রোববার, ২৪ মে, ২০২৬, ঢাকা

ঢাকা-১৯: ভোটের অঙ্কে সাভার-আশুলিয়া, কার পক্ষে যাচ্ছে মাঠ?

আহমাদ সোহান সিরাজী
প্রকাশিত: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:০১ পিএম

শেয়ার করুন:

dhaka
ঢাকা-১৯ আসনের দুই প্রার্থী বিএনপির দেওয়ান সালাহউদ্দিন বাবু ও এনসিপির দিলশানা পারুল।

সাভার ও আশুলিয়া নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৯ সংসদীয় আসন দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ভোটার অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। শিল্পাঞ্চল, শ্রমজীবী মানুষের আধিক্য এবং রাজধানীর নিকটবর্তী হওয়ায় বরাবরই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ আসন। আসন্ন নির্বাচনে এ আসন ঘিরে তাই বাড়তি নজর রাজনৈতিক দলগুলোর। মাঠপর্যায়ের প্রচারণা, জোটগত সমীকরণ ও প্রার্থীদের অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে ভোটের হিসাব দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে।

এ আসনে এবার মোট সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে মূল লড়াইটি কেন্দ্রীভূত হয়ে উঠেছে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী সাবেক দুইবারের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু এবং ১১ দলীয় ঐক্যজোট মনোনীত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী দিলশানা পারুলকে ঘিরে। বাকিরা মাঠে থাকলেও ভোটের বাস্তবতায় তারা এখনো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসতে পারেননি বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।


বিজ্ঞাপন


ঢাকা-১৯ আসনে মোট ভোটার ৭ লাখ ৪৭ হাজার ৭০ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার প্রায় ৪৯ শতাংশ, পুরুষ ভোটার প্রায় ৫১ শতাংশ। শিল্পকারখানা-নির্ভর এ এলাকায় শ্রমিক ভোট, নিন্ম ও মধ্যবিত্ত ভোটারদের অবস্থান নির্বাচনের ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এখানকার ভোটাররা ব্যক্তি ও মাঠের উপস্থিতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেন।

BNP-PIC-10
নির্বাচনি পথসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন ঢাকা-১৯ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু।

বিএনপি প্রার্থী ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। দুইবারের সংসদ সদস্য হিসেবে তার সাংগঠনিক শক্তি, মাঠপর্যায়ের নেটওয়ার্ক এবং ব্যক্তিগত পরিচিতি তাকে এগিয়ে রাখছে। প্রচারণার শুরু থেকেই তিনি নিয়মিত ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছেন। বিএনপির নেতাকর্মীরাও মাঠে সক্রিয় থাকায় দলীয় ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত সাভার–আশুলিয়ায় তিনি স্বস্তিতে রয়েছেন বলে মনে করছেন অনেকে। 

বিশেষ করে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা আফজাল হোসাইন নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে এনসিপিকে সমর্থন দেওয়ার পর বিএনপি শিবিরে আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি, বড় কোনো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ভোটের হিসাব তাদের পক্ষেই যাচ্ছে।


বিজ্ঞাপন


এ বিষয়ে ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু বলেন, ‘সাভার ও আশুলিয়া ঐতিহাসিকভাবেই বিএনপির শক্ত ঘাঁটি। এখানকার মানুষ আমাকে চেনে, জানে। আগেও দুইবার তাদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। আশা করছি এবারও জনগণ আমাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেবেন।’

savar-ncp-parul
নির্বাচনি প্রচারে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন ঢাকা-১৯ আসনের এনসিপি প্রার্থী দিলশানা পারুল।

অন্যদিকে এনসিপির প্রার্থী দিলশানা পারুলের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সময় ও পরিচিতি। দীর্ঘদিন ধরে মাঠে কাজ করা জামায়াতের প্রার্থী সরে যাওয়ায় শেষ সময়ে এসে তাকে ভোটারদের কাছে নিজেকে তুলে ধরতে হচ্ছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। জোটের নেতাকর্মীরাও সমন্বিতভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন, যা তার জন্য কিছুটা স্বস্তির জায়গা তৈরি করেছে।

দিলশানা পারুল মনে করেন, অভিজ্ঞতার চেয়ে যোগ্যতা, স্বচ্ছতা ও ন্যায়নিষ্ঠাই ভোটারদের কাছে বড় বিষয় হবে। তিনি বলেন, ‘মানুষ পরিবর্তন চায়। জোটের নেতাকর্মীরা মাঠে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন। আমি বিশ্বাস করি, ভোটাররা সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।’

নির্বাচনি পরিবেশ নিয়েও এখন পর্যন্ত স্বস্তির বার্তা মিলছে। সাভার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সাইফউদ্দীন জানান, এখনো পর্যন্ত কোথাও কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানান তিনি।

সব মিলিয়ে ঢাকা-১৯ আসনে এবারের নির্বাচন অনেকটাই নির্ভর করছে মাঠের বাস্তবতা, ভোটার উপস্থিতি এবং শেষ মুহূর্তের জোটগত সমীকরণের ওপর। পরিচিত মুখের অভিজ্ঞতা নাকি নতুন মুখের প্রত্যাশা—সে উত্তরই দেবে ব্যালট বাক্স।

এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর