দুর্ভোগ বেড়েছে কুড়িগ্রামের বানভাসী মানুষের 

জেলা প্রতিনিধি
কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ২০ জুন ২০২২, ১২:৩৯ পিএম
দুর্ভোগ বেড়েছে কুড়িগ্রামের বানভাসী মানুষের 

কুড়িগ্রামে ভারী বর্ষন আর পাহাড়ি ঢলে ৯ উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি। গত ৮ দিন ধরে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন দুর্ভোগে পড়া ৪২০ চরাঞ্চলের বাসিন্দারা।

এদিকে, হু হু করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শুধু মানুষেরই দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়নি, গো খাদ্য সংকটে গৃহ পালিত পশু পাখির জীবন রয়েছে নানান সংসয়ে। বন্যার পানি যতই বাড়ছে বানভাসি মানুষগুলোর দুর্ভোগ আরও দীর্ঘতর হচ্ছে।

সোমবার (২০ জুন) সকালে ব্রহ্মপূত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৫১ সেন্টিমিটার ও নুনখাওয়া পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার এবং ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে ৪৪ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। তবে কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি এখনো বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

kurigram

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গতকাল ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদীর পানি বরাবরই বেড়ে চলছে। অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির কারণে নাগেশ্বরী বামনডাঙ্গার দুধকুমার নদী রক্ষা বাঁধটি স্রোতে ভেঙে সহজেই প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন গ্রাম।

কদমতলা গ্রামের হযরত আলী বলেন, ‘বাড়িতে বন্যার পানি ওঠায় গবাদিপশু নিয়ে উঁচু সড়কে এসেছি। আমাদের সঙ্গে সঙ্গে গরুগুলোরও খুব কষ্ট। এখন রাস্তায় থাকা লাগবে বাড়ি থেকে পানি নেমে গেলে তার পর বাড়ি যাবো।’

কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মঞ্জুর-এ-মোর্শেদ জানান, বন্যার্তদের সহযোগিতায় মেডিকেল টিমের সদস্যরা বন্যা কবলিত এলাকায় পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, খাবার স্যালাইন, কলেরা স্যলাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র দিয়ে সহযোগিতা করছে।

kurigram

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, নাগেশ্বরীতে বেরী বাঁধের ৫০ মিটার ওয়াস আউট হয়ে গেছে। এছাড়া দুধকুমর নদীর কালিগঞ্জ, বামনডাঙ্গা ও ধাউরারকুটি এলাকায় বাঁধ ঝুকির মধ্যে রয়েছে। এই এলাকায় ৪৮ কিলোমিটার বাঁধ মেরামতের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরে কাজ শুরু করা হবে। বন্যার পানি আরও তিনদিন বাড়তি থাকবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, বন্যার প্রস্তুতি হিসেবে জেলা প্রশাসক দপ্তরে একটি সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সকল দপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রতিদিনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রদান করতে বলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২০ লাখ টাকা এবং ৪০৭ মেট্রিক টন চাল মজুদ রয়েছে। এছাড়াও আরও ৫০০ মেট্রিক টন চাল ও ২০ লাখ টাকার চাহিদা দেওয়া হয়েছে। আমাদের যথেষ্ট ত্রাণ ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান তিনি।

টিবি

টাইমলাইন