সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ঢাকা

হাসিনার সর্বোচ্চ শাস্তি চান জুলাই শহীদদের পরিবার ও আহতরা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ নভেম্বর ২০২৫, ১১:০৭ এএম

শেয়ার করুন:

T
ট্রাইব্যুনালের সামনে জড়ো হয়েছেন জুলাইয়ে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা এবং আহতরা। ছবি- ঢাকা মেইল

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির ফাঁসির দাবি নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে জড়ো হয়েছেন শহীদ পরিবারের অনেক সদস্য এবং আহতরা। 

সোমবার (১৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় প্রথমে ট্রাইব্যুনালের গেটে অবস্থান নেন তারা। এরপর ভেতরে প্রবেশ করেন। এসময় তারা শেখ হাসিনার সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করেন।


বিজ্ঞাপন


এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ঘোষিত রায় সরাসরি দেখতে পাবেন দেশ বিদেশের দর্শকরা। রায় ঘোষণা সরাসরি সম্প্রচার করবে রাষ্ট্রীয় চ্যানেল বিটিভি। সেখান থেকে ফুটেজ নিয়ে বেসরকারি চ্যানেলগুলোও সম্প্রচার করতে পারবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্সও রায় ঘোষণা সম্প্রচার করবে।  

এদিকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বড় পর্দায় এ বিচারকাজ দেখানো হবে। ইতোমধ্যে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বড় পর্দার ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

বিচারকাজ সরাসরি দেখাতে এরই মধ্যে ট্রাইব্যুনালে পৌঁছেছে বিটিভির বিশেষ টিম। মূল ফটকের বাইরে অপেক্ষমাণ রয়েছেন দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকরা।

সোমবার বেলা ১১টার পর ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ রায় ঘোষণা করা হবে।


বিজ্ঞাপন


সাবেক স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অপেক্ষমাণ রায়কে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় বাড়ানো হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা। পুলিশ-র‌্যাব, এপিবিএন-বিজিবির পাশাপাশি নিয়োজিত রয়েছে সেনাবাহিনী। তৎপর গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও। 

নিরাপত্তার স্বার্থে রোববার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকেই দোয়েল চত্বর হয়ে শিক্ষাভবনমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সীমিত করা হয়েছে জনসাধারণের চলাচলও।

T2

গত ১৩ নভেম্বর এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়। ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন নির্ধারণ করেন। ট্রাইব্যুনালের বাকি সদস্যরা হলেন— বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

শেখ হাসিনার এ মামলায় মোট ২৮ কার্যদিবসে ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-জেরা শেষ হয়। আর ৯ কার্যদিনে চলে প্রসিকিউশন-স্টেট ডিফেন্সের যুক্তিতর্ক পাল্টা যুক্তিখণ্ডন। ২৩ অক্টোবর রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানের সমাপনী বক্তব্য এবং চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেনের যুক্তিখণ্ডন শেষে রায়ের তারিখ নির্ধারণে সময় দেওয়া হয়।

যুক্তিতর্কে শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছে প্রসিকিউশন। তবে রাজসাক্ষী হওয়ায় মামলার অন্যতম আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের ব্যাপারে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। যদিও তার খালাস চেয়েছেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ। হাসিনা-কামালও খালাস পাবেন বলে দৃঢ় বিশ্বাস রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেনের।

এ মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে রয়েছে উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, আবু সাঈদ হত্যা, চানখাঁরপুলে হত্যা ও আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ মোট ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার। 

এর মধ্যে তথ্যসূত্র দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠার, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি চার হাজার পাঁচ পৃষ্ঠার ও শহীদদের তালিকার বিবরণ ২ হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠার। সাক্ষী করা হয়েছে ৮৪ জনকে। গত ১২ মে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এ মামলার প্রতিবেদন জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

টিএই/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর