বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

খুলনায় ৪ আগস্টেই ভেঙে পড়ে আওয়ামী লীগের ‘দুর্গ’

কামাল হোসেন, খুলনা
প্রকাশিত: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৫:১১ পিএম

শেয়ার করুন:

খুলনায় ৪ আগস্টেই ভেঙে পড়ে আওয়ামী লীগের ‘দুর্গ’
বিক্ষুব্ধ জনতা গুঁড়িয়ে দেয় খুলনার শেখ বাড়ি। ছবি: সংগৃহীত

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও খুলনায় তার আগের দিন ৪ আগস্টই পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়। দক্ষিণবঙ্গের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু খ্যাত ‘শেখবাড়ি’ গুঁড়িয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা। সেদিন ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ, সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মধ্য দিয়ে খুলনায় আওয়ামী লীগ কার্যত নিয়ন্ত্রণ হারায়। দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী বন্দনায় রত বাংলাদেশ বেতার খুলনা, খুলনা প্রেসক্লাব, জেলা পরিষদসহ অসংখ্য স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায় জনতা।

আন্দোলনের প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দিনটি ছিল খুলনায় গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে উত্তাল অধ্যায়। সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে ঘোষিত অসহযোগ আন্দোলনের অংশ হিসেবে ৪ আগস্ট বেলা পৌনে ১১টার দিকে নগরীর শিববাড়ি মোড়ে জড়ো হন ছাত্র-জনতা। তারা চারদিকের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। আন্দোলনকারীদের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বেলা ১১টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ক্যাম্পাস থেকে মিছিল নিয়ে শিববাড়ি মোড়ে এসে আন্দোলনে যোগ দেন।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ লোয়ার যশোর রোডে অবস্থিত খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তৎকালীন খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতি ও সদর থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে দলীয় নেতা-কর্মীরা অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেন এবং আন্দোলনকারীদের প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দে পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

Khulna2

একপর্যায়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা পিছু হটলে বিক্ষোভকারীরা দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং ভবনের ভেতরে অগ্নিসংযোগ করে। কার্যালয়ের নিচে রাখা কয়েকটি মোটরসাইকেলেও আগুন দেওয়া হয়। পরে তারা নৌপরিবহন মালিক গ্রুপের ভবনে ভাঙচুর চালায় এবং নগর ভবন লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে ভবনের কিছু কাচ ভেঙে যায়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের খুলনা জেলার সদস্য সচিব সাজিদুল ইসলাম বাপ্পি ঢাকা মেইলকে বলেন, ৪ আগস্ট চূড়ান্ত আন্দোলন শুরু হয়। ওইদিন আমরা সকাল ১০টায় শিববাড়ি মোড়ে জড়ো হই। সেখানে প্রচুর পরিমাণ ছাত্র-জনতা যোগ দেয়।

এই জুলাইযোদ্ধা বলেন, এদিন ঢাকার সমন্বয়করা ঘোষণা দেন যে, হাসিনা পতনের এক দফা দাবিতে ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ ৬ তারিখের পরিবর্তে ৫ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে।  তখন আমাদের মনে আশা তৈরি হয় যে, আগামীকালই শেখ হাসিনার শেষ দিন। তখন আমরা চিন্তা করলাম ঢাকায় যাবো। কিন্তু ঢাকায় যাওয়া সম্ভব হচ্ছে-না, গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন জায়গায় আক্রমণ হচ্ছে। তখন অনেকইে খুলনার স্বার্থে খুলনাতেই আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রতিনিধি/জেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর