পুরান ঢাকার একটি অংশজুড়ে বিস্তৃত ঢাকা-৭ আসনে এবার ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. হামিদুর রহমান হামিদ। তবে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে যুবদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ইসহাক সরকার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য হাফেজ এনায়েত উল্লাহ দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। এই তিন প্রার্থীর মধ্যেই মূল লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন এলাকাবাসী। তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কৃষি ও শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহমানও হাতপাখা প্রতীক নিয়ে মূল লড়াইয়ে চলে আসতে পারেন বলে বলছেন কেউ কেউ।
বিজ্ঞাপন
লালবাগ, চকবাজার, বংশাল, কামরাঙ্গীরচর ও কোতোয়ালীর আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত আসনটির মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৩৭৬ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৮ হাজার ৪৮১, নারী ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৮৮৩ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১২ জন।
এই আসনে বিএনপির ‘গলার কাঁটা’ হিসেবে সামনে এসেছেন বিদ্রোহী প্রার্থী ইসহাক সরকার। ছাত্রদল ও যুবদলের তুখোড় এই নেতা পুরান ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি জাতীয়তাবাদী ব্লকের বড় একটি অংশের সমর্থন পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে জয় কঠিন হতে পারে।

অন্যদিকে আসনটিতে জামায়াত কখনো ভালো কোনো অবস্থানে না থাকলেও এবার মরণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পুরান ঢাকার প্রভাবশালী একজন ব্যবসায়ীকে প্রার্থী করে দলটি এখানে নিজেদের অবস্থান অনেকটা সুসংহত করতে সক্ষম হয়েছে। বিএনপির ভোট কাটাকাটির সুযোগ নিতে চায় জামায়াত। তবে দলটির জন্য কিছুটা অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী। তিনিও পুরান ঢাকার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং ইসলামপন্থীদের ভোটের একটা ভাগ হাতপাখা প্রতীকে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
২০০৮ সাল থেকে আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। আওয়ামী লীগ এবারের নির্বাচনে না থাকলেও দলটির ভোট জয়-পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিমের সঙ্গে জামায়াত প্রার্থী হাজী এনায়েত উল্লাহর সুসম্পর্ক ছিল বলে গুঞ্জন আছে। সেই সুবাদে আওয়ামী লীগের ভোটের একটা ভাগ তিনি পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুরান ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এই আসনটিতে সমস্যার কোনো শেষ নেই। এখানকার নাগরিকরা চান যিনিই বিজয়ী হবেন নাগরিক সুযোগ-সুবিধার দিকে মনোযোগ দেবেন।

আনিস জামান (৪২) নামে একজন বলেন, ‘ঢাকা-৭ আসনে ভোটাররা প্রধানত নাগরিক সমস্যার প্রতিকার চাইছেন। সরু রাস্তা, যানজট, পানির সংকট ও কেমিক্যাল গুদামের ঝুঁকি ভোটারের জীবনে প্রতিদিনের ভোগান্তি তৈরি করছে। আমরা চাই, নির্বাচিত প্রার্থী শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি না দিয়ে স্থায়ীভাবে নাগরিক সমস্যার সমাধান করবেন।’
সরেজমিনে দেখা গেছে. নির্বাচনি এলাকার প্রতিটি মোড়ে প্রায় সব দলেরই ব্যানার ও ফেস্টুন রয়েছে। জামায়াতের মহিলা শাখা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছে। স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, এভাবে আগে থেকেই মাঠে সক্রিয় হওয়ায় জামায়াতের উপস্থিতি বেশি দৃশ্যমান।
চকবাজার এলাকার দোকান মালিক মিজানুর রহমান বলেন, ‘১১ দলীয় জোট গঠনের কারণে কিছু প্রার্থী সরে দাঁড়িয়েছেন। এতে জামায়াতে ইসলামী একক সুবিধা নিতে পারে। বিএনপির ভোট ভাগ হয়ে যাবে। এতে দলটি বিপাকে পড়তে পারে।’
এম/জেবি




















