'মা' শব্দটার সাথেই জড়িয়ে আছে শত আবেগ। এই একটি শব্দের মাঝেই নিহিত সন্তানের হাসি, শান্তি আর বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা। কিন্তু শব্দটি যতটা আবেগের, বাস্তব জীবনে অনেক মায়ের গল্পটাই ততটা একাকীত্বের।
এই নিঃসঙ্গতা কাটাতে এখন অনেক মা-ই ভার্চুয়াল জগতকে সঙ্গী করে নিচ্ছেন। কিছুটা সময় পার করতে, নিজের একাকীত্ব ঘোচাতেই মূলত তাদের এই চেষ্টা। সোশ্যাল মিডিয়া বা স্মার্টফোন হয়তো তাদের বাইরের পৃথিবীর সাথে যুক্ত রাখছে, কিন্তু বাস্তবের গভীর একাকীত্ব কি তাতে সত্যি দূর হয়?
বিজ্ঞাপন

সংসারে একজন মায়ের শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন অনেক সময়ই হয় না। সন্তান পালন থেকে শুরু করে সংসারের সব দায়িত্ব যেন একা মায়ের কাঁধেই বর্তায়। 'মা' বলেই সব চাপ তাকে নিতে হবে— এমন একটি অলিখিত নিয়ম আমাদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত। পরিবারের সহানুভূতির অভাব এই চাপকে আরও বাড়িয়ে দেয়, কেড়ে নেয় তাদের মানসিক প্রশান্তি।
এরপর সন্তান যখন বড় হয়ে যায়, পড়াশোনা বা কাজের প্রয়োজনে দূরে চলে যায়, তখন মায়েরা এক অদ্ভুত শূন্যতায় ভোগেন। মুখোমুখি হন সম্পূর্ণ নতুন এক নিঃসঙ্গতার। বিশেষ করে সিঙ্গেল মাদারদের সংগ্রাম আরও কঠিন। স্বামী বিচ্ছেদ বা মৃত্যুর পর সমাজ ও পরিবারের নানা নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বা অবহেলা তাদের এই একাকীত্বকে আরও গভীর করে তোলে।

বিজ্ঞাপন
মায়ের এই একাকীত্ব দূর করার দায়িত্ব আমাদেরই। শত ব্যস্ততার মাঝেও প্রতিদিন অন্তত একবার অডিও বা ভিডিও কলে কথা বলা উচিত। শুধু কাজের কথা নয়, সারা দিনে আপনার কী কী ঘটল, তা মায়ের সাথে শেয়ার করুন। সম্ভব হলে নিয়মিত তাকে দেখতে যান। মায়েরা যেন শুধু ভার্চুয়াল জগতেই আটকে না থাকেন, সেদিকে খেয়াল রাখুন। তার প্রিয় কাজগুলোতে উৎসাহ দিন, আত্মীয়স্বজন বা প্রতিবেশীদের সাথে যোগাযোগের পরিবেশ তৈরি করে দিন। সংসারের ছোটখাটো সিদ্ধান্তে তার পরামর্শ নিন, তাকে বোঝান যে পরিবারে তিনি এখনো কতটা অপরিহার্য।
ভার্চুয়াল জগতের সাময়িক বিনোদন নয়, বাস্তব জীবনে সন্তানের একটু সময়, পরিবারের মানসিক সমর্থন আর সত্যিকারের ভালোবাসাই পারে মায়ের জীবনের এই গভীর একাকীত্ব দূর করতে।
লেখক: শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ
এনএম



















