বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

উন্মুক্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর, প্রথম দিনেই ৯০০ টিকিট শেষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৫ এএম

শেয়ার করুন:

উন্মুক্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর, প্রথম দিনেই ৯০০ টিকিট শেষ
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। ছবি: ঢাকা মেইল

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সর্বসাধারণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। উদ্বোধনের পর প্রথম (৬ আগস্ট) দিনেই দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহের প্রমাণ মিলেছে। দিনের জন্য নির্ধারিত ৯০০টি টিকিট উদ্বোধনের পরপরই বিক্রি হয়ে যায়। ফলে সকাল থেকেই জাদুঘর ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

এর আগে বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদুঘরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের দিনটি শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকলেও বৃহস্পতিবার থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশের সুযোগ চালু করা হয়। প্রথম দিনেই টিকিট শেষ হয়ে যাওয়ায় জাদুঘরটি নিয়ে মানুষের আগ্রহ কতটা ব্যাপক, তারই প্রতিফলন দেখা গেছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, আন্দোলনের ধারাবাহিকতা এবং সেই সময়ের নানা স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত এই জাদুঘরে স্থান পেয়েছে আন্দোলনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, শহীদ ও আহতদের ব্যবহৃত নানা সামগ্রী এবং ঘটনাপ্রবাহভিত্তিক তথ্য-উপাত্ত। আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের দলিল, প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও সংগ্রামের নানা অনুষঙ্গও এখানে প্রদর্শন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন প্রজন্মকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সেই সময়ের ত্যাগ ও সংগ্রামের স্মৃতি সংরক্ষণই এই জাদুঘরের মূল লক্ষ্য।

দর্শনার্থীদের চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৯০০ জনকে প্রবেশের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ জন্য তিনটি পৃথক সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। বেলা ১১টা, দুপুর ১টা এবং বিকেল ৪টায় তিনটি স্লটে দর্শনার্থীরা জাদুঘরে প্রবেশ করতে পারবেন। প্রতিটি স্লটে সর্বোচ্চ ৩০০ জন করে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। টিকিট কাউন্টার এবং অনলাইন উভয় মাধ্যমেই সংগ্রহ করা যাচ্ছে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য টিকিটের মূল্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রথম দিন থেকেই নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই দর্শনার্থীরা জাদুঘরের সামনে ভিড় করতে শুরু করেন। অনেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জাদুঘর পরিদর্শনে আসেন। কেউ আন্দোলনের ইতিহাস জানার আগ্রহে, আবার কেউ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই স্মৃতি জাদুঘরে আসেন। অনেকে টিকিট না পেয়ে হতাশাও প্রকাশ করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিদিন নির্ধারিত সংখ্যক দর্শনার্থীকেই প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে, যাতে জাদুঘরের ভেতরে শৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং সবাই স্বাচ্ছন্দ্যে প্রদর্শনীগুলো দেখতে পারেন।

তবে জাদুঘর উদ্বোধনের আগের দিন কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়েছিল। বুধবার উদ্বোধনের দিন কেবল শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রবেশের জন্য নির্ধারিত থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও বিপুলসংখ্যক জুলাইযোদ্ধা, আহত ব্যক্তি এবং সাধারণ মানুষ জাদুঘরের সামনে জড়ো হন। দীর্ঘ সময় ফটক বন্ধ থাকায় একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ কয়েকজন তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং দর্শনার্থীদের প্রবেশ স্বাভাবিক করেন।

জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও নির্ধারিত সময়সূচি ও দর্শনার্থীর সংখ্যা অনুসরণ করেই প্রবেশের ব্যবস্থা পরিচালিত হবে। অনলাইনে আগাম টিকিট সংগ্রহের সুযোগ থাকায় দর্শনার্থীদের আগে থেকেই টিকিট নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এএইচ/এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর