মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০২৪, ঢাকা

ঢাকা-৯: লড়াই হতে পারে সাবের-আফরোজার

কাজী রফিক
প্রকাশিত: ০৫ মে ২০২৩, ১২:৪৩ পিএম

শেয়ার করুন:

ঢাকা-৯: লড়াই হতে পারে সাবের-আফরোজার
সাবের হোসেন চৌধুরী ও আফরোজা আব্বাস। ছবি: সংগৃহীত

আর মাত্র আট মাস পর ২০২৪ সালের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে চলতি বছরের নভেম্বরে। তবে এরইমধ্যে ভোটের হাওয়া বইতে শুরু করেছে দেশজুড়ে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করতে চায়। দলটি ইতিমধ্যে তাদের নির্বাচনী প্রচারণাও শুরু করেছে। ঈদের আগে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের নিজ নিজ এলাকায় উন্নয়ন প্রচারের তাগিদ দিয়েছেন। সে হিসেবে কাজও করেছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। অপরদিকে সরকারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনের মাঠে আছে বিএনপি। ভোটের মাঠে শেষ পর্যন্ত বিএনপির অবস্থান কি হবে তা সময়ই বলে দেবে।

দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২০টি ঢাকায়। এরমধ্যে ঢাকা-৯ জাতীয় সংসদের ১৮২নং আসন। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার খিলগাঁও ও সবুজবাগ, দক্ষিণগাঁও, মাণ্ডা এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৭নং ওয়ার্ড নিয়ে সংসদীয় আসনটি গঠিত।


বিজ্ঞাপন


২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে হেভিওয়েট প্রার্থী ছিলেন দুজন। আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী৷ তার বিপরীতে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন তিনজন- মির্জা আব্বাস, তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস ও হাবিবুর রশিদ। তবে শেষ পর্যন্ত মাঠে ছিলেন আফরোজা আব্বাস এবং সাবের হোসেনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তিনিই।

saber1

আগামী নির্বাচনেও এ আসনে সাবের হোসেন চৌধুরী ও আফরোজা আব্বাসের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বলছেন স্থানীয়রা। যদিও বর্তমান সরকারের অধীনে আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে না বলেই জানিয়ে আসছেন দলটির নেতারা।

এদিকে টানা তৃতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাবের হোসেন চৌধুরী। ১৪ বছরের বেশি সময়ে তার হাত ধরেই সংসদীয় আসনটির বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ সাধিত হয়েছে। শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, সড়ক-অবকাঠামো থেকে শুরু করে সব পর্যায়ে উন্নয়ন কাজ করেছেন তিনি।


বিজ্ঞাপন


স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ভাষ্য, সব প্রয়োজনে গত তিন সংসদের মেয়াদকালে সাবের হোসেন চৌধুরীকে পাশে পেয়েছেন তারা। তার হাত ধরেই উন্নয়নের ধারায় বহমান ঢাকা-৯ সংসদীয় আসন।

আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে নানা ভাবনা স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝেও। মুগদা এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ রিয়াদ ঢাকা মেইলকে বলেন, এমপি সাহেব ভালো মানুষ। এলাকার জন্য অনেক কাজ করেছেন। তবে অনেক উন্নয়ন টেকসই হয়নি। মুগদা-মাণ্ডা এলাকার রাস্তা ঠিক হয়নি। রাস্তা দখলের একটা বড় সমস্যা আছে। এগুলো সমাধান করা উচিত।

টেকসই উন্নয়ন না হলেও সংসদ সদস্য হিসেবে সাবের হোসেন চৌধুরীর বিকল্প কাউকেও দেখছেন না রিয়াদ।

তবে সড়ক-ফুটপাত দখলের অভিযোগ স্থানীয় আরেক বাসিন্দা আমিনুল ইসলামের। তার মতে, সরকার দলীয়দের জোরে অনেকেই সড়ক ও ফুটপাত দখল করে আছেন। এ সমস্যার সমাধান আগামী নির্বাচনে প্রার্থীদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

সবুজবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চিত্তরঞ্জন দাসও সাবের হোসেন চৌধুরীর বিকল্প দেখছেন না।

afroza

ঢাকা মেইলের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এমপি সাহেব অনেক উন্নয়ন কাজ করেছেন। রাস্তাঘাটের উন্নয়নসহ সব ধরনের উন্নয়ন হয়েছে। তার হাত ধরেই এ আসনের চেহারা পাল্টেছে। তার বিকল্প কেউ নাই।

তিনি বলেন, নেতাকর্মীদের পাশে তাকে সবসময় পাওয়া যায়। ঈদে, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি নেতাকর্মীদের সহযোগিতা করেন।

নির্বাচনের আগে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কয়েকভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন নজির রয়েছে। ঢাকা-৯ আসনে তেমন কোনো শঙ্কা নির্বাচনকে সামনে রেখে দেখা যাচ্ছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে চিত্তরঞ্জন দাস বলেন, দুর্যোগে আওয়ামী লীগ আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ। আমাদের এখানে এ ধরনের কোনো সমস্যা নাই।

আসনটিতে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী আফরোজা আব্বাস। তাকে ঘিরেই নানা ছক কষছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।

তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দাবি, বিএনপির নেতারা কর্মীদের এক পথ ধরিয়ে দিয়ে নিজেরা ভিন্ন পথে হাঁটেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের যোগাযোগ খুবই কম।

কারই/জেএম

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর