বাংলাদেশে বদলে যাচ্ছে মাদকের বাজার। একসময় গাঁজা, ভাং, আফিম ও হেরোইন ও ফেনসিডিলের বিস্তার থাকলেও এক দশকের বেশি সময় ধরে আধিপত্য বিস্তার করেছে ইয়াবা। এখন ইয়াবার পাশাপাশি একের পর এক নতুন সিন্থেটিক ও সেমি-সিন্থেটিক মাদক বাজারে আসছে। আইস, এলএসডি, এমডিএমএ, ডিওবি ও ট্যাপেন্টাডলের মতো মাদকের ব্যবহার ও উপস্থিতিও সামনে এসেছে। শুধু মাদকের ধরনই নয়, বদলে যাচ্ছে দেশে আনার পথও। সীমান্তের পাশাপাশি বিদেশি কুরিয়ার, ডার্কনেট ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমেও মাদক আসছে। আবার কিছু মাদক দেশে এনে স্থানীয়ভাবে তৈরির চেষ্টার তথ্যও পাওয়া গেছে।
ফলে প্রথাগত মাদকের বাজার ক্রমেই বদলাচ্ছে। মাদকের ধরনের এই পরিবর্তনকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করলেও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন চিকিৎসক ও মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা। একইসঙ্গে মাদকের ধরন পরিবর্তনের পাশাপাশি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় পরিবর্তন না আসায় উদ্বেগ জানিয়েছেন তারা।
মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থার (মানস) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ডা. অরূপ রতন চৌধুরী ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘নতুন মাদকের বিস্তারের পেছনে বড় কারণ হলো সহজলভ্যতা ও চাহিদা। একজন মাদক ব্যবহারকারী সাধারণত একটি মাদকেই সীমাবদ্ধ থাকেন না। এক ধরনের মাদক ব্যবহারের পর অনেকে অন্য ধরনের মাদকে চলে যান। ফলে পুরনো মাদকের বাজার হারিয়ে না গিয়ে তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন মাদকের বাজার।’
ঢাকা আহসানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি খাতের পরিচালক ইকবাল মাসুদ ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘মাদকের ধরন সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। আমাদের দেশে একসময় গাঁজা ও ভাংয়ের মতো প্রচলিত মাদক ছিল। পরে আফিম, হেরোইন, ফেনসিডিল ও ইয়াবা এসেছে। এখন সিন্থেটিক ড্রাগের ব্যবহার বাড়ছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বজুড়েই সিন্থেটিক ড্রাগ একটি বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে।’
বাড়ছে ‘আইস’, তবে ইয়াবার বাজার এখনো বড়
মাদকের বাজারে পরিবর্তনের একটি চিত্র পাওয়া যায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের (ডিএনসি) তথ্যেও। অধিদফতরের ২০২২ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে ইয়াবা ও ক্রিস্টাল মেথ বা ‘আইস’-দুই ধরনের অ্যামফেটামিন-টাইপ স্টিমুল্যান্টই বড় সমস্যা তৈরি করছে। বিশেষ করে তরুণরা এ ধরনের মাদকের ঝুঁকিতে রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালে দেশে ৩৬ দশমিক ৭৯ কেজি ক্রিস্টাল মেথ জব্দ হয়েছিল। ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১১৩ দশমিক ৩৩ কেজিতে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জব্দের পরিমাণ তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে।
তবে এই পরিসংখ্যানের অর্থ এমন নয় যে ‘আইস’ পুরোপুরি ইয়াবার জায়গা দখল করে নিয়েছে। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) নেতৃত্বে এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত দেশব্যাপী এক গবেষণায় ৮১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৫১ জন মাদক ব্যবহারকারীর হিসাব পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মেথামফেটামিন বা ইয়াবা ব্যবহারকারীর আনুমানিক সংখ্যা ২২ লাখ ৯২ হাজার ৭০৫। আর ক্রিস্টাল মেথ বা ‘আইস’ ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১১ হাজার ৮৮৮।
অর্থাৎ ইয়াবার বাজার এখনও অনেক বড়। তবে জব্দের তথ্য ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে, আইসসহ নতুন সিন্থেটিক মাদকের উপস্থিতি আলাদা একটি প্রবণতা তৈরি করছে।
সীমান্ত ছাড়িয়ে কুরিয়ার-ডার্কনেটেও মাদকের সরবরাহ
নতুন মাদকের বিস্তার শুধু প্রচলিত সীমান্ত পথের ওপর নির্ভর করছে না। সাম্প্রতিক বিভিন্ন তথ্যেও এর প্রমাণ মিলছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর বলছে, ২০১৯ সালে দেশে প্রথম শনাক্ত হয় আইস। বিদেশফেরত এক তরুণ নিজস্ব ল্যাবে এই মাদক উৎপাদন করে দেশের বাজারে বিক্রি করে আসছিল। একই সময়ে শনাক্ত হওয়া এলএসডির ক্ষেত্রে বিদেশি কুরিয়ার ও ডার্কনেটের মাধ্যমে বিটকয়েন ব্যবহার করে কেনাকাটার তথ্য পাওয়া যায়।
২০২১ সালে শনাক্ত হওয়া ডিওবির ক্ষেত্রেও ডার্কনেট ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিদেশ থেকে অর্ডার করার তথ্য রয়েছে। এমডিএমএ এসেছে বিদেশ থেকে লাগেজে। আবার এর আরেকটি চালান এসেছে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে।
২০২৩ সালে শনাক্ত হওয়া ট্যাপেন্টাডল ভারতে থেকে অন্য পণ্যের আড়ালে বিমানে করে দেশে আসার তথ্যও পাওয়া গেছে। অর্থাৎ মাদকের সরবরাহব্যবস্থাও বদলে যাচ্ছে। এখন আর নির্দিষ্ট কোনো স্পটে গিয়ে মাদক কেনাই একমাত্র উপায় নয়।
এ বিষয়ে অধ্যাপক অরূপ রতন চৌধুরী বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও মাদক বিক্রির মাধ্যম হয়ে উঠছে। অনলাইনে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে যোগাযোগ তৈরি হচ্ছে।’
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতে দুর্বলতা তৈরি হলে মাদক ব্যবসায়ীরা সেটিও কাজে লাগায় বলে মনে করেন তিনি।
বাজার বদলালেও চিকিৎসায় পুরোনো পদ্ধতি
দেশে মাদকের ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিন কে দিন বাড়ছে। বদলাচ্ছে মাদকের ধরনও। তবে এর বিপরীতে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনব্যবস্থার কতটা পরিবর্তন আসছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
ঢাকা আহসানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি খাতের পরিচালক ইকবাল মাসুদের পর্যবেক্ষণ, মাদকের ধরন বদলালেও বাংলাদেশের চিকিৎসাপদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আসেনি। তিনি বলেন, দেশে মাদকের ব্যবহার দীর্ঘসময় ধরে পরিবর্তিত হয়েছে। গাঁজা বা ভাঙ থেকে আফিম, এরপর হেরোইন, ফেনসিডিল, ইয়াবা হয়ে এখন সিন্থেটিক মাদকের দিকে ঝুঁকছে ব্যবহারকারীরা। কিন্তু চিকিৎসার ক্ষেত্রে অনেক জায়গায় এখনো পুরোনো ধরনের মাদকাসক্তির অভিজ্ঞতা ও পদ্ধতিই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
ইকবাল মাসুদ বলেন, সিন্থেটিক মাদকের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও জটিল। কারণ সিন্থেটিক মাদক একটি নির্দিষ্ট মাদক নয়; এর মধ্যে থাকা রাসায়নিক উপাদান ও প্রভাবও একেকটির একেক রকম। বিশেষ করে অ্যামফেটামিন-টাইপ স্টিমুল্যান্ট বা মেথামফেটামিন কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে তীব্র প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার চিকিৎসা নির্দেশনায়ও মাদকজনিত সমস্যাকে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যগত সমস্যা হিসেবে দেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্টিমুল্যান্ট বা উত্তেজক মাদক ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুধু মাদক বন্ধ করাই নয়, মনোসামাজিক চিকিৎসা, কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি, কনটিনজেন্সি ম্যানেজমেন্ট এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধারভিত্তিক সেবার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সিন্থেটিক মাদক নিয়ে ভুল ধারণাও ঝুঁকি বাড়াচ্ছে
ইকবাল মাসুদ বলেন, সিন্থেটিক মাদক সম্পর্কে ব্যবহারকারীদের মধ্যে ভুল ধারণাও রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, এসব মাদক খুব বেশি ক্ষতিকর নয়। আবার কেউ এগুলোকে অনেকটা ওষুধ বা ফার্মেসিতে পাওয়া পণ্যের মতো মনে করেন।
ফলে ক্ষতির মাত্রা না বুঝেই অনেকে ব্যবহার চালিয়ে যান। দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসাও তখন কঠিন হয়ে পড়ে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, অ্যামফেটামিন-জাতীয় স্টিমুল্যান্ট ব্যবহারের সঙ্গে উদ্বেগ, বিষণ্নতা, ঘুমের সমস্যা, ক্ষুধা ও ওজন কমে যাওয়া, হৃদ্যন্ত্রের অনিয়ম, শ্বাসকষ্ট, মনোযোগ ও স্মৃতির সমস্যা তৈরি হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে সাইকোসিসের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসার পর কী হচ্ছে, তার হিসাব নেই
বাংলাদেশের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনব্যবস্থার বড় দুর্বলতা শুধু চিকিৎসাপদ্ধতিতে নয়। চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর কী হচ্ছে, সেখানেও।
ইকবাল মাসুদ বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি একটি কেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়ে বের হওয়ার পর এক মাস, ছয় মাস কিংবা এক বছর পর তিনি আবার মাদকে ফিরছেন কি না তা লক্ষ্য রাখা জরুরি। কিন্তু আমাদের দেশে এর কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি হিসাব রাখার ব্যবস্থা নেই। ফলে কোনো পুনর্বাসনকেন্দ্রের প্রকৃত সাফল্যের হারও নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।’
আরও পড়ুন: খেলার মাঠে খেলা নেই, বসে মাদকের আসর!
আহছানিয়া মিশনের পুনর্বাসন কেন্দ্রে কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘কয়েক বছর আগে আমাদের কেন্দ্রে আগের এক বছরে চিকিৎসা নেওয়া ব্যক্তিদের ওপর একটি মূল্যায়নে ৫৪ শতাংশকে তখন ভালো অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাদের কী হয়েছে বা দীর্ঘমেয়াদে কতজন মাদকমুক্ত থাকতে পেরেছেন, সেই তথ্য আর জানা যায়নি।’
এটাই বাংলাদেশের পুনর্বাসনব্যবস্থার অন্যতম বড় ফাঁক বলে মনে করেন চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক নির্দেশনাতেও মাদকনির্ভরতার ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদি চিকিৎসার বদলে দীর্ঘমেয়াদি, কমিউনিটিভিত্তিক ও রিকভারি-ওরিয়েন্টেড সেবা এবং ধারাবাহিক পরিচর্যার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পুনর্বাসনের পরও পুরোনো পরিবেশ বড় ঝুঁকি
অধ্যাপক অরূপ রতন চৌধুরীর মতে, বাংলাদেশে এখনো আন্তর্জাতিক মানের বা ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ পুনর্বাসনকেন্দ্রের ঘাটতি রয়েছে। তিনি বলেন, ‘একজন ব্যক্তি চিকিৎসা নিয়ে পরিবারের কাছে ফিরে গেলেও যদি আগের পরিবেশ, পুরোনো বন্ধুমহল এবং একই ধরনের মাদক সরবরাহব্যবস্থার মধ্যে ফিরে যান, তাহলে পুনরায় মাদকে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।’
এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, ‘মাদকাসক্তিকে সাধারণ কোনো রোগের মতো দেখলে হবে না। এটি দীর্ঘমেয়াদি মস্তিষ্কজনিত ও আচরণগত সমস্যা। তাই শুধু কিছুদিন ওষুধ খাওয়ানো বা একটি কেন্দ্রে রেখে মাদক বন্ধ করা যায় না। চিকিৎসার পাশাপাশি পরিবার, সামাজিক পরিবেশ, মানসিক স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনসহ সবকিছুকে একসঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে।’
ধরনের পরিবর্তনের সঙ্গে বদলাতে হবে চিকিৎসাও
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকের বিস্তার রোধে বাংলাদেশের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় দুটি পরিবর্তনের প্রয়োজন। প্রথমত, মাদকের বাজার কীভাবে বদলাচ্ছে তা লক্ষ্য রাখা। নতুন মাদক কোন পথে আসছে, কীভাবে বিক্রি হচ্ছে, কারা ব্যবহার করছে এবং পুরো নো মাদক ব্যবহারকারীদের মধ্যে কতজন নতুন মাদকে ঝুঁকছেন, এসব বিষয়ে নিয়মিত ও তথ্যভিত্তিক নজরদারি করা। দ্বিতীয়ত, সেই পরিবর্তনের সঙ্গে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনব্যবস্থাকেও মানিয়ে নিতে হবে। সিন্থেটিক মাদকের বিস্তার এক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন তারা।
অরূপ রতন চৌধুরী বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের কাজকে সাধারণত চাহিদা কমানো, সরবরাহ কমানো এবং ক্ষতি কমানো; এই তিনভাবে দেখা হয়। কিন্তু সিন্থেটিক মাদকের নতুন বাস্তবতায় তিন ক্ষেত্রেই নতুন কৌশল প্রয়োজন।’
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অনলাইন ও নতুন সরবরাহপথে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি পুনর্বাসনকেন্দ্রগুলোকে আধুনিক করতে হবে। একই সঙ্গে চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর রোগীর দীর্ঘমেয়াদি ফলোআপও নিশ্চিত করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মাদকের বাজার ইতোমধ্যেই বদলে গেছে। ইয়াবা-ফেনসিডিলের পাশাপাশি সেখানে জায়গা করে নিয়েছে আইস, এলএসডি, এমডিএমএসহ একের পর এক নতুন সিন্থেটিক মাদক। বদলেছে সরবরাহের পথও। সীমান্তের পাশাপাশি কুরিয়ার, ডার্কনেট, ক্রিপ্টোকারেন্সি, এমনকি স্থানীয় উৎপাদনের চেষ্টাও সামনে এসেছে।’
এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনব্যবস্থাও বদলানো জরুরি বলে জানান মাসুদ ইকবাল। তিনি বলেন, ‘মাদক গ্রহণকারী নারীদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়টি আরও জটিল। দেশে মাদক গ্রহণকারী নারীদের সংখ্যা ও চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। তাদের চিকিৎসার ঝুঁকি ও প্রক্রিয়াও তুলনামূলকভাবে বেশি জটিল। তাই নারী মাদকাসক্তদের নিয়ে আলাদাভাবে আরও গবেষণা ও কার্যকর চিকিৎসা-পুনর্বাসন ব্যবস্থা প্রয়োজন।’
এমএইচ/জেবি



















