লালমনিরহাটে ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি

জেলা প্রতিনিধি
লালমনিরহাট
প্রকাশিত: ১৯ জুন ২০২২, ১২:৩৮ পিএম
লালমনিরহাটে ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি

লালমনিরহাটে তিস্তা, ধরলা ও রত্নাই, সানিয়াজান, স্বর্ণামতি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে তিস্তা ও ধরলা দুই নদীর পানিই এখন বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে জেলায় দশ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

রোববার (১৯ জুন) সকালে জেলায় তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১২ সেমি ও শিমুলবাড়ী পয়েন্টে ধরলার পানি বিপৎসীমার ৯ সেমি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

লালমনিরহাট জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিস্তা ও ধরলার পানি বৃদ্ধি ও জেলার পাটগ্রামের দহগ্রাম, হাতীবান্ধার গড্ডিমারী, দোয়ানী, ছয়আনী, সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজ শেখ সুন্দর, বাঘের চর, ফকিরপাড়া ইউপির রমনীগঞ্জ, সিঙ্গামারি ইউনিয়নের ধুবনী, সিন্দুর্না ইউপির পাটিকাপাড়া, হলদিবাড়ী, ডাউয়াবাড়ী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, শৈইলমারী, নোহালী, চর বৈরাতি, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, পলাশী ও সদর উপজেলার ফলিমারীর চর খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুণ্ডা ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ প্রায় দশ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। হাঁটু থেকে কোমর পানিতে বন্দি এসব লোকজন রান্না করতে পারছেন না। রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় চলাচলসহ স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে না পারায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এসব এলাকার মানুষ। স্কুল কলেজ ডুবে যাওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে। শুকনো খাবার ও নিরাপদ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়াও পোষাপ্রাণী গরু, ছাগল, হাস মুরগী নিয়েও অসহায় হয়ে পড়েছেন লোকজন।

lalmonirhat

হাতিবান্ধা ফকির পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলার রহমান খোকন জানান, গত দুইদিন ধরে প্রায় ১ শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এখন পর্যন্ত কোনো ত্রাণ সহায়তা পাওয়া হয়নি।

আদিতমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মফিজুল ইসলাম জানান, উপজেলার মহিষখোচা, দুর্গাপুর ইউনিয়নের পানিবন্দী লোকজনের তালিকা করে সাহায্য করা হচ্ছে। বন্যাদুর্গতদের সকল সহযোগিতা অব্যাহত আছে।

লালমনিরহাট জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, গতকালের চেয়ে আজ তিস্তা ও ধরলার পানি বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। নদী ভাঙন রোধে বিভিন্ন যায়গায় জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। এছাড়াও জরুরি প্রয়োজনে যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফর বলেন, বন্যা কবলিত জেলার পাঁচ উপজেলায় ১৫০ মে. টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার তা বিতরণ ও শেষ হয়েছে। বন্যা কবলিত যেসব এলাকা আছে সেগুলোতে শুকনো খাবার বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

টিবি

টাইমলাইন