শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

ঈদযাত্রার শুরুতেই বেশি দামে টিকিট বিক্রির অভিযোগ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩ মার্চ ২০২৬, ০২:২৫ পিএম

শেয়ার করুন:

dhaka
গাবতলী টার্মিনালে বেশি দামে টিকিট বিক্রি হচ্ছে। ছবি: ঢাকা মেইল

ঢাকা থেকে নাটোরে যাবেন আরমান হক (ছদ্মনাম)। সঙ্গে তার স্ত্রী ও ছোট বাচ্চা। দুজনের জন্য টিকিট কাটেন অনলাইনে। অন্য সময় গাবতলী থেকে নাটোরের ভাড়া ৫৮০ টাকা। কিন্তু তাকে অনলাইনে কাটতে হয়েছে ৭৫০ টাকায়। ২৭০ টাকা বেশি দামে টিকিট কিনে তিনি ক্ষুব্ধ।

তার মতে, তিনি নাটোরের কাচিকাটা গন্তব্যের টিকিট কাটতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কাউন্টারম্যান তাকে জোর করে কুষ্টিয়া পর্যন্ত টিকিট কাটিয়েছে। ফলে ২৭০ টাকা বেশি ভাড়া আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার।


বিজ্ঞাপন


এই যাত্রী বলেন, আমি কাচিকাটা গন্তব্যের টিকিট চেয়েছি। কিন্তু তারা বলে এই টিকিট হবে না। তারা আমাকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত টিকিট কাটতে এক প্রকার বাধ্য করেছে। এটা তো জুলুম।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে গাবতলীর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের পূর্ব দিকে থাকা হানিফ পরিবহনের একটি কাউন্টারে গিয়ে এই অভিযোগ পাওয়া যায়।

রিয়াজ আহমেদ একটি বাহিনীতে কর্মরত। আগাম ছুটি পাওয়ায় আজ বাড়ি যাচ্ছেন। তিনি বলেন, আমি নাটোর যাব, কিন্তু আমাকে রাজশাহীর টিকিট কাটতে হলো। তারা বলছে, ঈদে নাকি নাটোর রুট তাদের বন্ধ। তারা সরাসরি রাজশাহী চালাচ্ছেন।

আরও পড়ুন

ট্রেনে ঈদযাত্রা শুরু, নাড়ির টানে ছুটছেন ঘরমুখী মানুষ

এমন অভিযোগ উঠেছে এফ কে সুপার ডিলাক্স নামের একটি বাস কাউন্টারের বিরুদ্ধেও। এ বিষয়ে কথা বলতে কাউন্টারম্যানকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। দুই কাউন্টারে থাকা কর্মীরা কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

শুধু ঢাকা থেকে নাটোর নয়, রাজশাহী, রংপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট এবং কুড়িগ্রাম রুটে ঈদের টিকিটে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।

Eidjatra1

ঢাকা থেকে রংপুর যাবেন পঞ্চগড়ের যাত্রী রুবেল ও সোমা। এই দম্পতি দুপুর ১২টায় এসে সরাসরি দুপুরে যাবেন এমন বাসের টিকিট খুঁজছিলেন। রুবেল জানালেন, তিনি এসেই হানিফ ও শ্যামলীর বাস কাউন্টারে টিকিট খুঁজেছেন। কিন্তু তার দামে মিলেনি বলে নেননি। তবু কিছুটা কমে পাওয়া যায় কি না সেই খোঁজ করছেন।

আরও পড়ুন

তেল নিয়ে শঙ্কা নেই, ঈদযাত্রায় বাড়বে দূরপাল্লার বাসের ট্রিপ

তার দাবি, হানিফ বাসের জন্য ঢাকা থেকে রংপুর চাওয়া হয়েছে ৮৭০ টাকা। যেখানে স্বাভাবিক সময়ে ভাড়া ৮২০ টাকা। তার যুক্তি, ৭০ টাকা আমি কেন বেশি ভাড়া দেব! কিন্তু যারা টিকিট বিক্রি করছেন তারাও নাছোড়বান্দা। ওই দামে ছাড়া টিকিট বিক্রি করবেন না।

গাবতলীতে একদিকে চলছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভ্রাম্যমাণ আদালত অন্যদিকে বাস কাউন্টারগুলোতে চুপিসারে দাম বেশি রাখা হচ্ছে।

যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, যখন তারা টিকিট চাচ্ছেন তখন আগেই বলা হচ্ছে, দাম কিন্তু কিছুটা বেশি পড়বে। অনেকটা বাধ্য হয়েই ঈদযাত্রায় যাত্রীরা বেশি ভাড়া গুনছেন।

এমআইকে/জেবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর