শনিবার, ১৮ মে, ২০২৪, ঢাকা

বাহারি স্ট্রিট ফুডে জমজমাট

পারভীন লুনা, বগুড়া
প্রকাশিত: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:২২ পিএম

শেয়ার করুন:

বাহারি স্ট্রিট ফুডে জমজমাট

বগুড়ার ফুটপাতে স্ট্রিট ফুডের দোকানে চোখ পড়তেই দেখা মেলে বাহারি খাবারের মেলা। প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বগুড়া শহরের সাত মাথার মোড় থেকে শহরের আদালত পাড়ার রোমেনা আফাজ সড়ক থেকে জলেশ্বরীতলা কালি মন্দিরের পাশ দিয়ে ভ্যানগুলো ওপেন কিচেনে ফুডের পসরা নিয়ে বসে। যা স্ট্রিট ফুড নামে পরিচিত।

চটপটি, হালিম, ফুচকা, লটপটি, শিক কাবাব, নানরুটি, পাস্তা, বার্গার, চাওমিন, মমো, মিট বক্স, শীতের বাহারি পিঠা, সি ফিস ফ্রাইসহ রয়েছে তান্দুরি চা।


বিজ্ঞাপন


গ্রাহকদের আকর্ষণ করতে ওপেন কিচেনে ঝটপট খাবার তৈরির পর গরম গরম পরিবেশন করা হয়।

কথা হয় ৮ বছর বয়সী শিশু কথার সঙ্গে। সে বগুড়া শহরের জলেশ্বরী তলা আদালতের রাস্তার পাশে বসা থাইল্যান্ড সি ফুড নামের এক ভ্রাম্যমাণ দোকানে চেলোপাড়া থেকে মিট বক্স খেতে এসেছে। কথা ঢাকামেইলের প্রতিবেদককে বলে, আমি কোচিং শেষ করে  বাবার সঙ্গে মিট বক্স খেতে এসেছি। আমার কাছে এখানকার মিট বক্স খুবই প্রিয়। আমি মিট বক্স ছাড়াও টুনা ফিস ফ্রাই, চিকেন ফ্রাই খেয়েছি। কথার বাবা শরিফ আহমেদ বলেন, মেয়ের আবদার পূরণ করতে আজ প্রথম কাকড়া ফ্রাই খেলাম। থাইল্যান্ড সি ফুড নামের দোকান থেকে। ভালোই লেগেছে। মাঝে মধ্যে এখানে খেতে আসতে হবে।

থাইল্যান্ড সি ফুডের স্বত্বাধিকারী লায়েল হাসান জানান, তিনি তার থাইল্যান্ড প্রবাসী এক ভাইয়ের মাধ্যমে সি-ফুড বিক্রির আইডিয়া পান। সেই ভাইয়ের কাছ থেকেই রান্নার প্রক্রিয়া জেনে সামুদ্রিক মাছ ও প্রাণী বগুড়ায় এনে রান্না করে বিক্রির উদ্যোগ নেন।

লায়েল হাসান বলেন, শুরু থেকেই ‘থাইল্যান্ড স্ট্রিট ফুড’ নামে এই দোকানের ব্যাপক সাড়া পড়েছে। থাইল্যান্ড স্ট্রিট ফুড ছাড়াও তিনি তন্দুরি চায়ের দোকান দিয়েছেন। বগুড়ায় তার দোকানই প্রথম বলে দাবি করেন লায়ন।


বিজ্ঞাপন


লায়ন বলেন, বগুড়ার স্ট্রিট ফুডের দোকান এবং এর চাহিদা অনেক। কোনো সময় এই দোকানের বসার বেঞ্চ খালি থাকে না। ব্যবসার শুরুর দিন থেকেই এমন জমজমাট। এমন চাহিদার জন্যই নতুন নতুন রেসিপি বগুড়াবাসীকে উপহার দিতে তন্দুরি চায়ের দোকান দিয়েছি।

লায়নের তান্দুরি চায়ের দোকানে গিয়ে দেখা যায়, লতাপাতা আঁকা, কারুকাজে ভরা তামার পাত্রের ভেতর যখন টগবগ করে চা ফুটছিল, তখন সাইবা নামের ১০ বছরের শিশুর উচ্ছ্বাসটা ছিল চোখে পড়ার মতোই! চা-টা খেতে কেমন হবে, তৈরি চায়ের মধ্যে মাটির ভাঁড়টা কেন দেওয়া হলো, ইত্যাদি হাজারও প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে বেশ বেগই পেতে হচ্ছিল তার মাকে। তাও হাসিমুখেই মেয়ের কৌতূহল মেটাচ্ছিলেন।

