পবিত্র কাবাঘরের জিয়ারতই মূলত ওমরা। এর অর্থ জিয়ারত করা, পরিদর্শন করা ও সাক্ষাৎ করা। ইসলামের ভাষায় পবিত্র হজের সময় ছাড়া অন্য যেকোনো সময় পবিত্র কাবাঘরের তাওয়াফসহ নির্দিষ্ট কিছু কাজ করাকে ওমরা বলা হয়।
ওমরা পালনে প্রধানত ৪টি কাজ করতে হয়। এর মধ্যে দুইটি কাজ ফরজ— ১. ইহরাম পরিধান করা। ২. পবিত্র কাবাঘর তাওয়াফ করা।
আর দুইটি কাজ ওয়াজিব— ১. সাফা ও মারওয়া সাতবার সাঈ করা। ২. মাথার চুল মুণ্ডানো বা ছোট করা।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: হজ ও ওমরা পালনকারীরা যেসব প্রতিদান পাবেন
১. ইহরাম পরিধান করা
ইহরাম পরিধানের আগে-পরে কিছু করণীয় রয়েছে। সেগুলো মেনে চলতে হবে। এছাড়াও ইহরামের শুরু থেকে তাওয়াফ শুরু করার আগ পর্যন্ত তালবিয়া পড়ার বিধান রয়েছে। তাওয়াফ শুরু করলে তালবিয়া পড়া ছেড়ে দেবে।
ইহরাম পরিধানের পর কিছু কাজ নিষিদ্ধ, যেমন—সেলাইযুক্ত কাপড় বা জুতা ব্যবহার। অনুরূপ মস্তক ও মুখমণ্ডল ঢাকা। চুল কাটা বা ছিঁড়ে ফেলা। নখকাটা। ঘ্রাণযুক্ত তৈল বা আতর লাগানো। স্ত্রীর সঙ্গে সংগম করা। যৌন উত্তেজনামূলক কোনো আচরণ বা কোনো কথা বলা। শিকার করা। ঝগড়া-বিবাদ বা যুদ্ধ করা। চুল-দাড়িতে চিরুনি বা আঙুল চালনা করা, যাতে ছিঁড়ার আশঙ্কা থাকে। শরীরে সাবান লাগানো। উকুন, ছারপোকা, মশা ও মাছিসহ কোনো জীবজন্তু হত্যা করা বা মারা। যেকোনো ধরনের গুনাহের কাজ করা।
২. কাবাঘর তাওয়াফ করা
পবিত্র কাবাঘর সাতবার প্রদক্ষিণ করাকে তাওয়াফ বলা হয়। তাওয়াফের নিয়মকানুন রয়েছে। তা যথাযথ মেনে চলবে। সাত চক্কর তাওয়াফ শেষ করার পর ডান কাঁধ ঢেকে নিয়ে মাকামে ইবরাহিমে আসবে এবং পড়বে-‘ওয়াত্তাখিজু মিম মাকামি ইবরাহিমা মুসল্লা।’
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: ওমরার সওয়াব ও নানা ফজিলত
অতঃপর মাকামে ইবরাহিমের পেছনে দুই রাকাত নামাজ আদায় করবে। প্রথম রাকাতে সুরা ফাতিহার পর সুরা কাফিরুন পড়বে। দ্বিতীয় রাকাতে সুরা ফাতিহার পর সুরা ইখলাস পড়বে। দুই রাকাত সালাত আদায় করার পর জমজমের পানি পান করবে। মাতাফের (তাওয়াফ করার স্থান) চতুর্দিকে জমজমের গরম ও ঠাণ্ডা পানির ঝার/ড্রাম আছে। জমজমের পানি দাঁড়িয়ে পান করবে এবং পান করার সময় বলবে—‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইলমান নাফি’আ, ওয়ারিজক্বাও ওয়াসি’আ, ওয়াশিফাআম মিন কুল্লি দা’ঈ।’ (হে আল্লাহ, আমাকে উপকারী জ্ঞান দান করুন! পর্যাপ্ত রিজিক দান করুন! সব রোগের শিফা দান করুন)।
৩. সাফা-মারওয়ায় সাঈ করা
জমজমের পানি পান করে ধীরে ধীরে সাফা পাহাড়ে আরোহণ করবে। সাফা ও মারওয়া পাহাড় দুটি কাবা শরিফের পাশেই অবস্থিত। এরপর মাসআ (সাঈ করার স্থান) আসবে। সাফা-মারওয়া সাঈ করার সময় কিছু দোয়া রয়েছে। সেগুলো পড়বে। স্বাভাবিকভাবে হাঁটার স্থানে হেঁটে পার হবে; আর দৌড়ানোর স্থানে দৌড়ে পার হবে। এভাবে সাত চক্কর শেষ করবে। সাফা থেকে মারওয়া গেলে এক চক্কর। মারওয়া থেকে সাফাতে এলে এক চক্কর। সাঈর মধ্যে যা খুশি জিকির, দোয়া, কোরআন তিলাওয়াত করতে পারবে। সাঈ শেষ হলে এ দোয়া পড়বে—‘রাব্বানা তাক্বাব্বাল মিন্না ইন্নাকা আনতাস ছামিউল আলিম।’
আরও পড়ুন: হজের সময় পিরিয়ড শুরু হলে করণীয়
৪. মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করা
সাত চক্কর সাঈ শেষ করার পর পুরুষ হলে মাথা মুণ্ডন করবে অথবা মাথার চুল ছোট করবে। মুণ্ডন করলে মাথার সর্বাংশের চুল মুণ্ডন করতে হবে। অনুরূপভাবে চুল ছোট করলে মাথার সর্বাংশের চুল ছোট করতে হবে। মাথা মুণ্ডন করা চুল ছোট করার চেয়ে উত্তম। নারীরা আঙুলের এক কর পরিমাণ মাথার চুল কাটবে।
এই আমলগুলোর মাধ্যমে ওমরা সমাপ্ত হবে। সুতরাং ওমরা মূলত ইহরাম, তাওয়াফ, সাঈ, মাথা মুণ্ডন বা মাথার চুল ছোট করা। আল্লাহ তাআলা আমাদের যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।