দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও নির্ধারিত সময়ে জাদুঘরের গেট না খোলায় বিক্ষুব্ধ জুলাইযোদ্ধা, আহত আন্দোলনকারী ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা রাজধানীর জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মূল ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেছেন। এ সময় তাদের সঙ্গে বাইরে অপেক্ষমাণ আরও অনেক দর্শনার্থীও জাদুঘর প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। ঘটনাস্থলে শেখ হাসিনার ফাঁসির দাবিতে এবং সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জাদুঘর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, দুপুর সোয়া ২টায় থেকে জুলাই যোদ্ধা, আহত আন্দোলনকারী, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং সাংবাদিকদের জন্য জাদুঘরের প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়া হবে। তবে নির্ধারিত সময় পার হওয়ার এক ঘণ্টারও বেশি সময় পরও গেট বন্ধ থাকায় বাইরে অপেক্ষমাণ লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
এ সময় টানা বৃষ্টির মধ্যেই শত শত মানুষ মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেন। দীর্ঘক্ষণ ভিজে অপেক্ষা করার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা গেটে ধাক্কা দিতে শুরু করেন। পরে তারা তালা ও গেট ভেঙে জাদুঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন।
গেট ভেঙে প্রবেশের সময় উপস্থিত জনতার মুখে বিভিন্ন স্লোগান শোনা যায়। তাদের একটি অংশ শেখ হাসিনার ফাঁসির দাবি জানিয়ে স্লোগান দেন। পাশাপাশি 'পালাইছে, পালাইছে, শেখ হাসিনা পালাইছে'সহ বিভিন্ন স্লোগানে পুরো এলাকা মুখর হয়ে ওঠে।
জাদুঘরে প্রবেশের সময় কয়েকজন আন্দোলনকারী উপস্থিত জনতাকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তারা বলেন, কোনো ভাঙচুর করবেন না, কোনো সম্পদের ক্ষতি করবেন না। আমরা ইতিহাস দেখতে এসেছি, দেখে চলে যাব।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই বলেন, তারা দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টিতে ভিজে অপেক্ষা করেছেন। নির্ধারিত সময়ে গেট খুলে দেওয়া হলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। তাদের দাবি, দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিলম্বের কারণেই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
এর আগে সকাল থেকেই জাদুঘরের সামনে দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় ছিল। উদ্বোধনের দিন সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত রাখার সিদ্ধান্তে অনেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পরে বিকেলে নির্ধারিত সময়েও গেট না খোলায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সময় জাদুঘর চত্বরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও বিক্ষুব্ধ জনতার চাপে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে দেখা যায়। পরে বিপুলসংখ্যক মানুষ জাদুঘর প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন।
এএইচ/এমআই




























































