যশোরে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা

বঙ্গবন্ধুকন্যার কাছে দুই দাবি যশোরবাসীর 

জেলা প্রতিনিধি
যশোর
প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর ২০২২, ১১:৫৯ এএম
বঙ্গবন্ধুকন্যার কাছে দুই দাবি যশোরবাসীর 
ছবি : ঢাকা মেইল

যশোরে বঙ্গবন্ধুকন্যার আগমনকে ঘিরে তার কাছে দীর্ঘদিনের দুটি প্রাণের দাবির কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তা হলো—যশোর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা এবং যশোর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিকে রূপান্তর করা।

প্রায় ২৪০ বছরের পুরোনো জনপদ যশোর। ১৭৮১ সালে জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। যশোর পৌরসভা হয়েছে ১৮৬৪ সালের ১ আগস্ট, তাও ১৫৭ বছর আগে। সেই সময়ের যশোর পৌর সমিতি স্বাধীনতার পর পৌরসভার মর্যাদা পায়। ইতিহাসের সাক্ষী এই পৌর শহর ১৪ দশমিক ৭২ বর্গকিলোমিটার, লোকসংখ্যা ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৯১৪।

ব্রিটিশরা ১৯৪২ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জড়ালে যশোরে একটি বিমানঘাঁটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ছয় মাসের মধ্যে সেটি চালু হয়। ঘাঁটিটি ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত সচল ছিল। ব্রিটিশদের কাছ থেকে পাকিস্তান স্বাধীন হলে ১৯৫০ সালে যশোরে ফের বিমানঘাঁটি স্থাপন করে। তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান আমলে ১৯৫৬ সালে যশোরে একটি পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা চালু হয় ১৯৬০ সালে। সেটিই যশোর বিমানবন্দর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

যশোরবাসী বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে যশোর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিকে রূপান্তর করা এবং পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ, যশোরকে বিভাগ করা, ভৈরব নদ সংস্কার, ভবদহে জোয়ারাধার চালুসহ আরও কিছু দাবিও রয়েছে তাদের।

এর আগে ২০১২ সালে শহরের ঈদগাহ মাঠে আওয়ামী লীগের এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাষণ দেন। সে সময় দাবিগুলো সামনে আসে। এবারও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার এই জনসভাকে নিয়ে স্বপ্নে বুক বাঁধছেন স্থানীয়রা।

বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বেশ কয়েকজন মানুষের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, পৌরসভাটি সিটি করপোরেশন হলে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বাড়বে। পদ্মা সেতু ও মধুমতি সেতু নির্মাণসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হওয়ায় এটি এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যখন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তখন এটি আজ হোক আর কাল হোক বাস্তবায়ন হবেই।  

তারা আরও বলেন, যশোরসহ এই অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক মানুষ চিকিৎসাসহ নানা প্রয়োজনে প্রতিবেশী ভারতে নিয়মিত যাতায়াত করে থাকেন। আকাশপথে দেশটিতে যেতে হলে রাজধানী ঢাকা হয়ে যেতে হয়। এমতাবস্থায় যশোর বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক করা হলে এসব মানুষ উপকৃত হবে।

অন্য দাবিগুলোর মধ্যে যশোর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল হয়েছে। তবে হাসপাতালটি ২৫০ শয্যা থেকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার দাবি রয়ে গেছে। বেশ কিছু উন্নয়ন কাজ হওয়ায় এবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৫০০ শয্যার হাসপাতালের ঘোষণা প্রত্যাশা করছেন যশোরের মানুষ। এ ছাড়া অন্য দাবিগুলোও তিনি আগামীতে নজরে আনবেন বলে মনে করেন তারা।

বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি ও জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতির যশোর জেলা সভাপতি সাকির আলীর মতে, যশোর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন করার দাবি দীর্ঘদিনের। এটি হলে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্যাক্স ফি বাড়বে। তবুও আমাদের আকাঙ্ক্ষা সিটি করপোরেশন হোক। আর যশোর থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ ভারতে যান, সে কারণে বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক করা হলে মানুষের উপকার হবে।

জাসদের কার্যকরী কমিটির সভাপতি ও আইনজীবী রবিউল আলম বলেন, এই মুহূর্তে যশোর মেডিক্যাল কলেজের হাসপাতালটি ৫০০ শয্যা করা, ভবদহ সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং শ্রমজীবী মানুষের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। আর যশোর বিভাগ হলে স্বাভাবিকভাবেই পৌরসভাটি সিটি কর্পোরেশন হয়ে যাবে।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ বলেন, বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক করা, হাসপাতালটি ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা, যশোর ও আশেপাশের ১০ কিলোমিটারের রাস্তাগুলো চার লেনে উন্নীত করা এবং পুরানো ম্যাপ অনুযায়ী ভৈরব নদের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।

জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু বলেন, জরুরিভিত্তিতে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল, ভবদহ সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং জীবন্ত ভৈরব নদ চাই। বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক হলে ভালো হয়।

প্রতিনিধি/এইচই

টাইমলাইন