চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য প্রতিষ্ঠিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। উদ্বোধনের পরদিন থেকেই দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া জাদুঘরটিতে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে নানা বয়সী মানুষ গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত নিদর্শন দেখতে ভিড় করছেন।
দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে তোলা এই জাদুঘরের প্রতিটি কক্ষ, আসবাবপত্র ও দেয়ালের পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি। তবে দর্শনার্থীদের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ কাড়ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যবহৃত সেই ঐতিহাসিক লাল টেলিফোন। ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জন চাউর হওয়ার মধ্যেই টেলিফোনটি হাতে নিয়ে এক বৃদ্ধের কল্পিত ফোনালাপের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জাদুঘরে আগতদের ভিড় ঠেলে এক বৃদ্ধ লাল টেলিফোনটি তুলে নেওয়ার মাধ্যমে কথোপকথন শুরু করেন। তিনি যেন ফোনের ওপাশে থাকা শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে জানতে চান, ‘আপা, অহন কি ডিসেম্বরে আসবেন আপনে? আপনি কি সকালে নাস্তা করছেন?’ ওপাশ থেকে কোনো উত্তর না এলেও বৃদ্ধ তার জিজ্ঞাসা চালিয়ে যান।
কথার এক পর্যায়ে তিনি যেন এই প্রান্ত থেকে শেখ হাসিনাকে মনে করিয়ে দিতে চাইলেন তিনি এখন দিল্লির একজনের কাছে নিরাপদ আশ্রয়ে আছেন।
ওই বৃদ্ধ বলেন, ‘আমি আপনার সঙ্গে কথা কইতাছি আপা...আপনি ভারতে দিল্লি থাকেন, বুঝেন, দিল্লির একটা প্রধানমন্ত্রীর কাছে থাকেন, এটা ভালো কথা। বাংলাদেশে কবে আইবেন?’
কথিত এই ফোনালাপে বৃদ্ধের প্রশ্নের মধ্যে একদিকে যেমন বিদ্রূপ ছিল, তেমনি ছিল জুলাই আন্দোলনে শহীদদের নিয়ে চাপা কষ্ট।
তিনি সেই লাল টেলিফোনে অভিযোগের স্বরে জানতে চান, ‘এত লোকরে যে নিহত করলেন, মা হারা করলেন, বাবা হারা করলেন, সন্তান হারা করলেন... এই ব্যথাটা কি সহ্য করতে পারবেন আপনে?’

তার কণ্ঠে বারবার ফিরে আসছিল সেই একই প্রশ্ন, ‘আসবেন কবে এটা কন না, ডিসেম্বরে কি আসবেন আপনে?’
এক পর্যায়ে কিছুটা মজার ছলে শেখ হাসিনার স্বাস্থ্যের খবরও জানতে চান ওই বৃদ্ধ। জিজ্ঞেস করেন, ‘শরীরের অবস্থা কেমন আছে? গতি ভালো আছে? ভাত খাইছেন আপনি?’
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়। পরে এই সরকারের অধীনই জুলাইয়ের নানা স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে গণভবনে তৈরি করা হয় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর।

বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক জুলাই গণ-অভ্যুত্থান। এর গৌরবময় স্মৃতি সংরক্ষণ, সংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা, জুলাই শহীদ ও যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের স্মারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই জাদুঘর।
বিইউ/এমআর





































































