লালমনিরহাটে দুর্ভোগে পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ

জেলা প্রতিনিধি
লালমনিরহাট
প্রকাশিত: ২১ জুন ২০২২, ০১:৫১ পিএম
লালমনিরহাটে দুর্ভোগে পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ

ভারী বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে লালমনিরহাটে বৃদ্ধি পেয়েছে নদীর পানি। বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ। গতকাল থেকে চলাচলের রাস্তা ডুবে যাওয়ায় শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবসহ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এসব মানুষ। তবে তিস্তায় পানির পরিমাণ কমতে শুরু করলেও এখনো পানিবন্দি রয়েছেন তারা।

তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধিতে জেলার পাটগ্রামের দহগ্রাম, হাতীবান্ধার গড্ডিমারী, দোয়ানী, ছয়আনী, সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজ শেখ সুন্দর, বাঘের চর, ফকিরপাড়া ইউপির রমনীগঞ্জ, সিঙ্গামারি ইউনিয়নের ধুবনী, সিন্দুর্না ইউপির পাটিকাপাড়া, হলদিবাড়ী, ডাউয়াবাড়ী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, শৈইলমারী, নোহালী, চর বৈরাতি, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, কালমাটি, পলাশী ও সদর উপজেলার ফলিমারীর চর, খুনিয়াগাছ, কুলাঘাট, মোগলহাট, বড়বাড়ি, রাজপুর, গোকুণ্ডা ইউনিয়নের তিস্তা নদীর পানি প্রবেশে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর, ২ নম্বর ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চর সিন্দুর্না এলাকায় দেখা দিয়েছে ভাঙন। গত সপ্তাহে বেশ কয়েকটি বসতভিটা নদীর গর্ভে বিলীন হয়েছে।

উপজেলার চরসিন্দুর্না গ্রামের জরিনা খাতুন (৪০) জানান, তিস্তার পানি এসে ঘরবাড়ির সবকিছু ভেসে গেছে। কিছু মালামাল আটক করে নৌকায় করে এপারে নিয়ে এসেছি। মুরগি ছাগল সবকিছুই ভেসে গেছে। জায়গা জমি নাই। স্থানীয় হাটখোলায় বাজারে মানুষের জমিতে আশ্রয় নিয়েছি।

আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচার চরের বাসিন্দা আব্দুল কাউয়ুম বলেন, কয়েকদিন থেকে পানিবন্দি অবস্থায় আছি। গতকাল থেকে আবারও পানি বেড়ে রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। গরু ছাগল নিয়ে খুব মুশকিলে পড়ছি।

বন্যার্তদের খোঁজ নিতে গতকাল রাতে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর লালমনিরহাট সদর এবং আদিতমারী উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি এসময় সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, গতকাল ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও সকাল থেকে তা বিপৎসীমা বরাবর প্রবাহিত হচ্ছে। পানি ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত রয়েছি।

টিবি

টাইমলাইন