ঈদের ছুটি কাটাতে নিজ কর্মস্থল বগুড়া থেকে মোটরসাইকেলযোগে নিজ বাড়ি কুষ্টিয়া শহরের গোশালা রোডে আসছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মরত আব্দুল কাদের। মোটরসাইকেলের পেছনে স্ত্রী ইতি খাতুন (২৮) এবং সামনে একমাত্র ছেলে আহনাফ ইব্রাহীমকে (৩) বসিয়ে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার রাস্তা বাইক চালিয়ে আসেন কাদের। ঠিক কুষ্টিয়া শহরের প্রবেশ মুখে কুষ্টিয়ার ত্রিমহোনী বাইপাস এলাকায় একটি সবজিবাহী ট্রাক পেছন থেকে চাপা দেয় মোটরসাইকেলটিকে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ইতি খাতুন ও তার তিন বছরের ছেলে আহনাফের। গুরুতর আহত হয় মোটরসাইকেলের চালক বাবা আব্দুল কাদের। স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থা কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।
আরও পড়ুন
মর্মান্তিক এই ঘটনাটি শুক্রবার (২৮ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়কের কুষ্টিয়া ক্রিমোহী বাইপাস গোলচত্তর এলাকায় এই মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঈদের ছুটিতে আবদুল কাদের মোটরসাইকেলে স্ত্রী–সন্তানকে নিয়ে কুষ্টিয়া শহরের বাড়িতে ফিরছিলেন। ভোরে তারা বগুড়া থেকে রওনা হন। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের প্রবেশমুখ ত্রিমোহনী মোড়ে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে ছিটকে পড়ে। এসময় পেছন থেকে আসা একটি সবজিবোঝাই ট্রাক তাদের চাপা দেয়। ঘটনাস্থলে আহনাফ ও তার মা ইতি খাতুনের মৃত্যু হয়।
কুষ্টিয়া হাইওয়ে পুলিশের ওসি সৈয়দ আল মামুন জানান, ঈদের ছুটি কাটাতে মোটরসাইকেলযোগে কর্মস্থল বগুড়া থেকে নিজ বাড়ি কুষ্টিয়া আসার পথে কুষ্টিয়ার ত্রিমোনী বাইপাস এলাকায় পৌঁছলে পেছন দিক থেকে আসা একটি বেপরোয়া গতির ট্রাক তাদেরকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল আরোহী ইতি খাতুন এবং তার শিশু সন্তান আহনাফের মৃত্যু হয়।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার পরে পুলিশ এসে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেন। ঘাতক ট্রাকটিকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। তবে ট্রাকটিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন তারা।
প্রতিনিধি/এসএস