রোববার, ২৪ মে, ২০২৬, ঢাকা

ঢাকা-১৪: বিএনপির ভাগাভাগির সুযোগ নিতে চায় জামায়াত!

আব্দুল হাকিম
প্রকাশিত: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম

শেয়ার করুন:

dhaka
ঢাকা-১৪ আসনের আলোচিত তিন প্রার্থী ব্যারিস্টার আরমান, সানজিদা ইসলাম তুলি ও আবু বকর সিদ্দিক সাজু। ছবি- ঢাকা মেইল
  • তৃণমূল বিএনপির বড় অংশ বিদ্রোহীর পক্ষে!
  • আসনে মোট ভোটার সংখ্যা চার লাখের বেশি
  • বিধি ভঙ্গ হলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন
  • এবার ভোটের হিসাব আগের তুলনায় কঠিন

শীতের শেষভাগে ঢাকার আকাশে যেমন হালকা কুয়াশা, ঠিক তেমনি ঢাকা–১৪ আসনের রাজনীতিতেও জমেছে অনিশ্চয়তার কুয়াশা। শীতের সকালে এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা যেমন আড্ডাকে দীর্ঘ করে, তেমনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে চায়ের দোকানগুলো হয়ে উঠেছে রাজনীতির অঘোষিত মঞ্চ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সময় যত গড়াচ্ছে, ভোটের হিসাব–নিকাশ ততই জটিল হয়ে উঠছে এই আসনে। বিশেষ করে বিএনপির ভেতরের বিভাজন আর একাধিক শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর উপস্থিতিতে জামায়াতের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


কল্যাণপুর, দারুস সালাম, রেডিও কলোনি, পশ্চিম আগারগাঁও ও মাজার রোড ঘুরে দেখা যায়, নির্বাচনি আমেজ চায়ের দোকানে জমে উঠেছে। সকাল–বিকেল আড্ডায় এখন প্রধান বিষয়—কে জিতবে, কার ভোট কাটা পড়বে, আর শেষ পর্যন্ত লাভবান হবে কে। স্থানীয়রা বলছেন, ভোট আগের মতো নাই, এবার হিসাবটা একটু আগের চেয়ে কঠিন হবে।

এই নির্বাচনি মৌসুমে চা–কফির দোকানগুলো যেন নতুন করে প্রাণ পেয়েছে। দোকানিরা বলছেন, প্রচারণা শুরুর পর থেকেই আড্ডা বেড়েছে। কল্যাণপুরের জালাল উদ্দিন নামের এক চা বিক্রেতা জানান, কয়েক বছর পর এমন ব্যস্ততা দেখছেন তিনি। কয়েক দিন ধরে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রাজনৈতিক আলাপে দোকান ভরে থাকে। অনেকেই ভোট দিতে যাবেন কি না, তা নিয়ে সন্দিহান, কিন্তু আলোচনা থেকে কেউ দূরে নেই।

ঢাকা–১৪ আসনের রাজনীতির কেন্দ্রে এবার রয়েছে তিনটি শক্ত অবস্থান। একদিকে বিএনপির দলীয় প্রার্থী নারী নেতৃত্বের মুখ হিসেবে পরিচিত হলেও স্থানীয় রাজনীতিতে তুলনামূলক নতুন। অন্যদিকে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী দীর্ঘদিনের স্থানীয় নেতা, যার সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক এখনো সক্রিয়। আর তৃতীয় শক্তি হিসেবে মাঠে নেমেছে জামায়াত, যাদের প্রার্থী শিক্ষিত, পেশাগতভাবে প্রতিষ্ঠিত এবং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সামাজিক যোগাযোগ বজায় রেখেছেন।


বিজ্ঞাপন


barrister-arman
নির্বাচনি প্রচারণায় ঢাকা-১৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার আরমান।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভোটাররা যা বলছেন

ঢাকা–১৪ আসনের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে স্থানীয় বাসিন্দা ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বললে ভোট নিয়ে এক ধরনের সংশয় আর প্রত্যাশার মিশ্র অনুভূতি চোখে পড়ে। উৎসবমুখর পরিবেশ না থাকলেও মানুষের মধ্যে আলোচনা থেমে নেই। তারা ভোট দিতে যাবেন কি না, সেই প্রশ্নের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে কাকে ভোট দিলে এলাকার বাস্তব পরিবর্তন হবে।

রেডিও কলোনিতে বসবাসকারী আবদুল কাদের পেশায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তিনি নিয়মিত ভোট দিলেও এবার সিদ্ধান্ত নিতে সময় নিচ্ছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের প্রতিশ্রুতি শোনা হচ্ছে, কিন্তু এলাকার ভাঙা রাস্তা, জলাবদ্ধতা কিংবা নাগরিক সেবার মান খুব একটা বদলায়নি। তাই এবার তিনি দলের নাম নয়, প্রার্থীর ব্যক্তিগত পরিচিতি ও কাজের সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

একই বাসিন্দা আরিফ রহমান বলেন, বিএনপির মূল সমস্যা হলো দুই ভাগ। দলীয় প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি আর বিদ্রোহী প্রার্থী সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক সাজু—এই দুজনের কারণে ভোট ভাগ হবেই। এই সুযোগে জামায়াত সামনে চলে আসতে পারে। দলীয় প্রতীক থাকলেও স্থানীয় পরিচিতি আর মাঠের শক্তি এবার বেশি গুরুত্বপূর্ণ। 

কল্যাণপুর এলাকার কলেজপড়ুয়া তরুণ ভোটার রাশেদ মাহমুদ জানান, তিনি এবার প্রথমবারের মতো ভোটার হয়েছেন। তার কাছে কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি মনে করেন, তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে প্রার্থী বাস্তবসম্মত কথা বলবে এবং এলাকায় থেকেও তরুণদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখবে, তার প্রতিই আস্থা তৈরি হবে।

দারুস সালাম এলাকার বাসিন্দা নাজমুল হক পেশায় ছোট দোকানি। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা এলাকায় নিয়মিত এলেও পরে আর খোঁজ নেওয়া হয় না। তার অভিজ্ঞতায়, দলের প্রতীক নয়, এলাকার মানুষকে চেনা এবং তাদের সমস্যার সঙ্গে পরিচিত হওয়াই একজন জনপ্রতিনিধির মূল যোগ্যতা হওয়া উচিত।

পশ্চিম আগারগাঁওয়ের গৃহিণী শামীমা বেগম সংসার চালাতে গিয়ে নিত্যপণ্যের দাম ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তার মতে, পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই যে প্রার্থী বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও এলাকায় নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা বলবে, নারী ভোটারদের একটি বড় অংশ তার দিকেই ঝুঁকবে। 

বনগাঁও এলাকার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মতিউর রহমান বহু নির্বাচন দেখেছেন। তার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আগের মতো আবেগনির্ভর ভোট আর নেই। মানুষ এখন হিসাব করে সিদ্ধান্ত নেয়। তবে তিনি মনে করেন, ভোট বিভাজন হলে জনপ্রত্যাশার প্রতিফলন নাও ঘটতে পারে, যা নিয়েই অনেক ভোটার চিন্তিত।

tulee
ভোটের প্রচারণায় দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি।

চায়ের আড্ডায় বসে কথা বলছিলেন কয়েকজন শ্রমজীবী মানুষ। একজন বলেন, তিনি আগে নিয়মিত ভোট দিতেন, কিন্তু এখন আগ্রহ কম। তবে যদি ভোট দেন, তাহলে দেখবেন কে এলাকায় কাজ করেছে। আরেকজন যোগ করেন, প্রতীক বড় কথা না। মানুষ চায়, যারে দেখবে পাঁচ বছর পরেও।

জামায়াতের প্রার্থীকে ঘিরে আলোচনায় উঠে আসে তার ব্যক্তিগত প্রোফাইল। স্থানীয়রা বলছেন, তিনি উচ্চশিক্ষিত, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত এবং এলাকায় নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। এক তরুণ ভোটার বলেন, তিনি চাকরি আর শিক্ষা নিয়ে কথা বলেন। এটা এখনকার তরুণদের কাছে বড় বিষয়।

দলের নেতাকর্মীরা যা বলছেন

অন্যদিকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাজু স্থানীয় রাজনীতির পুরোনো মুখ। দারুস সালাম এলাকায় তার পোস্টার ও ব্যানার চোখে পড়ার মতো। সাজুর সমর্থকদের দাবি, তৃণমূল বিএনপির বড় একটি অংশ তার পাশেই আছে। একজন স্থানীয় বিএনপি নেতা নাম প্রকাশ না করে বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত মানলেও মনটা কিন্তু অন্যখানে। এই আসনে অনেকেই মনে করেন, বিদ্রোহীই আসল বিএনপি।

বিএনপির দলীয় প্রার্থী নারী হওয়ায় শুরুতে আলোচনায় থাকলেও স্থানীয় পরিচিতির ঘাটতি এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ভোটারই বলছেন, তারা তাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না। পাইকপাড়া এলাকার এক দোকানি বলেন, নেত্রী ভালো মানুষ হইতে পারে, কিন্তু আমরা তো এলাকায় আগে থেকে দেখি না।

এই ভোট বিভাজনের মাঝখানে ইসলামী আন্দোলনসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও মাঠে রয়েছেন। হাতপাখা প্রতীকের সমর্থকেরা বলছেন, তাদের ভোট সংখ্যা কম হলেও নির্দিষ্ট একটি অংশ সবসময় ধরে রাখতে পারেন। ফলে জামায়াতের সম্ভাব্য ভোটের একটি অংশ সেদিকেও সরে যেতে পারে বলে কেউ কেউ মনে করছেন।

তবে জামায়াতের কর্মীরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, বিএনপির বিভক্তির সুযোগ তারা কাজে লাগাতে পারবেন। মাজার রোডে গণসংযোগে অংশ নেওয়া এক কর্মী বলেন, মানুষ পরিবর্তন চায়। দুই দল অনেক বছর সুযোগ পেয়েছে। এবার নতুন কিছু দেখতে চায়।

ঢাকা–১৪ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা সাড়ে চার লাখের বেশি। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩২ হাজার ৬৬ জন আর নারী ভোটার ২ লাখ ২৩ হাজার ৯৭৪ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের চারজন ভোটার রয়েছেন। নারী ভোটারদের একটি অংশ নিরাপত্তা, দ্রব্যমূল্য আর সামাজিক স্থিতিশীলতার বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছেন। 

শুক্রবার জুমার নামাজের পর মিরপুর এলাকায় মাইকিং করতে দেখা যায় জামায়াতের পক্ষে। কিছুদূর এগোতেই বিদ্রোহী প্রার্থীর বড় মিছিল চোখে পড়ে। আবার অন্য এলাকায় বিএনপির দলীয় প্রার্থীর ছোট ছোট গণসংযোগ চলছে। একই দিনে তিন ধরনের দৃশ্য—এটাই যেন এই আসনের বাস্তব চিত্র।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনের ফল নির্ভর করছে শেষ মুহূর্তের ভোটের হিসাবের ওপর। যদি বিএনপির দুই পক্ষের বিভাজন শেষ পর্যন্ত বজায় থাকে, তাহলে জামায়াতের সামনে সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে ইসলামী আন্দোলনসহ অন্যদের ভোট কাটাকাটি সেই সম্ভাবনাকে দুর্বলও করতে পারে। স্থানীয় এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বলেন, এটা ত্রিমুখী লড়াই। এখানে কেউ এককভাবে এগিয়ে নেই। শেষ পর্যন্ত কে মাঠে মানুষ বেশি আনতে পারবে, সেটাই ফয়সালা করবে।