লায়েন হাসান বলেন তন্দুরে পোড়ানো চা অল্পসময়েই বগুড়াবাসীর মন কেড়েছে। দুধ চায়ের সঙ্গে হালকা একটু ধোঁয়ার ঘ্রাণ। ঘন জ্বাল দেওয়া দুধ, তন্দুরে পোড়ানো ভাঁড়ের ধোঁয়া ধোঁয়া ঘ্রাণ যেন ছড়িয়ে পড়েছে এলাকাজুড়ে। গরুর দুধের মিষ্টি সুবাসে ম ম করছে চারপাশ। এক পাশে বড় এক ড্রামে চলছে চা বানানোর যজ্ঞ। এলাচসহ বেশ কয়েক ধরনের গরম মশলার চা যখন ফুটছে, তখন নিচে তাকাতেই চোখ পড়ে একটি পাত্রের দিকে। বেশ কয়েকটি মাটির ভাঁড় পোড়ানো হচ্ছে সেখানে।

লায়ন বলেন, তন্দুর চায়ের আসল মজাই এটি। এই পুড়ে যাওয়া মাটির ভাঁড় চায়ে ডোবানো হলে তবেই মিলবে তন্দুরের স্বাদ!

কথা বলতে বলতেই তন্দুরে পোড়ানো সেই ভাঁড় থেকে আরেকটি মাটির ভাঁড়ে সবার হাতে চায়ের মটকা তুলে দিলেন লায়ন।

তন্দুরি চা খেতে আসা রাজিন চৌধুরী নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, এই চা খুবই সুস্বাদু। বগুড়ায় এই একটা দোকানে তন্দুরি চা পাওয়া যায়। এই দোকানে বিভিন্ন নামের চা পাওয়া যায়। তন্দুরি মসলা চা, তন্দুরি স্ট্রোবেরি চা, তন্দুরি চকলেট চা, তন্দুরি বাদাম চাসহ আরও অনেক চা। এখানে ৪০ টাকা থেকে ১২০ টাকার মধ্যে চা পাওয়া যায়। এই তন্দুরি চা আমার মন কেড়েছে।

বগুড়া শহরের কেন্দ্রস্থল বলা চলে সাত মাথাকে। এখানে রাস্তার পাশে রয়েছে অনেক বাহারি দোকান। বলা যায়, প্রজন্মের সান্ধ্য আড্ডাস্থল এ সাতমাথা চত্বরে ব্যবসা করেন অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।

বগুড়া শহরের কেন্দ্র সাতমাথায় সন্ধ্যা যত ঘনিয়ে আসবে দেখা মেলবে বাহারি স্ট্রিট ফুডের দোকান। এই দোকানগুলোতে রয়েছে বার্গার, রোল, পেটিস, সমুচা, পাস্তা, চওমিন, শিক কাবাব, জালি কাবাবসহ বাহারি ফাস্ট ফুড।

সাত মাথায় ফাস্টফুড খেতে আসা এক তরুণ জুনায়েদ বলেন, আমি প্রতিদিন এই ভ্রাম্যমাণ স্ট্রিট ফুডের দোকানগুলোতে এসে খাই। নামি দামি রেস্টুরেন্টে এই সব খাবারের দাম বেশি হওয়ায় আমারা এই ফুটপাতের ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতে খাই। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নভাবে তারা খাবার পরিবেশন করেন। তাদের খাবারের মানও অনেক ভালো।

সাত মাথা থেকে নবাববাড়ি সড়কের ধারেও ছড়িয়ে পড়েছে স্ট্রিট ফুডের বাহারি ভ্রাম্যমাণ দোকান। কি নেই এসব স্ট্রিট ফুডে। ফুচকা, চটপটি, বুট সেদ্ধ, পেঁয়াজু, বেগুনি, কলাভাজা, লাউভাজা, চিকেন রোল, ভেজিটেবল রোল, বার্গার, এগফ্রায়েড, চিকেন ফ্রাই, চিকেন গ্রিল, সব ধরনের কাবাব, চাপ, বিরিয়ানিসহ বাহারি সব খাবার মেলে। দোকানগুলোতে এলপিজি সিলিন্ডারে গ্যাসের চুলায় রান্না হয়। কাঠের বাক্সের সঙ্গে কাঁচে ঘেরা দোকানগুলো চারটি চাকার ওপর তৈরি। দোকান স্থির করে সামনে প্লাস্টিকের চেয়ার ও কাঠের বেঞ্চ পাতা হয়। দোকানিদের হাক-ডাকেই ভোজনবিলাসীদের মন কেড়ে নেন দোকানিরা।

দোকানগুলো ঘিরে বসার ব্যবস্থা থাকায় বেশিরভাগ কাস্টমার এখানে তাদের পরিবার নিয়ে আসতে বেশি পছন্দ করেন।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর