রোববার, ৬ এপ্রিল, ২০২৫, ঢাকা

যেভাবে কোরআন শেখাতেন নবীজি

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৬:১৫ পিএম

শেয়ার করুন:

loading/img

বিশুদ্ধ কোরআন তেলাওয়াত মুসলিমদের জন্য অপরিহার্য। কেননা কোরআন তেলাওয়াত শুধু ইবাদতই নয়, নামাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতেরও অংশ। মহান আল্লাহ বিশুদ্ধভাবে কোরআন তেলাওয়াতের নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘আর কোরআন তেলাওয়াত করো ধীরে ধীরে ও সুস্পষ্টভাবে।’ (সুরা মুজ্জাম্মিল: ৪) অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘এভাবে আমি অবতীর্ণ করেছি তোমার হৃদয়কে তা দ্বারা মজবুত করার জন্য এবং তা ক্রমে ক্রমে স্পষ্টভাবে আবৃত্তি করেছি।’ (সুরা ফোরকান: ৩২)

আলেমদের মতে, নামাজ শুদ্ধ হয় পরিমাণ বিশুদ্ধ তেলাওয়াত শেখা ফরজ। আর তা হলো- কোনো হরফ বা শব্দ উচ্চারণের সময় এতটুকু বিকৃতি না হওয়া, যাতে অর্থ পরিবর্তন হয়ে যায়। আল্লামা জালালুদ্দিন সুয়ুতি (রহ.) বলেন, ‘উম্মতের জন্য যেভাবে কোরআন বোঝা এবং এর আদেশ-নিষেধ মানা আবশ্যক, ঠিক সেভাবে কোরআনের শব্দ ও অক্ষরগুলো সহিহ-শুদ্ধভাবে পড়া ও উচ্চারণ করাও আবশ্যক; যেভাবে ইলমে কিরাতের ইমামদের মাধ্যমে যুগপরম্পরায় নবীজি থেকে আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেছে। (আল ইতকান ফি উলুমিল কোরআন: ১/৩৪৬)


বিজ্ঞাপন


কোরআনের প্রতিটি শব্দ, বাক্য, এমনকি তার হরকত পর্যন্ত আল্লাহ কর্তৃক সংরক্ষিত। তাই জিবরাইল (আ.) ঠিক যেভাবে রাসুলুল্লাহ (স.)-কে কোরআন শিখিয়েছেন সেভাবেই তিনি সাহাবিদের শিক্ষা দিয়েছেন। নবীজি (স.)-এর শেখানো পদ্ধতিই বিশুদ্ধ তেলাওয়াতের মানদণ্ড। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘এটা সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমারই। সুতরাং যখন আমি তা পাঠ করি তুমি সেই পাঠের অনুসরণ করো। অতঃপর এর বিশদ ব্যাখ্যার দায়িত্ব আমারই।’ (সুরা কিয়ামা: ১৭-১৯)

আরও পড়ুন: কোরআন তেলাওয়াতের সময় কেউ সালাম দিলে জবাব দিতে হবে?

নবীজির কোরআন শিক্ষাদান পদ্ধতি
রাসুলুল্লাহ (স.) সাহাবিদের কোরআন শিখিয়ে আল্লাহর নির্দেশ পালন করেছেন। তিনি কোরআন শিখিয়েছেন এর প্রতিটি শব্দ-বাক্য উচ্চারণসহ এবং অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে। যেমন আনাস (রা.)-কে নবী (স.)-এর ‘কিরাআত’ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে নবী (স.) দীর্ঘ করতেন। এরপর তিনি ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ তেলাওয়াত করে শোনালেন এবং তিনি বললেন, নবী (স.) ‘বিসমিল্লাহ’, ‘আর রহমান’, ‘আর রাহিম’ পড়ার সময় দীর্ঘায়িত করতেন। (সহিহ বুখারি: ৫০৪৬)

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (স.) আমার হাত তাঁর উভয় হাতের মধ্যে রেখে আমাকে এমনভাবে তাশাহুদ শিখিয়েছেন, যেভাবে তিনি আমাকে কোরআনের সুরা শেখাতেন। (সহিহ বুখারি: ৬২৬৫)


বিজ্ঞাপন


কোরআনের তেলাওয়াত বিশুদ্ধ করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। এ কাজে যার চেষ্টা ও শ্রম যত বেশি হবে, আল্লাহর দরবারে তার মর্যাদা তত বেশি হবে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘কোরআন পাঠে দক্ষ ব্যক্তি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ফেরেশতাদের সঙ্গী হবে। আর যে ব্যক্তি কোরআন পড়ার সময় আটকে যায় এবং কষ্ট করে তিলাওয়াত করে তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব।’ (সুনানে আবি দাউদ: ১৪৫৪) হাদিস শরিফে আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা সুললিত কণ্ঠে কোরআন পড়ো, কেননা তা কোরআনের সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দেয়।’ (শুআবুল ঈমান: ২১৪১)

আরও পড়ুন: গোসল ফরজ অবস্থায় কোরআন শোনা যাবে?

বিশুদ্ধ তেলাওয়াত শেখার কাজে সহযোগিতা করা সবার দায়িত্ব। শিক্ষার্থীরা যদি শেখার সময় ভুল করে, বিশেষ করে যার মাধ্যমে অর্থ পরিবর্তন হয়ে যায়, তা শুধরে দেওয়া ওয়াজিব। আর যদি অর্থে বিকৃতি না আসে তবে শুধরে দেওয়া মুস্তাহাব ও নৈতিক দায়িত্ব। তবে মনে রাখতে হবে, শিক্ষার্থীকে এমন ভাষায় সতর্ক করা যাবে না, যাতে তার মন ভেঙে যায় বা কোরআন শেখার সাহস হারিয়ে ফেলে। (লিকাউল বাবিল মাফতুহ: ১৪/১০৪)

সর্বোপরি তেলাওয়াত বিশুদ্ধ করতে মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা আবশ্যক। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমার প্রতি আল্লাহর ওহি সম্পূর্ণ হওয়ার আগে কোরআন পাঠে ত্বরা করো না এবং বলো- হে আমার প্রতিপালক! আমাকে জ্ঞানে সমৃদ্ধ করুন।’ (সুরা তাহা: ১১৪)

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে বিশুদ্ধভাবে কোরআন তেলাওয়াতের তাওফিক দান করুন। কোরআন শেখা ও শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে নবীজির পদ্ধতি অনুসরণের তাওফিক দান করুন। আমিন।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন