সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তজুড়ে মাদকের সাম্রাজ্য, ৩ উপজেলা ঘিরে পাচারের জাল

আশিকুর রহমান মিঠু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২০ এএম

শেয়ার করুন:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তজুড়ে মাদকের সাম্রাজ্য, ৩ উপজেলা ঘিরে পাচারের জাল
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা, আখাউড়া ও বিজয়নগর উপজেলা ঘিরে ভারতের ত্রিপুরার সঙ্গে রয়েছে প্রায় ৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত। ছবি: ঢাকা মেইল

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা, আখাউড়া ও বিজয়নগর উপজেলা ঘিরে ভারতের ত্রিপুরার সঙ্গে রয়েছে প্রায় ৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত। এই সীমান্তজুড়ে বিজিবির দুই ব্যাটালিয়নের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান সত্ত্বেও থামছে না মাদকের অনুপ্রবেশ। প্রতিদিনই সীমান্ত ও মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ইয়াবা, ফেনসিডিল, হুইস্কি, স্কফ ও গাঁজাসহ নানা ধরনের মাদকের চালান ধরা পড়ছে।

তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, নজরদারি জোরদার করা হলেও পাচারকারীদের তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্ত দিয়ে আসা বিপুল পরিমাণ মাদকের চালান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাদক পাচারের ট্রানজিট রুট হচ্ছে কসবা উপজেলা। এই উপজেলার বায়েক এবং কাইমপুর ইউনিয়নের সীমান্ত পথেই প্রবেশ করছে মাদকের বড় চালান। সীমান্তের বায়েক ইউনিয়নের মাদলা, খাদলা, গৌড়াঙ্গলা, কৈ-খলা, কোল্লা পাথরসহ বেশ কয়েকটি পয়েন্টে পাহাড়ি টিলা ভূমির পাশ দিয়ে মাদক কারবারিরা কাঁটাতারের বেড়ার নিচ দিয়ে ভারত থেকে বস্তায় করে বিপুল পরিমাণ মাদকের চালান বাংলাদেশে নিয়ে আসছে। এসব মাদক এনে তারা প্রথমে সীমান্তবর্তী পাহাড়ি টিলা ভূমি অঞ্চলের কাছাকাছি পরিত্যক্ত বাড়িগুলোতে জড়ো করে। পরে সুযোগ বুঝে বিভিন্ন যানবাহন বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, রিকশা এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে আশপাশের গ্রামীণ বাজারগুলোতে তাদের নির্দিষ্ট গোডাউনে জড়ো করে। এরপর রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হয়।

মাদকের চালানের সঙ্গে শাড়ি, থ্রি-পিস বিভিন্ন ধরনের কসমেটিকস, সুগন্ধি চাল, কিসমিস, এলাচ-দারুচিনিসহ বিভিন্ন মসলা এবং মোবাইলের ডিসপ্লে চোরাইভাবে আমদানি করা হচ্ছে।

একই চিত্র কসবা উপজেলার সীমান্তবর্তী অপর ইউনিয়ন কাইমপুরের চকবস্থা, সুবিধাপুর, জাজিসার গ্রামের। এই সীমান্তের অন্যতম প্রধান মাদক কারবারি হচ্ছেন বাদশা জুয়েল ও লেংড়া বাছির। উপজেলার এই শীর্ষ দুই মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কসবাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তবু তারা রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। অভিযোগ আছে, বাদশা জুয়েল ও লেংড়া বাছির সবদিক ম্যানেজ করেই চলেন। যার কারণে পুলিশসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কেউ  তাদের ধারে কাছেও যান না। মাদক পাচারের সঙ্গে সীমান্ত লাগোয়া কসবা সদরের খাড়পাড়া, বায়েক ও কাইমপুর এলাকার শতাধিক মাদক পাচারকারীকে নিয়ন্ত্রণ করেন তারা। তাদের ইশারায় চলে কসবার মাদক সাম্রাজ্য।

এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম-সিলেট রেলপথ একেবাড়ে সীমান্ত ঘেষা। এই রেলপথের সীমান্ত লাগোয়া কসবা স্টেশন, মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশন, ইমামবাড়ী ও সীমান্তবর্তী সালদা স্টেশনে বিভিন্ন আন্তঃনগর ও লোকাল ট্রেন থামে। এসব স্টেশন থেকে মাদকের বড় চালানগুলো সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে চলে যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।

সীমান্তবর্তী অপর উপজেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া। এই উপজেলা মোট ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এই উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাড়াও মনিয়ন্দ ও মোগড়া ইউনিয়ন একেবারে সীমান্ত ঘেষা। এর মধ্যে আখাউড়া উত্তর ইউনিয়নের রাজাপুর, আজমপুর, আনোয়ারপুর, কুঁড়ি পাইকা, হীরাপুর, কল্যাণপুর, চাঁনপুর, আব্দুল্লাপুর, ধলেশ্বর ও আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের বাউতলা, উমেদ নগর, মোগড়া ইউনিয়নের কর্নেল বাজার, মনিয়ন্দ ইউনিয়নের ঘাঘুটিয়া, শিবনগর এলাকা মাদক পাচারের ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, আখাউড়ার মাদক কারবারিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- বড় লৌহঘরের খলিল মিয়া, ছোট কুড়িপাইকার জয়নাল আবেদীন, সবুজ হোসেন, হীরাপুরের আব্দুল্লাহ, সুমন, কাপ্তান, জামাল, নুরপুরের শাহজাহান, মো. আলম, রাজাপুরের নাসির, ধলেশ্বরের কিবরিয়া, মোগড়ার বাবু, আমোদাবাদের রোমান, মোবারক, কালু ও করিম।

জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তবর্তী অপর উপজেলা বিজয়নগর। এই উপজেলার সিংগারবিল ইউনিয়নের কাশিনগর ও নলগড়িয়া গ্রামে রয়েছে মাদক ব্যবসায়ীদের ৬২টি হটস্পট। এসব স্পট থেকে যোগাযোগব্যবস্থা ভালো থাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক হয়ে রাজধানীর ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার হচ্ছে মাদকের বড় বড় চালান। এছাড়া বিষ্ণুপুর, পাহাড়পুর, হরষপুর, চান্দুরা, ইছাপুরা, চম্পকনগর ইউনিয়নগুলো একেবারে ভারত সীমান্ত ঘেষা। এই উপজেলা থেকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অতি কাছে হওয়ায় মাদকের ট্রানজিট রুট বলা হয় বিজয়নগরকে।

পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে থাকা তালিকা অনুযায়ী, বিজয়নগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকজন ব্যক্তি মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তালিকায় সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের মেরাশানী গ্রামের জসিম খান, ইকবাল খান ও বাবুর নাম রয়েছে। একই ইউনিয়নের নলগড়িয়া গ্রামের হাবির, আল আমিন, সেন্টু ও ঝান্টু এবং কাশিনগর গ্রামের কালা জসিম, জগলু, ডিসপ্লে লিটন, জয়, জালাল আমিন, বিল্লাল, জাহানারা জানু, আলমগীর হোসেন ও পল্টুর নামও রয়েছে।

এ ছাড়া সিঙ্গারবিল মধ্যপাড়ার পরাণ, আল আমিন, ইকবাল হোসেন ও জহির এবং চাউরা এলাকার এমরান, জসিম ও কালুর নাম তালিকায় রয়েছে। পাহাড়পুর ইউনিয়নের চানপুর গ্রামের আব্দুল হক, খাটিংগার নিজাম, শফিক, শাহ আলম ও জাহাঙ্গীরকেও মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

চান্দুরা এলাকার আলা দাউদপুরের আব্দুর রহিম ও তার ছেলে শাহ আলম, জালালপুরের আনোয়ার হোসেন, আক্তার হোসেন, মাসুক মিয়া ও ফজলুর রহমান (বজলু), বিষ্ণুপুরের ইকরতলীর রায়হান ও অন্তর, কালাছড়ার মানটু, বাবু ও হরমুজের নামও রয়েছে ওই তালিকায়। এ ছাড়া কাশিমপুর এলাকার হাফিজুল, এনামুল, কাকলী, সোহাগ ও মাল্লা এবং পওন ইউনিয়নের কেশবপুরের আলেয়া বেগম, বাবু মিয়া, হানিফ, মহিকুল্লা, লিলুমিয়া, আমিন ভূইয়া ও নাদিম মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে এসব মাদক কারবারির বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মাদক মামলা থাকলেও তাদের অনেকের সঙ্গেই থানা পুলিশের রয়েছে বেশ সখ্য। পুলিশের চিহ্নিত মাদক কারবারিদের সঙ্গে ওঠাবসা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে নানা গুঞ্জনও।

দেশের পূর্বাঞ্চলের অভ্যন্তরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা থেকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এবং সিলেট-চট্টগ্রাম মহাসড়কগুলো মাদক পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। এর মধ্যে অভিনব কায়দায় পাচারকালে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ চোরাই পণ্যের চালান ধরা পড়ছে, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশের হাতে। এর মধ্যে কখনো পাথরবাহী ট্রাকের পাথরের নিচে, কখনো মাছের পোনাবাহী ড্রামের নিচে। রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইকের সিটের তলায়। এর মধ্যে গাঁজা, ইয়াবা অন্যতম।

বিজিবি'র তথ্য অনুযায়ী, জেলার সীমান্তবর্তী বিজয়নগর উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সাতবর্গ, ইসলামপুর এবং চান্দুরা এলাকায় ধরা পড়ছে সবচেয়ে বড়-বড় গাঁজার চালান। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ টোল প্লাজা চেক পোস্টে ধরা পড়ছে মাদকসহ চোরাচালানি অনেক পণ্য।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সর্বশেষ দক্ষিণের সীমান্ত কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের নয়নপুর বাজার। এই বাজারের পাশেই রয়েছে কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাঘড়া বাজার। বাজার দুটি দুই জেলার সীমান্তবর্তী সালদা নদী আলাদা করলেও চোরাকারবারিদের জন্য বাজার দুটি একীভূত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের নয়নপুর বাজারে মাদক চোরাকারবারিদের একাধিক গোডাউন রয়েছে। এসব গোডাউনে মাদকের পাশপাশি চোরাইপণ্য শাড়ি, থ্রি-পিস বিভিন্ন ধরনের মসলা সীমান্তের ওপার থেকে পাচার করে এনে এই বাজারের গুদামগুলোতে রাখা হয়। এখান থেকে মাদকসহ বিভিন্ন চোরাই পণ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হয়। সম্প্রতি বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চোরাইপণ্য ভর্তি পিকআপভ্যান নয়নপুর বাজারে বিজিবি আটক করে। এই পণ্য আটককে কেন্দ্র করে চোরকারবারি এবং বিজিবির মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত চোরাকারবারিরা মব সৃষ্টি করে পিকআপ ভ্যানটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় কসবা থানায় মামলা হয়।

সীমান্তবর্তী এ বাজারটি মাদক পাচার ও চোরাকারবারিদের জমজমাট হাট হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, মাদক পাচারের বিপুল অর্থের লেনদেন হচ্ছে বিকাশ, রকেট, নগদ, উপায়সহ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং এবং ভারতের জি-পে, ফোনপে, পেটিএমসহ অনলাইন আর্থিক সেবার মাধ্যমে। এসব মাধ্যমে দেশে-বিদেশে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হলেও এর বড় অংশই থেকে যাচ্ছে নজরদারির বাইরে। শুধু কসবার নয়নপুর বাজারেই নয়, গোপীনাথপুর, ধ্বজনগর, চণ্ডীদ্বার ও পাথারিয়া দার বাজারসহ আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ, মোগড়া, কর্ণেল বাজার ও গাজীর বাজারেও একই চিত্র দেখা যায়। বিজয়নগর উপজেলার সীমান্তবর্তী সিঙ্গারবিল, আওলিয়া বাজার ও চম্পকনগর বাজারের চিত্রও অভিন্ন। বিশ্লেষকদের মতে, এসব এলাকার মোবাইল ব্যাংকিংয়ের দোকানগুলোর লেনদেন ও সংশ্লিষ্ট হিসাব খতিয়ে দেখলে মাদক ও চোরাচালানের অর্থের প্রবাহ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল-২৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক জাব্বার আহমেদ ঢাকা মেইলকে বলেন, সীমান্তের বৈরী পরিবেশ-কাদামাটি, পানি ও দুর্গম পথ পেরিয়েই মাদক কারবারিরা বিভিন্নভাবে মাদকের চালান দেশে নিয়ে আসে। তবে তারা নিজেরা সরাসরি মাদক বহন করে না; অনেক সময় ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের ব্যবহার করা হয় বাহক হিসেবে। এসব বহনকারীকে আটক করতে গেলে তারা দ্রুত মাদক ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যায়। ফলে অনেক সময় তাদের আটক করা সম্ভব হয় না। তিনি বলেন, সীমান্তে বিজিবির অবস্থান ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। দেশে কোনো ধরনের মাদক বা চোরাচালানি পণ্য প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ ঢাকা মেইলকে বলেন, সীমান্ত পার হয়ে বিভিন্ন মাদক আমাদের চেকপোস্টগুলোতে এসে ধরা পড়ছে। আমরা গোপনে তথ্য পেলে অভিযান পরিচালনা করে মাদক উদ্ধার করি। বড় বড় চালানগুলো দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায়। আমরা যখন অভিযান করি অনেক সময় আমরা ব্যর্থ হই। কারণ মাদক কারবারিদের অনেক বড় চক্র নজরদারি করে থাকে। তারা সিসি ক্যামেরা দিয়ে দূর থেকেও নজরে রাখে আমাদের ওপর। সেখানে আমাদের অনেক সময় ব্যর্থ হতে হয়। এসব কিছু উপেক্ষা করেই আমরা অভিযান পরিচালনা করি। আমরা প্রায়ই অভিযান করে সিসি ক্যামেরাসহ ডিবিআর জব্দ করেছি। আমরা আগামীতে সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে একসাথে করে টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করে মাদকের হটস্পটগুলো বন্ধের জন্য কাজ করব।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য, জেলা বিএনপির সভাপতি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল ঢাকা মেইলকে বলেন, সংসদেও আমি আমার এলাকার মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। সমস্যা হচ্ছে, তারা এত বেশি শক্তিশালী তাদের ধরা পুলিশের পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠছে না।

সংসদ সদস্য বলেন, চব্বিশের ৫ আগস্টের পর পুলিশের যানবাহন সংকটের পাশাপাশি তাদের মনোবলও কমে গেছে। আমি প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি, বিশেষ করে তারা যেন বিজয়নগর এলাকায় আরও দুটি পুলিশ ফাঁড়ি দেয় এবং পুলিশের সংখ্যা বাড়ায়। পুলিশ এ বিষয়ে কাজ করছে বলে আমাকে নিশ্চিত করেছে।

খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, মাদকের প্রভাব এখন যে পর্যায়ে চলে গেছে, এটা প্রশাসনের সঙ্গে সঙ্গে সামজিকভাবে প্রতিরোধ করতে হবে। আমরা ইতোমধ্যে বিজয়নগরসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বিভিন্ন জায়গায় মাদকবিরোধী সমাবেশ করেছি। জনসচেতনতা বাড়াতে আরও সমাবেশ করব।

প্রতিনিধি/জেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর