শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ঢাকা

রাজশাহীতে জিপিএ-৫ ও পাসের হারে এগিয়ে মেয়েরা

জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৮ নভেম্বর ২০২২, ০৭:৩৯ পিএম

শেয়ার করুন:

রাজশাহীতে জিপিএ-৫ ও পাসের হারে এগিয়ে মেয়েরা
ফাইল ছবি

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে পাস করেছে ৮৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ শিক্ষার্থী। চলতি বছর অংশ নেওয়া এক লাখ ৯৭ হাজার ৩১৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে এক লাখ ৬৭ হাজার ৫৮১ জন শিক্ষার্থী। তবে গত বছরের মতো এবছরও জিপিএ-৫ প্রাপ্তি ও পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে ছাত্রীরা।

সোমবার (২৮ নভেম্বর) দুপুরে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দফতরে প্রকাশিত ফলে এসব তথ্য জানা যায়।


বিজ্ঞাপন


বোর্ডের ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ বছর বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪২ হাজার ৫১৭ জন। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২৭ হাজার ৭০৯ জন জন। অর্থাৎ এ বছর জিপিএ-৫ বেড়েছে ১৪ হাজার ৮০৮।

এবছর জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে ১৯ হাজার ১৪২ জন ছাত্র ও ২৩ হাজার ৩৭৫ জন ছাত্রী। অর্থাৎ জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা, ছেলেদের থেকে চার হাজার ২৩৩ জন বেশি মেয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে।

এছাড়াও বোর্ডে ছাত্রের পাসের হার ৮৫ দশমিক ৬২ শতাংশ ও ছাত্রী পাসের হার ৮৬ দশমিক ১৭ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হারেও এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা।

এবিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আরিফুল ইসলাম ঢাকা মেইলকে বলেন, আসলে ফলাফল তো একেক বার একেক রকম হয়ে থাকে, সেজন্য এবারও পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে তারতম্য হয়েছে। আবার সারাদেশেই করোনার যে গ্যাপ সেটা এখনও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি, কিছু এলাকায় বন্যার প্রকোপে শিক্ষার্থী ও পরিবার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। সেই প্রভাবটা পাসের হারে পড়তে পারে বলে মনে করেন তিনি।


বিজ্ঞাপন


মেয়েরা এগিয়ে থাকা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে একটু বেশিই এগিয়ে থাকে। তাদের পড়াশোনায় একাগ্রতাও তুলনামূলক বেশি থাকে। অন্যদিকে ছেলেরা বাইরে খেলাধুলা বা আড্ডায় বেশি সময় নষ্ট করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলেরা অনেক সময় নষ্ট করে। এটিই তাদের পাসের হার ও জিপিএ-৫ পিছিয়ে থাকার কারণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীসহ পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।

মেয়র লিটন বলেন, যেসব শিক্ষার্থী বন্ধুরা এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছ, আমি তোমাদের সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। পাশাপাশি তোমরা যারা যেকোনো কারণেই হোক উত্তীর্ণ হতে পারনি, তোমাদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। এখন থেকে চেষ্টা করলে ভবিষ্যতে নিশ্চয়ই তোমরা এ বাধা অতিক্রম করে ভালো ফল অর্জন করতে পারবে।

মেয়র বলেন, কৃতি শিক্ষার্থীরা পরবর্তী একাডেমিক জীবনের চূড়ান্ত সাফল্য অর্জনের জন্য অভিভাবক, শিক্ষক ও শ্রদ্ধেয়জনদের উপদেশ মতো নিয়মানুবর্তিতার মধ্যে থেকে কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে আগামীতে তোমরা আরও সাফল্য বয়ে আনবে-এই প্রত্যাশা করি। আমি তোমাদের উজ্জ্বল ও সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করছি।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর সারাদেশের মতো রাজশাহীতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। করোনা পরিস্থিতি ও বন্যার কারণে দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর অনুষ্ঠিত হয় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা।

এবছর নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ২০ লাখের বেশি অংশ নেয়। মোট তিন হাজার ৭৯০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে শুধু সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে এসএসসি পরীক্ষার্থী প্রায় ১৬ লাখ।

প্রতিনিধি/জেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর