ঈদুল ফিতরেও খাগড়াছড়ির পর্যটন খাতে প্রাণ ফিরেনি। দীর্ঘ লম্বা ছুটির পরেও আশানুরূপ পর্যটক আসছে না, ফলে খাগড়াছড়ির পর্যটন শিল্পে মন্দা চলছে। জেলার অধিকাংশ হোটেল, মোটেল এবং পর্যটন কেন্দ্র শূন্য হয়ে পড়েছে। কিছুটা স্থানীয় পর্যটক আসলেও, সারাদেশ থেকে আগত পর্যটকদের সংখ্যা শূন্যের কোঠায়।
স্থানীয় পর্যটক কেন্দ্রগুলোর মতো, আলুটিলা, জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক ও মায়বিনী লেকে গত দুই দিন ধরে কোনো বড় গতি দেখা যায়নি। এসব কেন্দ্রগুলোতে মূলত স্থানীয় দর্শনার্থীরা আসছেন, কিন্তু দেশের অন্যান্য অংশ থেকে পর্যটক আসছে না।
বিজ্ঞাপন
খাগড়াছড়ি হস্তশিল্প পণ্য ব্যবসা সমিতির সভাপতি রিটন চাকমা জানান, ঈদে দীর্ঘ ছুটি থাকার পরও পর্যটকের অভাব খাগড়াছড়ির ব্যবসা খাতে গভীর প্রভাব ফেলেছে। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সদর উপজেলার ৪০টি দোকানের অধিকাংশই খালি পড়ে আছে। আমাদের ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
শহরের ঐতিহ্যবাহী সিস্টেম রেস্টুরেন্টের কর্মচারী আচিং মারমা বলেন, ‘এখনো পর্যটক আসছে না। আমাদের সেবা দেয়ার জন্য প্রস্তুত আছি, তবে আগের মতো পর্যটক নেই। রেস্টুরেন্টে আগে ১৭ জন কর্মী ছিল, এখন ১০ জন আছি।’
আরও পড়ুন—
খাগড়াছড়ি সড়ক পরিবহন জীপ মালিক সমিতির কাউন্টার লাইনম্যান মো. আরিফ জানান, ঈদের ছুটিতে পর্যটকবাহী গাড়ির সংখ্যা কমে গেছে। ‘আমাদের ৬০০টি পিকআপ ও জীপের মধ্যে আজকে মাত্র ৫০টি গাড়ি জেলার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে চলাচল করছে। পর্যটক নেই, ফলে ৫৫০টি গাড়ি বসে আছে। ব্যবসায় বড় ক্ষতি হচ্ছে।’
খাগড়াছড়ির আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক চন্দ্র কিরণ ত্রিপুরা বলেন, ‘এই ঈদে কোনো পর্যটক আসেনি। সারাদেশ থেকে পর্যটকদের উপস্থিতি একেবারে কম।’ হোটেল গাইরিং হোটেলের ব্যবস্থাপক প্রান্ত ত্রিপুরা জানান, ‘ঈদের ছুটিতে আমরা আশা করেছিলাম যে বেশি পর্যটক আসবে, কিন্তু আমাদের হোটেলে ৫০ শতাংশ বুকিং হয়নি।’
খাগড়াছড়ি মোটেল ম্যানেজার উত্তম কুমার মজুমদার জানান, ‘ঈদে আমরা মোটেল প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম। আমাদের আশা, সামনে পর্যটক বাড়বে।’
জেলা প্রশাসক এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার বলেন, ‘পর্যটকদের একেক সময় একেকদিকে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকে। আশা করি পহেলা বৈশাখে পর্যটক সংখ্যা বাড়বে।’
আরও পড়ুন—
খাগড়াছড়ির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে সারাদেশ থেকে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে পর্যটন শিল্প দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে—এমন প্রত্যাশা করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিনিধি/একেবি