বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৪, ঢাকা

পানির সংকটে এলাকা ছাড়ার উদ্যোগ!

মোস্তফা ইমরুল কায়েস
প্রকাশিত: ০২ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৫৮ এএম

শেয়ার করুন:

পানির সংকটে এলাকা ছাড়ার উদ্যোগ!

তানজিম আহমেদ। পূর্ব কাজীপাড়ার মাদ্রাসা রোডের পৈত্রিক বাড়িতে পরিবার নিয়ে থাকেন। কিন্তু কয়েক প্রজন্মের স্মৃতিধন্য সেই বাড়িটিই তিনি এখন বিক্রি করে দিয়ে এই এলাকা ছাড়তে চান। এজন্য ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ক্রেতা খুঁজছেন।

কেন কয়েক প্রজন্মের স্মৃতিধন্য পৈত্রিক বাড়ি বিক্রির উদ্যোগ? ঢাকা মেইলের সঙ্গে আলাপকালে তানজিম জানান, দীর্ঘদিন ধরে পানির সংকটের কারণে বাধ্য হয়েই জমি বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


বিজ্ঞাপন


তানজিম বলেন, আমার বাসায় পানি থাকে না। শুধু আমার না, পুরো এলাকায়। ফলে গত মাসে তিনটি ফ্লাটের ভাড়াটিয়া চলে গেছেন। বাকিরাও যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কখন চলে যায় আল্লাহই ভালো জানেন। এ কারণে বাড়িটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

বাড়িটিতে দাদা, দাদার দাদাও ছিলেন জানিয়ে তানজিম বলেন, ইদানীং পানির সমস্যা এতটাই প্রকট আকার ধারণ করেছে যে সেখানে বসবাস করাটা তাদের পক্ষে দুরুহ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা পৈত্রিক ভিটা-বাড়ি বিক্রি করে ঢাকার অন্য এলাকায় চলে যেতে চান। এজন্য ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ক্রেতা খুঁজছেন। ক্রেতা পেলেই বাড়ি বিক্রি করে এলাকা ছাড়বে।

আরও পড়ুন

শুধু রমজানেই কেন পানির সংকট?
ইফতার-সেহরিতে গ্যাস সংকট আদাবর-মোহাম্মদপুর-শংকরে
সিটি করপোরেশন এলাকায় থেকেও মাটির চুলাই ভরসা!
গ্যাস সংকটে ইফতার-সেহরিতে চরম ভোগান্তি

এই এলাকার অনেকেই পানির জন্য সাব-মার্সিবল পাম্প বসাচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, কিন্তু তার সেই সাধ্য নেই। ফলে বাধ্য হয়ে বাড়ি বিক্রি করতেই হবে। এছাড়া তার আর কোনো উপায় নেই বলে জানান।


বিজ্ঞাপন


ওই এলাকার বেশ কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেল, প্রতি রমজান ও গরমে এই সমস্যা বাড়ে। ফলে প্রতি বছরই ভোগান্তি পোহাতে হয় তাদের। এ বছরও ব্যতিক্রম হয়নি। রাজধানীর পূর্ব কাজীপাড়ার মাদ্রাসা রোডের ৬ ও ৯ নম্বর গলি এলাকার বাড়িগুলোতে প্রায় ১৫ দিন ধরে পানির তীব্র সংকট।

তারা বলছেন, কোনো কোনোদিন রাতে কিছুটা পানি আসে, আবার কোনোদিন তাও মেলে না। ফলে সেহ ও ইফতারে তাদের অবর্ণনীয় ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পানি কেনার সাধ্যও তো অনেকের নেই।

কয়েকজন বাসিন্দা জানান, পানির অভাবে মনে হয় যেন তারা মরুভূমিতে বাস করছেন। ওয়াসার গাড়ি থেকে কিছুটা পানি কেনা যায়, কিন্তু সেটিও সঠিক সময়ে পাওয়া যায় না। সামর্থবানরা প্রতিদিন পানি কিনে খান। পানির কারণে এই এলাকায় প্রায়ই মালিক-ভাড়াটিয়া ঝগড়া বা কথা কাটাকাটির খবর পাওয়া যায়।

Gas_Water--Kayes--01--Inner

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়াসার মডস জোন-১০ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শফিক আহমেদ খান বলেন, ওই এলাকায় পানির কোনো সমস্যা নেই। এরপরই তিনি ফোন লাইন কেটে দেন।

অন্যদিকে এ বিষয়ে জানতে ১৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হুমায়ুন রশিদ জনির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

এমআইকে

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর