আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস (মে দিবস) উপলক্ষে আজ শুক্রবার নয়াপল্টনে এক বিশাল সমাবেশের আয়োজন করেছে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। এই সমাবেশের মূল আকর্ষণ দেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। যিনি প্রথমবারের মতো কোনো শ্রমিক সমাবেশে সশরীরে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেবেন। দুপুর ২টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে সমাবেশের বিস্তারিত তুলে ধরেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। সমাবেশ থেকে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে বেশ কিছু দাবিদাওয়া তুলে ধরা হবে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে সমাবেশকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টন ও এর আশপাশের এলাকায় এরই মধ্যে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও শো-ডাউনের ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর থাকবে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এর আগে গত বছরও মে দিবসের সমাবেশে তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিয়েছিলেন। তবে সে সময় তিনি লন্ডনে অবস্থান করায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়েছিলেন। গত এক বছরে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলেছে; তারেক রহমান এখন দলের চেয়ারম্যানের পাশাপাশি দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে এবার প্রথম সশরীরে শ্রমিক সমাবেশে তার হাজির হওয়াকে কেন্দ্র করে কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে।
নজরুল ইসলাম খান প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান সরাসরি উপস্থিত থাকবেন বলে এবারের আয়োজনে কয়েক লাখ শ্রমজীবী মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেবেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের সমালোচনা করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিগত সরকার শ্রমিকদের অধিকার থেকে বঞ্চিত রেখেছিল। বর্তমানে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে দেশ কিছুটা সংকটে থাকলেও বিএনপি’র নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী শ্রমিকদের দেওয়া সকল প্রতিশ্রুতি সরকার পূরণ করবে।
তিনি বর্তমান পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে বলেন, দীর্ঘ সময় জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা না হওয়া এবং আউটসোর্সিং নিয়োগ বৃদ্ধির ফলে শ্রমবাজার সংকুচিত হয়েছে। পাটসহ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতগুলো ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে এবং দেশি শিল্পের বদলে বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে শ্রমিকের প্রকৃত মজুরি কমে গেছে।
নজরুল ইসলাম খান আরো বলেন, সমাবেশ থেকে অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন গঠন, শ্রমবান্ধব কাজের পরিবেশ, নিরাপদ কর্মক্ষেত্র এবং শ্রমিকদের জন্য বিশেষ রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হবে। এ ছাড়া জাতীয় ন্যূনতম মজুরি বোর্ডকে আরো কার্যকর করার আহ্বান জানানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, শুক্রবারের এই সমাবেশ হবে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের সংকল্প। সমাবেশ থেকে শ্রমজীবী মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের জোর দাবি জানানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু এবং শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ।
বিইউ/এফএ



























