শনিবার, ১৮ মে, ২০২৪, ঢাকা

হাজার টাকার পিৎজাও মেলে ফুটপাতে

কাজী রফিক
প্রকাশিত: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৪:১১ পিএম

শেয়ার করুন:

হাজার টাকার পিৎজাও মেলে ফুটপাতে
  • অভিজাত রেস্টুরেন্টের সব খাবারই মেলে ফুটপাতে
  • উদ্যোক্তাদের বেশিরভাগই বয়সে তরুণ
  • বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে

স্ট্রিট ফুড বা পথে খাবার বিক্রি কবে এবং কোথায় প্রথম শুরু হয় তা অজানা। ধারণা করা হয়, ১৪ শতকের শেষ দিকে কায়রোর রাস্তায় খাবার বিক্রি শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা ছড়িয়ে পড়ে পুরো বিশ্বে। বর্তমানে বাংলাদেশে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে স্ট্রিট ফুড।


বিজ্ঞাপন


দেশে বা রাজধানীতে কত সংখ্যক স্ট্রিট ফুডের দোকান আছে, কিংবা কত মানুষ পথের দোকানে খাবার খায় তার পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। তবে ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশনের ২০০৭ সালের একটি গবেষণা অনুসারে, আড়াই বিলিয়ন মানুষ প্রতিদিন রাস্তার খাবার খায়। রাজধানী ঢাকার দিকে তাকালে এ তথ্য অবিশ্বাস হওয়ার সুযোগ নেই।

সকালের দিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-কেন্দ্রিক স্ট্রিট ফুডের দোকান দেখা যায়। বিকেল গড়াতেই বাড়তে থাকে দোকান। রাজধানীর প্রায় সব এলাকার বিভিন্ন সড়ক ও ফুটপাতে বসে স্ট্রিট ফুডের দোকান।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রিং রোড প্রতিদিন বিকেলের পরই চলে যায় ভ্রাম্যমাণ দোকানের দখলে। যার একটি বড় অংশই খাবারের দোকান। এরমধ্যে জাপান গার্ডেন সিটি থেকে শেখেরটেক পর্যন্ত সড়কের পশ্চিম পাশ পুরোটাই থাকে খাবারের দোকানের দখলে।

৭ টাকা কাপ চা থেকে শুরু করে হাজার টাকার পিৎজাও মেলে ফুটপাতের এসব দোকানে।


বিজ্ঞাপন


স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত ১১টা-১২টা পর্যন্ত চলে এসব খাবার বিক্রির দোকান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দিনের আলো নিভে যাওয়ার পর কোনো দোকানই ক্রেতাশূন্য থাকে না। এসব খাবার দোকানের মধ্যে ফুচকা, চটপটি, মিনি বার্গার, পিৎজার চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

বার্গারের দোকানের কর্মী মো. সুজন ঢাকা মেইলের সঙ্গে আলাপকালে জানান, প্রতিদিন বিকেলে তাদের দোকান বসে। ৭০ টাকা দরে বিক্রি করেন ছোট আকারের বার্গার। ভিড় বাড়ে সন্ধ্যার পর। তখন চাহিদা বাড়ে ‘মম’র।

আরও পড়ুন

মূল্যস্ফীতির প্রভাব ফুটপাতেও
মূলধন দেড় হাজার, মাসে আয় ৩০ হাজার
জেনেশুনেই ‘বিষ’ খাচ্ছে সবাই!
কতটা স্বাস্থ্যকর স্ট্রিট ফুড?

রিংরোডের টোকিও স্কয়ারের পাশেই আছে পিৎজার দোকান। সরাসরি পিৎজা তৈরি করে বিক্রি করা হয় এই দোকানে। আড়াইশ থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত দাম এসব পিৎজার।

সন্ধ্যার পর ক্রেতা সামলাতে হিমশিম খাওয়া বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলার জো নেই। আলাপ হয় একজন ক্রেতার সঙ্গে। জান্নাতুল নাইমা নামের ওই ক্রেতা ঢাকা মেইলকে বলেন, এখানে লাইভ পিৎজা বানানো হয়। দেখতেও ভালো লাগে৷ ভিড় বেশি। তবুও আসা।

দিন দিন যেন ভিড় বাড়ছে এসব দোকানে। একই এলাকার টাউন হলে বারবার উচ্ছেদের পরে বসছে স্ট্রিট ফুডের দোকান।

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় কোনো স্থায়ী দোকান নেই। তবে রয়েছে ফুচকা-চটপটি থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাবারের অস্থায়ী দোকান।

জাতীয় সংসদের সামনের মতো একই চিত্র নগরীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোর আশপাশে। বিনোদন কেন্দ্রে আসা দর্শনার্থীদের উদ্দেশ্য করে বসানো হয় এসব স্ট্রিট ফুডের দোকান।

নগরীর আগারগাঁও শিশুমেলা, মিরপুর-১, মিরপুর-১০, শাহবাগ, ধানমন্ডির সাত মসজিদ রোডসহ পুরো রাজধানীই স্ট্রিট ফুডের দোকানে সয়লাব৷

বিক্রেতাদের ভাষ্য, দিন দিন দোকান বাড়লেও ক্রেতা সংকট হচ্ছে না। বরং মুখোরোচক খাবারে আকৃষ্ট ক্রেতার সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে।

কারই

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর