বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৫, ঢাকা

আ.লীগ নেতাদের চাঁদার টাকায় এনসিপির ইফতার মাহফিলের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি, খুলনা
প্রকাশিত: ২৯ মার্চ ২০২৫, ০১:৫৪ পিএম

শেয়ার করুন:

loading/img

খুলনার কয়রায় আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নামে ইফতার মাহফিল আয়োজনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক গোলাম রব্বানী ও তার অনুসারি আব্দুর রউফের বিরুদ্ধে ওই কমিটির সদস্য সচিবসহ একাধিক নেতাকর্মী এমন অভিযোগ করেন। তবে গোলাম রব্বানী তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

গতকাল শুক্রবার কয়রা উপজেলা পরিষদের মাঠে বিশাল প্যান্ডেল করে কয়রা উপজেলা নাগরিক পার্টির ব্যানারে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক মো. গোলাম রব্বানী। ইফতার মাহফিলে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাসহ শতাধিক মানুষ অংশ নেয়।


বিজ্ঞাপন


কয়রা উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব এস কে গালিব বলেন, কয়রায় এখনো এনসিপির কমিটি নেই। আমরা চেষ্টা করছি সর্বজনগ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদেরকে দলে সংগঠিত করতে। কিন্তু হঠাৎ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় ও জাতীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকার কথা বলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক গোলাম রব্বানী ও তার অনুসারী আব্দুর রউফ চাঁদাবাজির মাধ্যমে ইফতার আয়োজন করে আমাদের বিব্রত করেছেন। এ চাঁদা দেওয়ার তালিকায় যেমন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ছিলেন, তেমনি অনেক সরকারি কর্মকর্তাকেও দিতে হয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতিকের নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা নেওয়ায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান বলেন, উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক গোলাম রব্বানী ও তার সাথে সবসময় থাকা আব্দুর রউফ আমার কাছে এসে নাগরিক পার্টির ইফতারের কথা বললে আমি দশ হাজার টাকা দিয়েছি।

কয়রার মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, আমার কাছে গোলাম রব্বানী, রউফসহ কয়েকজন এসে ইফতারের আয়োজনের জন্য ৫০ হাজার টাকা চায়। তারা বলেছিলেন, আমি যেন ইফতারের জন্য পুরো মাংস কেনার টাকাটা দেই। তবে আমি পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, এনসিপি কয়রার মূল সংগঠকরা এর সাথে নেই।

কয়রায় জাতীয় নাগরিক পার্টির উদ্যোগে ইফতার মাহফিলের দাওয়াতপত্রে লেখা দেখা যায়, 'জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কয়রা এর পক্ষ থেকে পবিত্র মাহে রমজানের পবিত্রতা ও বরকতপূর্ণ মুহূর্তগুলোকে সামনে রেখে ইফতার মাহফিল। উক্ত ইফতারে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর কেন্দ্রীয় ও জাতীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।' দাওয়াতপত্রে কারও নাম না থাকলেও যোগাযোগের জন্য দুটি ফোন নম্বর লেখা রয়েছে। দুটি নাম্বারে কল দিলে একটিতে কথা হয় উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক মো. গোলাম রব্বানীর সাথে। অপর নম্বরে ফোন রিসিভ করেন আব্দুর রউফ নামে একজন।


বিজ্ঞাপন


চাঁদাবাজির অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে কয়রা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক মো. গোলাম রব্বানী বলেন, ‘হিতাকাঙ্ক্ষী এবং নিজেদের অর্থে ইফতারের খরচ চালানো হয়েছে। আমাদের ভালো কাজগুলো দেখে দলের মধ্যে অনেকের হিংসা হয়। তারা আমাদের বিরুদ্ধে এসব মিথ্যাচার করছেন।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়রা উপজেলা মূখ্য সংগঠক ইমদাদুল হক বলেন, ‘আমরা ৫ আগস্টের আগে ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে থেকেছি, আর গোলাম রব্বানী একদিনও আন্দোলনে না গিয়ে ঘরে বসে আহ্বায়কের পদ পেয়েছেন। এজন্য দলের অন্য তার কোনো মায়া নেই। ইফতার মাহফিলের বিষয়ে আমাদের সাথেও আলাপ করেনি। আমি নিজে ইফতারের টাকার উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেছে, এসব করতে গেলে একটুআধটু চাঁদাবাজি করতে হয়।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়রা উপজেলার উপদেষ্টা সাহারুল ইসলামের অভিযোগও একই। তিনি বলেন, ‘দলের কারো সাথে আলোচনা ছাড়াই গোলাম রব্বানী নিজের ক্রেডিট জাহির করতে এবং তার সার্বক্ষণিক সঙ্গী আব্দুর রউফকে আগামীতে নাগরিক পার্টির নেতৃত্বে আনতে এমন কাজ করেছেন। শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে নিজেকে জাহির করতে গিয়ে চাঁদাবাজি করে দলকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরাও বিব্রত।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে আন্দোলনে আহত আলতাফ মাহমুদ বলেন, ‘আমি আন্দোলনের সময় আহত হই। নাগরিক পার্টির হয়ে কাজ করছিলাম। নাগরিক পার্টির ইফতার মাহফিল হয়েছে অথচ আমি জানি না।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়রা উপজেলার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান বলেন, ‘মূলত ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে এ কাজ করেছে। আর ভয় দেখিয়ে চাঁদা তুলেছে, ব্যানারকে কলঙ্কিত করেছে, নিজেরা ভাগবাটোয়ারা করে আত্মসাৎ করার চেষ্টা করছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’

জাতীয় নাগরিক কমিটি খুলনার সংগঠক হামীম আহমেদ রাহাত বলেন, ‘জাতীয় নাগরিক কমিটির সেটআপই নতুন দল এনসিপির কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। এখনো খুলনা জেলা কমিটি গঠন হয়নি, উপজেলা কমিটির তো প্রশ্নই আসে না। ইফতার ইস্যুতে কারও কাছ থেকে টাকা নেওয়া ঠিক নয়। কয়রায় নাগরিক পার্টির সাইনবোর্ড ও নাম ভাঙিয়ে এটা হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে।’

প্রতিনিধি/একেবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর