রোববার, ১০ মে, ২০২৬, ঢাকা

আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা এবং বয়স্ক মায়েদের বৃদ্ধাশ্রমে দেওয়ার প্রবণতা

কামরান চৌধুরী
প্রকাশিত: ১০ মে ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম

শেয়ার করুন:

আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা এবং বয়স্ক মায়েদের বৃদ্ধাশ্রমে দেওয়ার প্রবণতা

শহরের আলো ঝলমলে ব্যস্ততার ভেতর অদৃশ্য এক নীরবতা বাসা বেঁধেছে। সেটি হলো মায়েদের একাকিত্ব। যারা একসময় সন্তানের ছোট্ট পৃথিবী গড়ে তুলেছিলেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তাদের অনেকেই ঠাঁই নিচ্ছেন বৃদ্ধাশ্রমে। প্রশ্ন জাগে, কেন এই পরিবর্তন, কেন এই দূরত্ব? 

আধুনিক জীবনের গতি এখন যান্ত্রিক। কর্মক্ষেত্রের চাপ, নগরজীবনের সীমাবদ্ধতা এবং পারিবারিক কাঠামোর পরিবর্তন, সব মিলিয়ে যৌথ পরিবার ভেঙে গড়ে উঠছে ক্ষুদ্র পরিবার। এক ছাদের নিচে বহু প্রজন্মের সহাবস্থান এখন ক্রমেই বিরল। 


বিজ্ঞাপন


এই পরিবর্তনের ভেতর বয়স্ক মায়েরা যেন ধীরে ধীরে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ছেন। সময়ের অভাব, মানসিক দূরত্ব এবং দায়িত্ব এড়ানোর প্রবণতা তাদের ঠেলে দিচ্ছে এমন এক জীবনে, যেখানে স্মৃতিই একমাত্র সঙ্গী হয়ে ওঠে।

বৃদ্ধাশ্রম অনেকের কাছে নিরাপত্তা ও সেবার জায়গা হলেও মায়েদের কাছে এটি প্রায়শই বিচ্ছেদের আরেক নাম। সন্তানের আশ্রয়ে থাকা সেই মানুষটি একসময় একা বসে থাকেন অপেক্ষার প্রহর গুনে। কেউ কি আজ আসবে, কেউ কি ডাকবে আপন নামে? এই প্রশ্নগুলো নিঃশব্দে ভাসতে থাকে প্রতিটি দিন ও রাতের ভাঁজে।

তবে বাস্তবতাকে অস্বীকার করাও যায় না। অনেক ক্ষেত্রে বৃদ্ধাশ্রম উন্নত চিকিৎসা, নিয়মিত পরিচর্যা এবং নিরাপদ আশ্রয়ের নিশ্চয়তা দেয়, যা ব্যস্ত শহরগুলোতে সবসময় নিশ্চিত করা কঠিন। তবুও প্রশ্ন থেকে যায়, ভালোবাসার শূন্যতা কি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় পূরণ করা সম্ভব?

সমাধান একমাত্রিক নয়। প্রয়োজন পারিবারিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণ, দায়িত্ববোধের চর্চা এবং সম্পর্কের গভীরতা। কারণ একটি সমাজের প্রকৃত মানবিকতা নির্ধারিত হয়, সে সমাজ তার বয়স্ক মানুষদের কতটা সম্মান, যত্ন এবং ভালোবাসা দিতে পারে তার ওপর। মায়েদের পরম মমতায় যে সন্তানটি বড় হয়েছে, সেই সন্তানের ছায়াতলে আজীবন মা-বাবারা বেঁচে থাকুক।


বিজ্ঞাপন


তাই এবারের মা দিবসে আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে। শুধু বছরে একটি দিন উপহার দিয়ে দায়িত্ব শেষ না করে, প্রতিদিন মায়ের জন্য একটু সময় বরাদ্দ করা এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি। আধুনিকতার দৌড়ে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আমাদের শিকড়ের টান ধরে রাখতে হবে। আমাদের একটুখানি আন্তরিকতা আর ভালোবাসাই পারে মায়েদের জীবনের এই গোধূলিবেলাকে সুন্দর ও নিরাপদ করতে।

লেখক: ক্রিয়েটিভ এক্সিকিউটিভ, ডিজিহুক

এনএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর