বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান দীর্ঘদিন ধরে ছাত্ররাজনীতির মাঠে সক্রিয়। আন্দোলন-সংগ্রামের নানা পর্যায়ে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে একাধিকবার কারাবরণ ও নির্যাতনের শিকার হলেও তিনি পিছু হটেননি। বিশেষ করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করা, আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া এবং বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি সমন্বয়ে তিনি ছিলেন সক্রিয় ভূমিকার অন্যতম মুখ। নানা প্রতিকূলতা ও চাপের মধ্যেও নিজের রাজনৈতিক আদর্শ ও অবস্থানে অটল ছিলেন তিনি। গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে সমকালীন রাজনীতি, ছাত্র আন্দোলনের অভিজ্ঞতা, ভবিষ্যৎ ভাবনা এবং ব্যক্তিগত সংগ্রামের নানা দিক নিয়ে ঢাকা মেইলের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন মমিনুল ইসলাম জিসান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাখাওয়াত হোসাইন।
ঢাকা মেইল: দুই বছর পর ফিরে তাকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
মমিনুল ইসলাম জিসান: যে লক্ষ্য এবং আকাঙ্ক্ষাকে নিয়ে জুলাই ২০২৪ সালে দেশের ছাত্র-জনতা আবাল বৃদ্ধ বনিতা রাজপথে নেমে এসেছিল, নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে সেই লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের ভার এখন বর্তমানে নির্বাচিত সরকারের প্রতি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপির সরকার সেই লক্ষ্যে বাস্তবায়নে নিরলস ও আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি বিশেষ করে ছাত্র উপদেষ্টাদের প্রতি যে আকাঙ্ক্ষা মানুষের ছিল, প্রত্যাশা ছিল, সেই প্রত্যাশা তারা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এদেশের মানুষ সবকিছুর আগে ভোটের অধিকার চায়। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার এবং সরকারের পেছনের শক্তি নানা টালবাহানায় নির্বাচন দিতে বিলম্ব করে, এমনকি নির্বাচন না করতে দূরভিসন্ধিও করছিল। এই আচরণ জুলাইয়ের সাথে সম্পূর্ণ গাদ্দারি। বিএনপির প্রত্যেকটি নেতাকর্মী জুলাইয়ের চেতনা এবং আকাঙ্ক্ষা সম্বন্ধে শতভাগ সচেতন এবং দায়বদ্ধ। আমি তাদের কার্যক্রমে খুবই আশাবাদী এবং সন্তুষ্ট। তবে জুলাই যে জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছিল, তা নিজেদের মধ্যে নানা মতভেদ সত্ত্বেও দেশবাসী এবং জুলাইয়ের স্টেক হোল্ডার যারা ছিল, তাদেরকে সবসময় অটুট এবং ঐক্য সুদৃঢ় রাখতে হবে।
ঢাকা মেইল: আন্দোলনের সময় আপনার ব্যক্তিগত ভূমিকা কী ছিল?
মমিনুল ইসলাম জিসান: ২০১৮ সালের উচ্চ আদালত কর্তৃক জারিকৃত পরিপত্রের বিরুদ্ধে যখন কোর্টকে ব্যবহার করে ৫ জুন ২০২৪ কোটা পুনঃপ্রবর্তনের আদেশ জারি করে, সেইদিন থেকেই আন্দোলন অংশ নিই। আমি ২০১৩ সালে কোটা প্রথার বিরুদ্ধে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, সে আন্দোলনেও অংশগ্রহণ করেছিলাম এবং ২০১৮ সালের আন্দোলনেও আমি অংশগ্রহণ করেছি। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আমি ঢাকার নানা পয়েন্টে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনুষ্ঠিত প্রত্যেকটি মিছিলে আমি মাঝে থেকে মাস্ক পরে অংশ নিয়েছিলাম। যেদিন শিক্ষার্থীদের শেখ হাসিনা ‘রাজাকার’ হিসেবে অভিহিত করেন, তার বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে মিছিল হয়েছিল, আমি সেই মিছিলে অংশগ্রহণ করি। আর আমার সহযোদ্ধা যারা রয়েছেন তাদেরকেও উদ্বুদ্ধ করেছিলাম মিছিলে অংশগ্রহণ করতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেদিন শিক্ষার্থীরা, বিশেষভাবে নারী শিক্ষার্থীরা সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের রক্তাক্ত এবং হামলার শিকার হয়, এর পরদিন সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা ফুঁসে ওঠে।

যখন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আবু সাঈদ, চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিম পুলিশের নির্মম ও নির্বিচারে গুলির শিকার হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে শহীদ হন, তখন আমরা বিএনপির পল্টন অফিসের সামনে প্রতিবাদ মিছিল করি। ইতোমধ্যে ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের ওপরে সন্ত্রাসীরা ঝাঁপিয়ে পড়ে, অসংখ্য শিক্ষার্থী-সাংবাদিক আহত হয়ে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজে আসেন। আমি সেদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগে সেসব শিক্ষার্থীকে চিকিৎসায় সহায়তা করি। জরুরি বিভাগে আগত অ্যাম্বুলেন্স থেকে নিজ হাতে গুলিবিদ্ধ, টিয়ারশেলে আহত রোগী নামিয়ে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও ভর্তির ব্যবস্থা করি। রক্ত সংগ্রহ করি অনেকের জন্য, মৌচাকে স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে মিছিল করি, কাকরাইল মোড়ে লিটল ফ্লাওয়ারের শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে মিছিল করি। ১৯ জুলাই রামপুরা স্পটে পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সংগ্রাম গড়ে তোলার নেতৃত্ব দিই। অসংখ্য নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয় শাহাদাত বরণ করে আমার চোখের সামনে। আমি ১৯ জুলাই বনশ্রী সি ব্লক থেকে পুলিশের সঙ্গে যুদ্ধ করে লড়ে লড়ে পুলিশকে কোণঠাসা করে দিয়ে রামপুরা থানার ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখি। সন্ধ্যায় আকাশ থেকে হেলিকপ্টারে গুলি বর্ষণ করে পুলিশ বের হয়।
২০ জুলাই কারফিউ জারির প্রথম দিন, রামপুরা বনশ্রী স্পটেই নিজের পরিহিত সেন্ডু গেঞ্জি খুলে আর্মির সাজোয়া যানের সামনে পতাকা বানিয়ে গুলি বর্ষণ থেকে বিরত করি। বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে আহত রোগীদের খোঁজখবর ও সেবা করার চেষ্টা করি। গায়েবানা জানাজার দিন শহীদ মিনারে আগত অসংখ্য নেতাকর্মীকে পানি বিতরণ করি এবং ৪০-৫০ জন কর্মী নিয়ে গায়েবানার জানাজায় অংশগ্রহণ করি।
ফেসবুক প্রোফাইল লালসহ মার্চ ফর জাস্টিস প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধকৃত হলগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য খুলে দিই, মহসিন হলের ভেতরে স্থাপিত নৌকা ভেঙে গুঁড়িয়ে পুড়িয়ে দিই। বিশাল মিছিল নিয়ে লালবাগে সন্ত্রাসী মানিকের হামলা প্রতিহত করতে ওখানে যাই।
৫ আগস্ট সকাল থেকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগের সামনে পুলিশের হামলার ঘটনা ঘটে। চানখারপুল মোড়ে অনেক লোক হতাহত হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোকজন জড়ো হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগ থেকে মিছিলে শাহবাগে অভিমুখে আসি। সেখান থেকে গণভবন দখল করি, সেখান থেকে ধানমন্ডি ৩২, তারপর আসে মধুর ক্যান্টিনে।
আন্দোলনের প্রথম দিকে আন্দোলনের সমন্বয়ে যারা ছিল তাদের আন্তর্জাতিক মিডিয়া, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজনের সাথে যোগাযোগ করানোর ব্যবস্থা করি। সেইসঙ্গে জান এবং মাল দিয়ে সর্বোচ্চ দিয়ে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।
ঢাকা মেইল: কখন প্রথম মনে হয়েছিল যে, এটি একটি বড় গণআন্দোলনে রূপ নিচ্ছে?
মমিনুল ইসলাম জিসান: দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও দেশের মানুষের মানসিক অবস্থা বুঝতে পারার অভিজ্ঞতার আলোকে ৫ জুনই বুঝতে পেরেছিলাম এটিও বড় আন্দোলন হবে। তবে ১৯ জুলাই আমি শতভাগ নিশ্চিত হয়েছিলাম, এইবার শেখ হাসিনার পালানো ছাড়া আর কোনো উপায় নাই। কারণ আমার সাথে থেকে অনেক মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হলেও তাতে উপস্থিত কারো মনে ভয়ভীতি দেখিনি। সময়ের অপেক্ষা ছিল যে কবে পালায়।

ঢাকা মেইল: কখনো ভেবেছিলেন শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হতে পারেন?
মমিনুল ইসলাম জিসান: আমার সবসময়ই আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস এবং আশা ছিল যে, শেখ হাসিনার পতন হবেই হবে। এই বিশ্বাস নিয়েই রাজনীতি করেছি, কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছি, অসংখ্য মামলায় হাজিরে দিয়েছি, রিমান্ডে ছিলাম, গুম হয়েছিলাম। কিন্তু আত্মবিশ্বাস ছিল যে, পরিবর্তন হবেই। শেখ হাসিনার পতন হবেই হবে। ১৯ জুলাই আমি শতভাগ নিশ্চিত হয়েছিলাম, হাসিনার পতন কেবল সময়ের ব্যাপার। গণভবন যখন পৌঁছালাম আকাশ পানে চেয়ে চেয়ে শুধু আলহামদুলিল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ বলে কেঁদেছিলাম।
ঢাকা মেইল: আপনার প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিবর্তনগুলো কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে বলে মনে করেন?
মুমিনুল ইসলাম জিসান: প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিবর্তনগুলো এখনো বাস্তবায়িত হয়নি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে চলে এলোমেলো। সত্যি কথা বলতে, গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ছাড়া অন্য কিছু গণপ্রত্যাশা, জনআকাঙ্ক্ষা এবং মানুষের দেশবাসীর দাবিগুলো পূরণ করতে পারে না। ১২ ফেব্রুয়ারি এদেশের জনগণ সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে অবাধ নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে নির্বাচিত করেছে। ইতোমধ্যে প্রত্যাশাগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতি দৃশ্যমান। আশা করি আমাদের প্রত্যাশাগুলো বাস্তবায়ন হবে যথাসময়ে। তারেক রহমান দিনরাত পরিশ্রম করছেন এগুলো বাস্তবায়নের জন্য।
ঢাকা মেইল: আন্দোলনের সময় সবচেয়ে ভয়ংকর বা স্মরণীয় অভিজ্ঞতা কী ছিল?
মমিনুল ইসলাম জিসান: ১৯ জুলাই রামপুরা বনশ্রীতে পুলিশ চাইনিজ রাইফেলের তাজা গুলি আমাদের দিকে ছুঁড়েছিল। আমি অভিজ্ঞতার আলোকে কারেন্টের খাম্বা, ভবনের দেয়ালে নিজেকে আড়াল করে একটু একটু করে ইট-পাথর দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলি। এক পর্যায়ে পুলিশকে আমরা কোণঠাসা করে ফেলি রামপুরা থানার ভেতরে। রামপুরা থানার পেছনের গলি দিয়ে আমাকে প্রায় ৩০ হাত দূর থেকে গুলি করেছিল, আল্লাহ বাঁচিয়ে দিয়েছেন। এছাড়াও ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগে সারাদেশ থেকে আহত রোগীদের, অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে ট্রলিতে চিকিৎসা নিতে গিয়েছি, তখন অনেক দেহে প্রাণের অস্তিত্ব ছিল না, মৃত অবস্থায়ই তাদের হাসপাতালে পাঠিয়েছিল। আনুমানিক ১০-১২ জন মৃতকে আমি নামিয়েছি অ্যাম্বুলেন্স থেকে, যারা আগেই শহীদ হয়ে গিয়েছিলেন।
ঢাকা মেইল: আপনি নিজে যে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন—সেটি সংক্ষেপে বর্ণনা করবেন?
মুমিনুল ইসলাম জিসান: গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার কারণে ২০০৯ সালের ২৫ মার্চ, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী থাকা অবস্থায় প্রথমবার পুলিশের হাতে আটক ও নির্যাতনের শিকার হই। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার এক বছরের মাথায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমাকে হল থেকে বের করে দেয়। ২০১৩ সাল থেকে ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রামে বারবার হামলা, নির্যাতন ও গ্রেফতারের শিকার হয়েছি।
২০১৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ থেকে ছাত্রলীগের হামলার পর পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। একাধিক মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার, রিমান্ডে নির্যাতন ও কয়েক মাস কারাবাস করতে হয়েছে। একই বছরের মার্চ মাসে পরপর কয়েকবার গ্রেফতার হয়ে শাহবাগ থানা ও ডিবি হেফাজতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হই।
২০১৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করার সময় আবারও ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়ে গ্রেফতার হই। মিথ্যা মামলায় প্রায় চার মাস কারাগারে থাকতে হয় এবং সেই সময় পরিবারের সদস্য ও সহযোদ্ধাদের ছাড়া কারাগারেই ঈদুল আজহা কাটাই।

এর বাইরে টিএসসি, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার সশস্ত্র হামলার শিকার হয়েছি। ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট ডিবি পুলিশের হাতে আটক হয়ে তিন দিন নিখোঁজ অবস্থায় ছিলাম। ওই সময় আমাকে নির্মম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। পরে একাধিক মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দীর্ঘ আট মাস কারাবন্দি রাখা হয়। ২০২৪ সালে রমজান মাসে জামিনে মুক্তি পাই।
সব মিলিয়ে রাজনৈতিক জীবনে ১৭ বার শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি, ছয়বার গ্রেফতার হয়েছি এবং প্রায় দুই বছর কারাবাস করেছি। তবু গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক আদর্শের প্রশ্নে কখনো আপস করিনি।
ঢাকা মেইল: আন্দোলন পরিচালনায় ছাত্রনেতাদের মধ্যে সমন্বয় কীভাবে হতো?
মুমিনুল ইসলাম জিসান: আমরা পল্টন পার্টি অফিসে বা ঢাকা শহরের বিভিন্ন সুবিধামতো স্থানে মিলিত হতাম। এছাড়াও তথ্যপ্রযুক্তির বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করতাম। সোস্যাল মিডিয়াতেই নির্দেশনা সমন্বয় হইতো। আমার মোটরসাইকেল দিয়ে ঘুরে ঘুরে সমন্বয় করে যোগাযোগ রক্ষা করেছি।
ঢাকা মেইল: শহীদ ও আহতদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন হচ্ছে বলে মনে করেন?
মমিনুল ইসলাম জিসান: এটা একটা অনেক বড় বিষয়। চব্বিশের জুলাই ছিল একটা জনযুদ্ধ, গণলড়াই। আহত ও শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকার জন্য নির্মোহভাবে তথ্য-উপাত্ত যাছাই-বাছাই করে,পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে, গবেষণার মাধ্যমে জুলাইকে সম্মানিত ও পুরস্কৃত করা দরকার। রাষ্ট্র পালন করার চেষ্টা করছে, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপির সরকার যথাযথভাবে চেষ্টা করছে।
ঢাকা মেইল: তরুণ প্রজন্মকে আপনি কী বার্তা দিতে চান?
মুমিনুল ইসলাম জিসান: শিক্ষার্থীদের বলবো, পড়েন পড়েন পড়েন, পড়ার মাধ্যমে উন্নত মূল্যবোধ, গণতান্ত্রিক, ন্যায়বোধ, দেশপ্রেমিক, সুনাগরিক, পরোপকারী ও মানবিক বিশ্ব নাগরিক হয়ে বেড়ে উঠুন। ব্যায়াম, খেলাধুলা, অনুশীলনের মাধ্যমে সুস্থ উন্নত জাতি গঠনে ভূমিকা রাখুন। পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখুন, নিজে পরিবেশ তো নষ্ট করবেনই না, জীবনযাত্রার পথে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অন্তত একটা আবর্জনা হলেও নির্ধারিত ডাস্টবিনে ফেলুন নিয়মিত। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ধরে রেখে সুস্থ বাঙালি সাংস্কৃতিক বিকাশে নেতৃত্বের জন্য নিজেকে বিকশিত করুন। সবার আগে বাংলাদেশ-এই নীতি হোক আমাদের। এছাড়া মাদক থেকে দূরে থাকুন। হুটহাট সিদ্ধান্ত নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় নোংরামি-অসভ্যতা ও গালিগালাজ থেকে বিরত থাকুন।
এসএইচ/জেবি













































