মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

সায়েদাবাদে টিকিট সংকট, বাড়তি বাস ভাড়ায় বিপাকে যাত্রীরা

মহিউদ্দিন রাব্বানি
প্রকাশিত: ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৮:১১ পিএম

শেয়ার করুন:

S

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে বাড়তে শুরু করেছে ঘরমুখো মানুষের ভিড়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত টার্মিনালজুড়ে দেখা যাচ্ছে যাত্রীদের আনাগোনা, টিকিট কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইন এবং বাস ছাড়ার অপেক্ষায় উদ্বিগ্ন মানুষের ভিড়। 

তবে ঈদযাত্রার শুরুতেই সামনে এসেছে টিকিট সংকট, বাড়তি ভাড়া, জ্বালানি সংকট ও সম্ভাব্য যানজটের শঙ্কা।


বিজ্ঞাপন


সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, দেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে যাওয়ার জন্য টার্মিনালের প্রায় সব কাউন্টারের সামনে যাত্রীদের ভিড়। অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত বাসের টিকিট পাচ্ছেন না। আবার কিছু ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

চাঁদপুরগামী যাত্রী মেহেদী হাসান ঢাকা মেইলকে বলেন, কয়েক ঘন্টা ধরে টিকিটের জন্য অপেক্ষা করছি। কাউন্টারে গিয়ে শুনি টিকিট শেষ। আবার কেউ কেউ বাড়তি টাকা দিলে ব্যবস্থা করার কথা বলছে। ঈদের সময় বাড়ি যাওয়াটা এখন অনেক কষ্টের হয়ে গেছে।

R2

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী রাবেয়া আক্তার বরগুনার গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন, ঈদের আগে পরিবারের সঙ্গে দেখা করার জন্যই এত কষ্ট করে টিকিট সংগ্রহ করছি। কিন্তু টিকিট পেতে অনেক সময় লাগছে। শেষে বাধ্য হয়ে বেশি টাকা দিয়েই টিকিট নিতে হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


যাত্রীদের অভিযোগের বিষয়ে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদ সামনে থাকায় যাত্রীর চাপ অনেক বেড়েছে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি তেল সংকটের প্রভাবও।

টার্মিনালে কথা হয় কয়েকজন বাসচালক ও হেলপারের সঙ্গে। তারা জানান, জ্বালানি তেল পেতে এখন অনেক সময় পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বাস ছাড়তে দেরি হচ্ছে এবং ট্রিপ সংখ্যাও কমে যাচ্ছে।
ঢাকা-নোয়াখালী রুটের বাসচালক রিয়াজুল ইসলাম বলেন, তেলের দাম না বাড়লেও এখন সীমিত পরিমাণ তেল পাওয়া যাচ্ছে। পাম্পে গিয়ে লম্বা সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হয়। এতে অনেক সময় চলে যায়। ফলে সময়মতো গাড়ি ছাড়াও কঠিন হয়ে পড়ছে।

একজন বাস হেলপার জানান, আমরা অনেক সময় কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিই। তখন ট্রিপ দিতে দেরি হয়। কিছু মালিক আবার এই পরিস্থিতির কারণে ভাড়া কিছুটা বাড়িয়ে নিচ্ছেন।

তবে পরিবহন শ্রমিকরা বলছেন, ঈদের সময় যাত্রীরাও অনেক সময় খুশি হয়ে কিছুটা বেশি ভাড়া দিয়ে থাকেন। তাদের প্রধান লক্ষ্য থাকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানো।

এক পরিবহন শ্রমিক বলেন, ঈদের সময় মানুষ বাড়ি যেতে চায়। তখন তারা অনেক সময় একটু বেশি ভাড়া দিলেও আপত্তি করে না। আমাদেরও চেষ্টা থাকে নিরাপদে সবাইকে পৌঁছে দেওয়া।

R3

তবে যাত্রীরা বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছেন। তাদের মতে, বাড়তি ভাড়া নেওয়ার বিষয়টি অনেক ক্ষেত্রেই নিয়মবহির্ভূত এবং এতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন।

মাদারীপুরগামী যাত্রী শোয়েব আহমেদের অভিযোগ, আমাদের তো বাড়ি যেতেই হবে। সেই সুযোগে অনেক জায়গায় বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এটা আমাদের জন্য বাড়তি চাপ হয়ে যাচ্ছে।

টার্মিনালে অপেক্ষমাণ অনেক যাত্রী জানান, টিকিট পেতে দেরি হওয়া এবং বাস ছাড়তে বিলম্বের কারণে তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন।

এদিকে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজধানী থেকে মহাসড়কে ওঠার পথে যানজট তৈরি হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। ঈদের ছুটির সময় যানবাহনের চাপ কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় সড়কে দীর্ঘ যানজটের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সায়েদাবাদ টার্মিনালের দায়িত্বরত কর্মকর্তা বলেন, ঈদের সময় যাত্রীর চাপ অনেক বেশি থাকে। আমরা বাসের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করছি। তবে সড়কে যানজট বা জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা হলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

টার্মিনালে অপেক্ষা করা অনেক যাত্রীর মুখেই শোনা যায় একই কথা— সব কষ্ট সত্ত্বেও তারা বাড়ি ফিরতে চান। কারণ বছরের সবচেয়ে বড় উৎসবটি পরিবারের সঙ্গে কাটানোর আনন্দই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

তবে ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে ভিড় ততই বাড়ছে। যাত্রীদের এই চাপ সামাল দিতে পরিবহন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কতটা কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

এমআর/এএইচ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর