বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

আকস্মিক নয়, পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক দেশ ছাড়েন হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম

শেয়ার করুন:

আকস্মিক নয়, পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক দেশ ছাড়েন হাসিনা
ছবি: সংগৃহীত

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভারতে চলে যাওয়া আকস্মিক কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। বরং অডিও রেকর্ড, মোবাইল কললিস্ট এবং সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, দেশত্যাগের বিষয়টি আগেই পরিকল্পিত ছিল। 

৪ আগস্ট থেকেই ক্ষমতা হস্তান্তর ও দেশ ছাড়ার প্রস্তুতির ইঙ্গিত মিলেছে। এমনকি দেশ ছাড়ার আগে ও পরে সামরিক, বেসামরিক এবং পারিবারিক পর্যায়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের তথ্যও সামনে এসেছে।

একটি বেসরকারি টেলিভিশনে প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, ৪ আগস্ট তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদের সঙ্গে ফোনালাপে রাষ্ট্রপতির কাছে যাওয়া, পদত্যাগের প্রস্তুতি এবং সেনাপ্রধানের কাছে ২৪ ঘণ্টা সময় চাওয়ার বিষয়টি জানা যায়। অডিওতে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনাপ্রধানকে সময় দেওয়া হয়েছে।

প্রাপ্ত কললিস্ট অনুযায়ী, ৪ আগস্ট রাতে তৎকালীন মুখ্য সচিব, সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ৫ আগস্ট ভোর থেকে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমানসহ একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে শেখ হাসিনার ফোনে কথা হয়। 

দেশ ছাড়ার ঠিক আগ মুহূর্তেও তিনি এক ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা ও তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদের সঙ্গে কথা বলেন। ভারতে পৌঁছানোর পরও ভারতীয় তিনটি নম্বরে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।

তথ্য-প্রযুক্তিবিদ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি তানভীর হাসান জোহা বলেন, ৩ আগস্ট থেকেই কয়েকটি নম্বর থেকে ভারতের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছিল। তবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কল ডাটা তদন্ত সংস্থার কাছে না পৌঁছানোর বিষয়টি রহস্যজনক। 

এ কারণে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেলের (এনটিএমসি) ভূমিকা খতিয়ে দেখার প্রস্তুতি চলছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, শেখ হাসিনাকে প্রথমে বিমান বাহিনীর 'লিওপার্ড ওয়ান জিরো থ্রি' কলসাইনের একটি হেলিকপ্টারে আগারগাঁও থেকে কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটিতে নেওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা ছিল 'সি-ওয়ান থার্টি জে হারকিউলিস' উড়োজাহাজ। 

মাত্র দুই মিনিটে ট্যাক্সি ক্লিয়ারেন্স ও উড্ডয়নের অনুমতি নিয়ে বিমানটি যাত্রা শুরু করে। বিমান বাহিনীর স্পেশাল ফ্লাইং ইউনিট (এসএফইউ) এটিকে 'প্রশিক্ষণ ফ্লাইট' হিসেবে পরিচালনা করে বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই বিমানটির ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে দেওয়া হয়, যাতে সেটিকে সহজে শনাক্ত করা না যায়। নিয়মিত রুট এড়িয়ে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে দ্রুত ভারতের আকাশসীমায় প্রবেশ করে বিমানটি।

এ বিষয়ে অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের সংগঠন রাওয়ার সভাপতি কর্নেল (অব.) আব্দুল হক বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র, কূটনৈতিক অনুমোদন বা প্রয়োজনীয় প্রটোকল ছাড়া রাষ্ট্রের উড়োজাহাজে একজন প্রধানমন্ত্রীকে কীভাবে বিদেশে পাঠানো হলো, সেটি তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

এমআর/এআরএম 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর