রোববার, ৬ এপ্রিল, ২০২৫, ঢাকা

গারো পাহাড়ের ‘গজনী অবকাশে’ পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়

মো. নাঈম ইসলাম, শেরপুর
প্রকাশিত: ০২ এপ্রিল ২০২৫, ০১:০৬ পিএম

শেয়ার করুন:

loading/img

ঈদের ছুটিতে স্বজনদের নিয়ে বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে ভিড় করছেন পর্যটকরা। শেরপুরের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর অন্যতম আকর্ষণ গারো পাহাড়ের ‘গজনী অবকাশ কেন্দ্র'। শেরপুরসহ আশপাশের জেলা থেকে পর্যটকরা আসছেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি গজনী অবকাশ কেন্দ্রে। এদিকে পর্যটন কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে জেলা পুলিশ।

ভারতের মেঘালয় ঘেঁষা এ পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে। সকাল থেকে পর্যটকরা ঘুরতে আসছেন বিনোদনের জনপ্রিয় এই স্পটে। কেউ আসছেন পরিবার নিয়ে, কেউ আসছেন একা আবার কেউ আসছেন বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে দল বেঁধে। টানা তিনদিন এমনই চিত্র দেখা গেছে।


বিজ্ঞাপন


Gojne.

পাহাড় টিলা আর সমতল ভূমিতে সবুজের সমারোহ এখানে। এই পর্যটন কেন্দ্রের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য খুব সহজেই আকৃষ্ট করে আগত পর্যটকদের। প্রকৃতি এখানে প্রতিনিয়ত হাতছানি দিয়ে ডাকে। শাল, গজারি, সেগুন, ছোট-বড় মাঝারি টিলা, লতাপাতার বিন্যাস প্রকৃতি প্রেমিদের নিশ্চিত দোলা দিয়ে যায়। এখানে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পাহাড়ের বুকজুড়ে তৈরি সুদীর্ঘ ওয়াকওয়ে। পায়ে হেঁটে পাহাড়ের স্পর্শ নিয়ে লেকের পাড় ধরে হেঁটে যাওয়া যায় এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে। পড়ন্ত বিকেলে ছোট ছোট নৌকায় করে ঘোরার জন্য রয়েছে লেক। রয়েছে লাভ সেল্ফি ও সেল্ফি ব্রিজ। লেকের ওপর দিয়ে বানানো হয়েছে ভাসমান সেতু। লেকের বুকে নৌকায় চড়ে পাহাড়ের পাদদেশে কফি আড্ডা আর গান এখানে আগত দর্শণার্থীদের জন্য অন্যরকম অভিজ্ঞতা তৈরি করে।

গারো মা ভিলেজেও ছোঁয়া লেগেছে নতুনত্বের। মাশরুম ছাতার নিচে বসে বা পাখি ব্রেঞ্চে বসে পাহাড়ের ঢালে আদিবাসীদের জীবনযাত্রা, দিগন্ত জোড়া ধানখেত আর পাহাড়ি জনপদের ভিন্ন জীবনমান উপভোগ করা যাবে খুব সহজেই। আগত শিশু দর্শণার্থীদের জন্য চুকুলুপি চিলড্রেনস পার্কের পাশাপাশি এবার নতুন যুক্ত হচ্ছে শিশু কর্নার। এসব দৃশ্যাবলি দেখতে ঈদের লম্বা ছুটিতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

আরও পড়ুন

রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলোয় উপচে পড়া ভিড়

সরেজমিনে দেখা গেছে, গজনী অবকাশের বিভিন্ন রাইডে মধুময় স্মৃতিগুলো কেউবা তুলছেন সেলফি, কেউবা নিজ ও প্রিয়জনের ছবি ক্যামেরাবন্দী করছেন নিজের মোবাইল ফোনে। চুকুলুপি চিলড্রেনস পার্ক ছিল সকাল থেকেই মুখরিত। শিশুদের ভিড় বেড়ে যাওয়ায় পার্কের ফটকে লম্বা লাইন দেখা যায়। এসময় শিশুদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে এ শিশু পার্কটি।

এবার সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে গজনী বোট ক্লাবে। এখা বোটে চড়ে ঘুরে বেড়ানোর জন্যেও পর্যটকদের দীর্ঘ লাইন।

ময়মনসিংহের ফুলপুর বাইসকান্দি থেকে বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঘুরতে আসা ফয়সাল জানান, গারো পাহাড় ও কৃত্রিম তৈরি বিভিন্ন রাইড দেখে তারা বিমোহিত হয়েছেন। বন্ধু-বান্ধব নিয়ে তারা এসেছেন প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে। লেকে গোসলে নেমে সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে বলে জানান তারা।

জামালপুরের ইসলামপুরের ডিগ্রিরচর হতে পরিবার পরিজন নিয়ে এসেছেন রুবিনা বিনতে সাদ। তিনি বলেন, ঈদ তো শিশুদের। তাই মেয়েকে নিয়ে এলাম। অনেক ভিড়। একেকটা রাইডে উঠতে প্রচুর সময় চলে যাচ্ছে। তারপরও মেয়েটা আনন্দ পাচ্ছে। তাতেই আমি খুশি। বাচ্চারা চিড়িয়াখানা গিয়ে সবচেয়ে বেশি মজা পেয়েছে।

শেরপুর শহর হতে বান্ধবীদের সঙ্গে ঘুরতে এসেছেন ককলেজপড়ুয়া সানজিদা শারমিন মুন। তিনি বলেন, ঢাকাতেই থাকি। ঈদের ছুটিতে বান্ধবীরা একত্রিত হয়েছি। সময়টুকু আনন্দময় রাখতেই শহরের কোলাহল ছেড়ে গজনী অবকাশে ঘুরতে এসেছি। আগের চেয়ে পর্যটন কেন্দ্রে তৈরি কৃত্রিম দৃশ্যগুলো তাদের মনে অনেক আনন্দ দিয়েছে। ভাসমান সেতুটি আর লাভ সেল্ফি জোন সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল চোখে পড়ার মতো, তাই ঝামেলা নেই।

Gojne..

ব্যবসায়ীরা বলেছেন, এবার অন্যান্য ঈদের তুলনায় পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে। ঈদের দিন থেকে পর্যটক বেড়াতে আসছেন। এতে ভালো বেচা-কেনা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও খুব ভালো।

মিনি চিড়িয়াখানার ইজারাদার মো. ফরিদ মিয়া জানান, ঈদের দিন থেকেই প্রচুর দর্শনার্থীর আগমন ছিল। আশা করছি, টানা ছুটির সব দিনেই দর্শনার্থীর আগমন ঘটবে। এবার কিছুটা লাভের মুখ দেখব।

পর্যটন কেন্দ্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আব্দুর রহিম বলেন, ঈদ উপলক্ষে গজনী অবকাশে অনেক পর্যটক বেড়াতে এসেছেন। আমরা এবার ঈদ উপলক্ষে নতুন নতুন মালামাল দোকানগুলোতে তুলেছি। ব্যবসায়ীদের বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে। যেহেতু এবার ঈদে লম্বা ছুটি, তাই পর্যটকের আরও বাড়বে। পাশাপাশি পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও অনান্য বছরের তুলনায় এবার বেশি।

শেরপুরের পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম বলেন, টানা ছুটিতে এবারের ঈদে গজনী অবকাশে দর্শনার্থী বেড়েছে। আগত দর্শনার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে ঘোরাফেরা করতে পারে, সেজন্য এবার এখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি টহল পুলিশের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।

প্রতিনিধি/এসএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর


News Hub