ঢাকা–১৪ আসনে নির্বাচন এবার শুধু দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং ভোট ভাগাভাগির এক জটিল অঙ্ক। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে মানুষ হিসাব করছে—বিএনপির বিভাজনে শেষ হাসি হাসবে কে? প্রশ্নের উত্তর মিলবে ভোটের দিন।

যা বলছেন প্রার্থীরা

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান) বলেন, নির্বাচনের পর সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় অভিযোগ থাকে—জনপ্রতিনিধিদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না। আমি সেই রাজনীতি করতে চাই না। আমাকে খুঁজতে হবে না, আমিই নাগরিকের মুখোমুখি হবো। জনপ্রতিনিধি হিসেবে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা আমার মূল অঙ্গীকার। সে জন্য ছয় মাস পরপর আমার সব ব্যয়ের হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে। মানুষ জানবে, কোন খাতে কত টাকা ব্যয় হয়েছে। 

দাঁড়িপাল্লার এই প্রার্থী বলেন, ঢাকা–১৪ আসনের অনেক এলাকা এখনো পিছিয়ে আছে। সেখানে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। প্রয়োজনীয় স্থানে সেতু নির্মাণসহ সার্বিক অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করা হবে। মিরপুর বাংলা কলেজকে একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে এই এলাকার শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়। নিরাপদ নারী সমাজ গড়তে নারীদের সম্পৃক্ত করে কমিউনিটি পুলিশ গঠন করা হবে এবং জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় নারীবান্ধব পাবলিক টয়লেট স্থাপন করা হবে।

ব্যারিস্টার আরমান আরও বলেন, নীরব চাঁদাবাজি এখন বড় সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। এটি বন্ধ করতে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পাহারাদার অ্যাপ চালু করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদে অভিযোগ জানাতে পারে। একই সঙ্গে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যদি এই সনদ বাস্তবায়নে বাধা আসে, তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নামতে পিছপা হবো না।

অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি ঢাকা মেইলকে বলেন, আমার প্রধান লক্ষ্য ঢাকা–১৪ আসনকে একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলা। পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ সব নাগরিক সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। মানুষ যেন সেবা পেতে হয়রানির শিকার না হয়, সেটাই আমার রাজনীতির মূল কথা।

ধানের শীষের প্রার্থী বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো হবে, যাতে তরুণরা অপরাধের পথে না যায়। ঘরে ঘরে কাজের সুযোগ সৃষ্টি করাই আমাদের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার মূল ভিত্তি।

ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি আরও বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ হটলাইন চালু করা হবে, যাতে যে কেউ দ্রুত সহায়তা চাইতে পারে। বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন রাজনীতির আদর্শ অনুসরণ করে বলতে চাই—কোনো অন্যায়ের সঙ্গে বিএনপি আপস করবে না। নির্বাচনি নীতিমালা প্রতিপালনের ক্ষেত্রেও বিএনপি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। আমার ইশতেহারে নারী নেতৃত্বে বিএনপির ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার রয়েছে। পাশাপাশি রাস্তা ও ফুটপাত সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ডেঙ্গু মশা নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজিমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে কাজ করাই হবে আমার রাজনৈতিক অঙ্গীকার।

নির্বাচনি আচরণবিধি নিয়ে জনমনে যা দেখা গেছে

ঢাকা–১৪ আসনের ভোটারদের মধ্যে নির্বাচনি আচরণবিধি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একদিকে প্রশাসনের তৎপরতা ও প্রার্থীদের সতর্কবার্তায় অনেক ভোটার আশাবাদী, অন্যদিকে অতীত অভিজ্ঞতার কারণে পুরোপুরি আস্থা তৈরি হয়নি। স্থানীয়রা মনে করছেন, এবার আচরণবিধি নিয়ে কথা বেশি হলেও বাস্তব প্রয়োগ কতটা হবে, সেটাই মূল চ্যালেঞ্জ।

চায়ের দোকান, বাজার ও পাড়া-মহল্লার আড্ডায় ভোটাররা শান্তিপূর্ণ ও শালীন প্রচারণার প্রত্যাশা প্রকাশ করছেন। অনেকেই বলছেন, প্রকাশ্যে বড় ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘন চোখে না পড়ায় পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত রয়েছে। তবে পোস্টার লাগানো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরঞ্জিত প্রচারণা এবং প্রভাব খাটানোর চেষ্টা নিয়ে কিছুটা সন্দেহও দেখা গেছে।

3

তরুণ ভোটারদের একটি অংশ মনে করছেন, প্রশাসনের নজরদারি বাড়ায় প্রার্থীরা সরাসরি নিয়ম ভাঙতে সাহস পাচ্ছেন না। বয়স্ক ভোটারদের মতে, আচরণবিধি কেবল কাগজে-কলমে থাকলে চলবে না, বাস্তবে প্রয়োগ না হলে মানুষের আস্থা ফিরবে না। ভোটাররা আশা করছেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারলে নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি বিশ্বাস আরও দৃঢ় হবে।

ঢাকা–১৪ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচনি আচরণবিধি প্রতিপালন নিয়ে প্রশাসনের তৎপরতা ও প্রার্থীদের অবস্থান আলোচনায় রয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন শুরু থেকেই প্রার্থীদের আচরণবিধি মেনে চলার বিষয়ে বারবার সতর্ক করে আসছে। শালীন প্রচারণা, নির্ধারিত সীমার বাইরে ব্যানার–ফেস্টুন না লাগানো, কালো টাকা ও পেশিশক্তির ব্যবহার পরিহার এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নির্বাচনি আচরণবিধি নিয়ে যা বলছেন প্রার্থীরা

ঢাকা–১৪ আসনের প্রার্থীরা নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেন, প্রতিটি প্রার্থীই চাইছেন ভোট প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু হোক। প্রচারণার সময় শালীনতা বজায় রাখা, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো ধরনের অবৈধ প্রভাব প্রয়োগ না করার বিষয়ে সবাই সতর্ক।

বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, আমরা সবসময় নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলব। আমাদের প্রচারণা হবে শান্তিপূর্ণ ও শালীন। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার। কেউ যেন ভয় বা চাপে ভোট দিতে না হয়, তা নিশ্চিত করা হবে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো অভিযোগ এখনো কেউ করেনি, এবং আমরা চাই, পুরো নির্বাচনি প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু হোক।

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার আরমান বলেন, নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলাই সবার জন্য বাধ্যতামূলক। আমরা আমাদের প্রচারণায় শালীনতা বজায় রাখব এবং কোনো ধরনের অবৈধ প্রভাব প্রয়োগ করব না। ভোটাররা নিরাপদ পরিবেশে ভোট দিতে পারুক, সেটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো অভিযোগ এ পর্যন্ত কেউ করেনি, তাই আমরা বিশ্বাস করি, এই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক হবে।

আচরণবিধি নিয়ে কী বলছেন কর্মকর্তারা

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একটি স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। এ পর্যন্ত ঢাকা–১৪ আসনে বড় ধরনের আচরণবিধি ভঙ্গের কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ দেখা যায়নি। তবে প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। 

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, অঞ্চল–৪ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন ঢাকা মেইলকে বলেন, নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলা সব প্রার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক। প্রচারণার ক্ষেত্রে অবশ্যই শালীনতা বজায় রাখতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই কালো টাকা কিংবা পেশিশক্তির ব্যবহার করা যাবে না। 

ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব, যাতে কেউ ভয়ভীতি বা চাপের মুখে না পড়ে। একটি স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব প্রার্থীর সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। নির্বাচন পরিচালনায় আইন ও বিধির ব্যত্যয় ঘটলে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে। আইন মেনে নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে থাকবে।

এএইচ/জেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর