রাজধানীর অভিজাত এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১০ সংসদীয় আসন। সারাদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে ভোটের লড়াই ভালোমতোই জমে উঠেছে। এই আসনে মোট প্রার্থী ১০ জন। তবে আলোচনায় রয়েছেন দুজন। একজন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শেখ রবিউল আলম এবং অপরজন জামায়াতের মো. জসীম উদ্দীন সরকার। ভোটের প্রচারে ও সম্ভাবনায় অনেকটা এগিয়ে আছেন ধানের শীষের প্রার্থী। তবে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীও এলাকায় ভিত গড়তে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন। বিনা চ্যালেঞ্জে ধানের শীষকে ছাড়তে নারাজ তিনি।
ঢাকা-১০ আসনে ভোটার কামাল উদ্দীন বলেন, ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী তারা দুজনই মূল খেলোয়াড়। তবে খেলায় জয় পরাজয় কার হবে তা ভোটের ফলাফল প্রকাশ হওয়ার বোঝা যাবে।
বিজ্ঞাপন
ঝিগাতলা বাসস্ট্যান্ডে এই আসনের একজন ভোটারের সঙ্গে কথা হয়। নাম প্রকাশ না করে তিনি বলেন, ঢাকা-১০ আসনে প্রচারে এগিয়ে আছেন ধানের শীষের প্রার্থী। আপনি ঝিগাতলা থেকে ২৭ নাম্বার পর্যন্ত গেলে দেখতে পাবেন, বিএনপির প্রার্থীর অনেক প্রচার সামগ্রী। সে-তুলনায় জামায়াতের প্রার্থীর চোখে পড়ার মতো প্রচার দেখছি না। আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে মনে হচ্ছে, এ আসনে ধানের শীষ জয় পেতে পারে। তবে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী যে একবারের পিছিয়ে আছেন, তা বলা যাবে না।

বিএনপির প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবি ঢাকা মেইলকে বলেন, ভোটারদের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে, ভোটে যাতে তারা অংশ নেন। আমি যেহেতু বিএনপির রাজনীতি করি এবং পরীক্ষিত দল, তাই ভোটাররা দল হিসেবে বিএনপিকে যাতে বেছে নেয়। আমি ৩৩ বছর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, আমার আসনের ভোটারদের প্রতি আহ্বান থাকবে, আমাকে যাতে তারা তাদের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগটা দেন।
ঢাকা-১০ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মো. জসীম উদ্দীন সরকার নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে ঢাকা মেইলকে বলেন, প্রচার শুরু হওয়ার পর থেকে ধানমন্ডি এলাকার অলিতে গলিতে ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। আমি তাদের সমস্যা বোঝার চেষ্টা করেছি। তাদের সাজেশন নেওয়ার চেষ্টা করেছি। ভোটাদের অনুভূতিটাকে আমি বোঝার চেষ্টা করেছি। সাধারণ মানুষ উন্মুখ হয়ে আছে নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য। বিগত তিন নির্বাচনে তারা ভোট দিতে পারেনি। বিশেষ করে তরুণ ভোটাররা, এজন্য একটা আগ্রহ লক্ষণীয় হয়েছে তাদের মধ্যে।
বিজ্ঞাপন
দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী বলেন, আমি ভোটারদের অনুরোধ করব, কোনো ভয়ভীতি বা উসকানিতে ঘাবড়িয়ে না গিয়ে ৩৬ জুলাই যখন আমাদের সন্তানরা রক্ত দিয়ে জয় করেছে, এজন্য আপনারা সবাই আসবেন ভোটকেন্দ্রে স্বতস্ফূর্তভাবে ভোট দেবেন, ব্যালটের মাধ্যমে অন্যায়ের জবাব দেবেন। আমার বিশ্বাস, শান্তিপ্রিয় জনগণ ১২ তারিখে ব্যালটে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে রায় দিয়ে সঠিক জবাব দেবে।
এই আসনে দশজন প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবি, প্রতীক ধানের শীষ। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. জসীম উদ্দীর সরকার, প্রতীক দাঁড়িপাল্লা। বাংলাদোশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) প্রার্থী মো.আবু হানিফ হৃদয়, প্রতীক হাতি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. আ.আউয়াল, প্রতীক হাতপাখা। বাংলাদেশ লেবার পার্টির প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ, প্রতীক আনারস। এবি পার্টির প্রার্থী নাসরীন সুলতানা, প্রতীক ঈগল। জাতীয় পার্টির প্রার্থী বহ্নি বেপারী, প্রতীক লাঙ্গল। বাংদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী মো. আনিছুর রহমান, প্রতীক ছড়ি। আমজনতার দলের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল হুসাইন, প্রতীক প্রজাপতি। জনতার দলের প্রার্থী মো. জাকির হোসেন, প্রতীক কলম।
ঢাকার এই আসনের মোট ভোটার তিন লাখ ৪৪ হাজার ৬৬০ জন। যার পুরুষ ভোটার দুই লাখ ৪ হাজার ৬০৪ জন আর নারী ভোটার এক লাখ ৮৪ হাজার ৫০ জন। হিজড়া ভোটার ৬ জন।
এমএইচএইচ/জেবি









