলের পেছনে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বিত প্রচেষ্টা রয়েছে। আমরা শুধু পরীক্ষার ফল নয়, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুত করার চেষ্টা করছি।’

চলতি বছরের ফলাফল তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এবার ৬৫১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। তাদের মধ্যে ৯৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। শুধু একাডেমিক ফল নয়, আমরা শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রমের দিকেও গুরুত্ব দিই।’

আন্তর্জাতিক পর্যায়েও শিক্ষার্থীদের সাফল্যের কথা তুলে ধরে ডিআরএমসি অধ্যক্ষ বলেন, ‘সম্প্রতি হাঙ্গেরিতে ৩৭টি দেশের অংশগ্রহণে আয়োজিত গ্র্যান্ডমাস্টার দাবা প্রতিযোগিতায় আমাদের একজন শিক্ষার্থী চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। সে এবার এসএসসিতেও জিপিএ-৫ পেয়েছে। এতে আমরা গর্বিত।’

ভালো ফলের পেছনে নেওয়া বিশেষ উদ্যোগের বিষয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. জাবের হোসাইন বলেন, ‘পরীক্ষার অন্তত ছয় মাস আগে থেকেই আমরা গ্রুপ টিচার গঠন করে দিয়েছিলাম। প্রতি ছয় থেকে সাতজন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের অনেকটা অভিভাবকের মতো দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘গুগল মিট ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হয়েছে। কোন শিক্ষার্থী কোথায় দুর্বল, কার পড়াশোনায় কী সমস্যা হচ্ছে, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত দুর্বলতা কাটানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যে শিক্ষার্থী যে বিষয়ে দুর্বল বা যার ক্লাসের পারফরম্যান্স ভালো হচ্ছে না, তাকে অতিরিক্ত ক্লাস দেওয়া হয়েছে। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের সঙ্গে তাকে যুক্ত করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আমাদের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের বাসায় গিয়ে পর্যন্ত সহযোগিতা করেছেন।’

প্রযুক্তিনির্ভর প্রস্তুতির বিষয়ে ডিআরএমসি অধ্যক্ষ বলেন, ‘গুগল ফর্মের মাধ্যমে নিয়মিত এমসিকিউ পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় রুটিন অনুযায়ী পরীক্ষা হয়েছে। পুরো বই অন্তত দুই থেকে তিনবার এমসিকিউ পরীক্ষার মাধ্যমে পুনরাবৃত্তি করানো হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি আরও ভালো হয়েছে।’

এবারের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ভিত্তি তৈরিতে কিছুটা চ্যালেঞ্জ ছিল বলেও জানান তিনি। করোনাকালীন শিক্ষা ও নতুন শিক্ষাক্রমের প্রভাবের কথা উল্লেখ করে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. জাবের হোসাইন বলেন, ‘এই ব্যাচের শিক্ষার্থীরা করোনাকাল ও নতুন শিক্ষাক্রমের মধ্য দিয়ে এসেছে। ফলে তাদের পড়াশোনার ভিত্তি কিছুটা দুর্বল ছিল। অনেকের হাতের লেখা দেখেও আমরা হতাশ হয়েছিলাম। পরে একেবারে প্রাথমিক পর্যায় থেকে হাতের লেখা ও মৌলিক বিষয়গুলো শক্ত করার জন্য অতিরিক্ত কাজ করেছি।’

সার্বিক ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘দু-জনের শিক্ষার্থীর ফলাফল কিছুটা প্রত্যাশার বাইরে গেছে। তাদের খাতা পুনঃনিরীক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এএইচ/এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর