মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

ঈদযাত্রায় রাজধানী ছাড়ছে ঘরমুখো মানুষ, বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ

মহিউদ্দিন রাব্বানি
প্রকাশিত: ১৭ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৯ এএম

শেয়ার করুন:

ঈদযাত্রায় রাজধানী ছাড়ছে ঘরমুখো মানুষ, বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ

আজ মঙ্গলবার থেকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শুরু। এতে করে রাজধানী ছেড়ে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই ঢাকার বিভিন্ন সড়ক ও বাস টার্মিনালে বেড়েছে যাত্রীর চাপ। 

যাত্রাবাড়ী-দোলাইরপাড়-পোস্তগোলা মহাসড়কজুড়ে দক্ষিণবঙ্গগামী যাত্রীদের যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী ও দোলাইরপাড় বাস কাউন্টারে টিকিট সংকট ও বাড়তি ভাড়ার অভিযোগে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।


বিজ্ঞাপন


সরেজমিনে যাত্রাবাড়ী এলাকায় দেখা যায়, সকাল  থেকে সড়কে যানবাহনের চাপ দ্রুত বাড়তে থাকে। প্রতিটি বাসস্ট্যান্ডে অতিরিক্ত যাত্রীর উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। কেউ কেউ দ্রুত বাস পেয়ে স্বস্তি নিয়ে রওনা দিলেও অনেককে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে দীর্ঘ সময়।

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার যাত্রী আমিনুল ইসলাম জানান, আজ ছুটির প্রথম দিন। সহজেই বাস পেয়েছেন এবং ভাড়াও সহনীয় ছিল। তবে সব যাত্রীর অভিজ্ঞতা একরকম নয়। অনেকেই জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ে বাস না পাওয়ায় তাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সকাল থেকেই টিকিট কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইন, উদ্বিগ্ন যাত্রীদের ভিড় এবং কাঙ্ক্ষিত বাসের টিকিট না পাওয়ার অভিযোগ শোনা গেছে। অনেক যাত্রী অভিযোগ করেছেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও টিকিট মিলছে না। কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টাকা দিলে টিকিটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠে।

চাঁদপুরগামী যাত্রী আল আমিন বলেন, কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও টিকিট কাটতে হচ্ছে। দীর্ঘ লাইন ধরার পর জানতে পারেন, বেশি টাকা দিলে টিকিট পাওয়া সম্ভব। একই অভিজ্ঞতার কথা জানান বরগুনাগামী এক শিক্ষার্থী, যিনি শেষ পর্যন্ত বেশি ভাড়া দিয়েই বাড়ি যাওয়ার টিকিট সংগ্রহ করেছেন।


বিজ্ঞাপন


ঈদের এই মৌসুমে দূরপাল্লার বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও সামনে এসেছে। বিশেষ করে এসি ও স্লিপার কোচগুলোতে ২০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা। ঢাকা-সাতক্ষীরা রুটে ১,০০০ টাকার এসি টিকিট ১,৬০০ থেকে ২,২০০ টাকায় বিক্রি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নন-এসি বাসেও নির্ধারিত ভাড়া অনেক ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না।

যাত্রীদের অভিযোগ, ঈদের চাপে বাসের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কিছু পরিবহন এই সুযোগে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে। তবে বাস মালিক সমিতির দাবি, তারা নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে কিছু নিচ্ছে না এবং বিচ্ছিন্ন কিছু অভিযোগকে তারা সাধারণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যাত্রীর চাপের পাশাপাশি জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অনেক চালক ও হেলপার জানিয়েছেন, পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বাস ছাড়তে দেরি হচ্ছে এবং ট্রিপ সংখ্যাও কমে যাচ্ছে।

ঢাকা-নোয়াখালী রুটের এক বাসচালক বলেন, তেল নিতে দীর্ঘ সময় চলে যাওয়ায় নির্ধারিত ট্রিপ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে যাত্রীদের চাপ বাড়ছে এবং সামগ্রিকভাবে ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে।

এদিকে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে মাঠে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তারা তৎপর রয়েছেন এবং বড় ধরনের যানজট এড়াতে বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

EJ1

পাশাপাশি রাজধানীর সদরঘাট, সায়েদাবাদ ও কমলাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ১৬ জনকে সাজা ও জরিমানা করা হয়েছে। এসব অভিযানে টিকিট কালোবাজারি ও অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এদিকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নিলে সংশ্লিষ্ট বাসের রুট পারমিট বাতিল করা হবে। যাত্রীদের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

সব মিলিয়ে ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে স্বস্তি ও ভোগান্তির মিশ্র চিত্র নিয়ে। কোথাও যাত্রা সহজ হলেও, কোথাও টিকিট সংকট, যানজট ও অতিরিক্ত ভাড়া যাত্রীদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে। তবুও সব কষ্ট উপেক্ষা করে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের আশায় রাজধানী ছাড়ছেন লাখো মানুষ।

এমআর/এফএ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর