গাইবান্ধায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি, বিশুদ্ধ পানি-খাদ্য সংকট

জেলা প্রতিনিধি
গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ২১ জুন ২০২২, ১২:০২ পিএম
গাইবান্ধায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি, বিশুদ্ধ পানি-খাদ্য সংকট

উজান থেকে মেনে আসা ঢলে গাইবান্ধার সবগুলো নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এসব মানুষদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যাভাব।

মঙ্গলবার (২১ জুন) সকাল ৯টায় গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কন্ট্রোলরুম থেকে জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ি পয়েন্টে ১১ সেন্টিমিটার ও ঘাঘট নদের পানি সদর পয়েন্টের ৩৭ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া করতোয়ার পানি চক রহিমাপুর পয়েন্টে ১১৩ সেন্টিমিটার ও তিস্তার পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জানা যায়, গাইবান্ধা জেলার ৪ উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলোতে বন্যার আঘাত হানতে শুরু করেছে। উজানের পানির প্রভাবে ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া, উড়িয়া ইউনিয়নের ভূসির ভিটা, উত্তর উড়িয়া, রতনপুর, কালাসোনা, ফজলুপুর ইউনিয়নের পূর্ব খাটিয়ামারী, পশ্চিম খাটিয়ামারী, মধ্য খাটিয়ামারী সদরের কামারজানি, মোল্লাচর, কুন্দেরপাড়া ও  সুন্দরগঞ্জ উপজেলার একাধিক চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এর ফলে ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এছাড়া সাঘাটা উপজেলার ভরখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আরও কিছু সংখ্যাক শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও থৈথৈ করছে পানি। সেই সঙ্গে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। বন্যা কবলিত ওইসব এলাকার কৃষি ফসল নষ্ট হওয়াসহ যোগযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।

gaibanda

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছে নদীতীরের মানুষ। নদীর পানি বৃদ্ধি ও ভাঙনে কেউ কেউ আশ্রয় নিতে শুরু করছে বাঁধ ও স্বজনদের বাড়িতে। পানির চাপে কয়েকটি বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। বন্যাদুর্গত পরিবারে বিশুদ্ধ পানিসহ খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। তারা ত্রাণসামগ্রীর জন্য বিভিন্ন দিকে ছুটাছুটি করছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান জানান, আরও কয়েকদিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। নদ-নদী ভাঙন ঝুঁকিতে থাকা ও ভাঙন কবলিত স্থানগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং কোনো কোনো স্থানে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে।

গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ ও পুর্ণবাসন কর্মকর্তা এসএম ফয়েজ উদ্দিন জানান, এ পর্যন্ত ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। বন্যার্ত মানুষদের জন্য ৮০ মেট্রিকটন জিআর চাল ও নগদ ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। ইতোমধ্যে এসব বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

টিবি

টাইমলাইন