বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

ঢাকা-১: মরিয়া আশফাক-নজরুল, বাবার আসন পুনরুদ্ধার চান অন্তরা

শওকত আলী রতন
প্রকাশিত: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:০৭ পিএম

শেয়ার করুন:

dHAKA-1
আলোচনায় তিন প্রার্থী। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা জেলার দোহার ও নবাবগঞ্জ দুটি উপজেলা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে ভোটের মাঠে রয়েছেন ছয়জন প্রার্থী। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণায় মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। ভোটারদের আকৃষ্ট করতে প্রার্থীরা নানা ধরনের প্রচার চালাচ্ছেন। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে প্রচারণা!

রাজধানীর পাশের এই আসন ঘিরে মিথ প্রচলিত- এই আসন থেকে যে বিজয়ী হয় সেই দল সরকার গঠন করে। এবারও এমনটাই হবে বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা।


বিজ্ঞাপন


এই আসনে এবার মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক, জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার জ্যেষ্ঠ কন্যা অন্তরা সেলিমা হুদা। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা নুরুল ইসলাম, লেবার পার্টির মো. আলী ও জাতীয় পার্টির একাংশের নাসির উদ্দিন রয়েছেন।

Ashfaq

ভোটের মাঠের লড়াইয়ে বিএনপি ও জামায়াত মরিয়া হয়ে উঠেছে। ভোটারদের আকৃষ্ট করতে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। বিএনপির পক্ষ থেকে গ্যাস লাইন, বিশ্ববিদ্যালয় ও ইছামতি নদী পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগের কথা জানানে। অন্যদিকে ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দিচ্ছেন এবারের ভোটে। স্বতন্ত্র প্রার্থী অন্তরা সেলিমা হুদা তার প্রয়াত বাবা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

বিগত নির্বাচনে এই আসনটিতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের মধ্যে জয়-পরাজয় নিষ্পত্তি হলেও এবার বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে নির্বাচন জমে উঠেছে। ভোটাররাও ধানের শীষ ও দাঁডিপাল্লা প্রতীকে ভাগ হয়ে পড়েছেন। বিএনপি ৩১ দফাকে সামনে এনে প্রচার চালাচ্ছে। অন্যদিকে জামায়াত পরিবর্তনের জন্য দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাইছে।


বিজ্ঞাপন


ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম প্রথমবারের মতো দোহার-নবাবগঞ্জ থেকে নির্বাচন করছেন। তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেছেন। জামায়াতের ওপর দমন-পীড়ন শুরু হলে লন্ডনে চলে যান। চব্বিশের ৫ আগস্টের পর দেশে এসে নিজ আসনটি নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে খন্দকার আবু আশফাক ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বর্তমানে তিনি ঢাকা জেলা বিএনপি সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিলেও মামলা জটিলতায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে নির্বাচন থেকে ছিটকে যান।

NAZRUL

স্বতন্ত্র প্রার্থী অন্তরা সেলিমা হুদা হরিণ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। গান-বাজনা শুনিয়ে মাতিয়ে রাখছেন ভোটারদের। তিনি নিজে কণ্ঠশিল্পী। উঠান বৈঠকে গানের আসরের মাধ্যমে নির্বাচন জমিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন। তার বাবা নাজমুল হুদা এই আসন থেকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচন হন। তার মা অ্যাডভোকেট সিগমা হুদা আইনজীবী ও বাংলাদেশ মানবাধিকারের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। অন্তরা সেলিমা হুদা তাদের পারিবারিক মর্যাদা ধরে রাখার জন্য এবার নির্বাচনে লড়ছেন। তিনি মনে করেন, তার বাবার যে অবদান রয়েছে এই অঞ্চলে, তা স্মরণ করে এবার তাকে নির্বাচিত করবেন ভোটাররা।    

দোহার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ ঢাকা মেইলকে বলেন, আমাদের নেতা যে ৩১ দফা দিয়েছেন, এর আলোকেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে সামনের দিকে। সব শ্রেণি পেশার মানুষ এবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে নির্বাচনের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে সরকার গঠনে সহযোগিতা করবে।

hUDA

জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম ঢাকা মেইলকে বলেন, এবারের ভোট হবে ইনসাফের পক্ষে এবং তাঁবেদারের বিরুদ্ধে। যে দেশের সন্তানেরা আজাদির লড়াইয়ে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছে, সেই দেশ কখনো পরাজিত হবে না। কোনো অন্যায়ের কাছে নতি স্বীকার করবে না। কোনো হুমকি ধামকির কাছে এই জাতি মাথা নত করবে না। কোনো নৈরাজ্যের কাছে নথি স্বীকার করবে না।

প্রতিনিধি/জেবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর