সিলেট-জকিগঞ্জ রোডে এখনও পানি, ভোগান্তি চরমে

জেলা প্রতিনিধি
সিলেট
প্রকাশিত: ২৫ জুন ২০২২, ০২:৪৮ পিএম
সিলেট-জকিগঞ্জ রোডে এখনও পানি, ভোগান্তি চরমে

স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত দেশের পূর্বাঞ্চলের জেলা সিলেট। উজান থেকে আসা পানি ও টানা বৃষ্টিপাতের কারণে এই জেলার সঙ্গে দেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল।

বর্তমানে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও সিলেট-জকিগঞ্জ রোডের পানি এখনও নামেনি। তাই এই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পরেছে। রাস্তায় তৈরি হয়েছে খানাখন্দ। রাস্তায় বন্যার পানি জমে থাকার কারণে গভীরতা বোঝা যায় না। এই সড়কটিতে এখন শুধুমাত্র বড় বাস, ট্রাক্টর, পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন চলতে পারছে না। যারা জরুরি প্রয়োজনে বের হন তাদের ভোগান্তিতে পরতে হচ্ছে। ভাড়া হিসেবে দুই থেকে তিনগুণ অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে তাদের। ফলে এই এলাকা দিয়ে চলাচলকারীদের ভোগান্তি এখন চরমে।

সরজমিনে দেখা যায়, সিলেটের গোলাপগঞ্জ থেকে চারখাই নামক স্থানে ট্রাক্টরে করে যাত্রীরা যাতায়াত করছেন। এতে চরম কষ্টের মধ্যে পড়তে হচ্ছে নারী যাত্রীদের। অন্য গাড়িগুলো চলাচল না করায় ট্রাক্টরে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করেন তারা।

চারখাইগামী ফাহিম আহমদ নামের এক যাত্রী ঢাকা মেইলকে জানান, তিনি গোলাপগঞ্জ থেকে চারখাই যাবেন। রাস্তায় বাস ও ট্রাক্টর পিকআপ/কাভার্ড ভ্যান ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। তাই ট্রাক্টরচালকরা এই সুযোগটা কাজে লাগাচ্ছে। গোলাপগঞ্জ থেকে চারখাই ভাড়া মাত্র ৩০ হলেও বর্তমানে তাদের এরচেয়ে দুই/ তিনগুণ ভাড়া বেশি দিয়ে যাওয়া লাগছে।

এবিষয়ে নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক এক ট্রাক্টরচালক জানান, বর্তমানে সড়কের যা অবস্থা সেখানে কোনো গাড়ি চলাচলের উপযোগী নয়। তেলের দাম বেশি বলেই তারা বেশি ভাড়া নিচ্ছেন।

সিলেট জেলা বাস মিনিবাস, কোচ, মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মুহিম ঢাকা মেইলকে জানান, এই রোড গাড়ি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এই রাস্তায় বর্তমানে গাড়ি চলাচল করলে গাড়ির ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা থাকে। তারপরও জন ভোগান্তির কথা চিন্তা করে শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে কিছু বাস চালু রাখা হয়েছে। তবে তা পর্যাপ্ত নয়। এরজন্য ট্রাক্টরচালকরা এই সুযোগটা নিচ্ছে। তবে কোনো বাস যদি নিয়মের বেশি ভাড়া নেয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গোলাপগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. গোলাম কবির ঢাকা মেইলকে জানান, এই সময়ে নৌকা ভাড়া বা বাস ভাড়া নিয়ে যা হচ্ছে তা দুঃখজনক। এই বিষয়গুলো সবসময় তদারকি করা সম্ভব হয় না। বিষয়টি এখন জানলাম, এবার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টিবি

টাইমলাইন