সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: ৬ মাস পর মুখোমুখি আইনজীবীরা

রথীন্দ্র নাথ বাপ্পি
প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম

শেয়ার করুন:

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: ৬ মাস পর মুখোমুখি আইনজীবীরা
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে গঠিত বর্তমান সরকারের ছয় মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সংস্কার এবং গণআকাঙ্ক্ষা পূরণ নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন দেশের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা। 

বিচার বিভাগে সরকারের নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক মামলা এবং ‘আওয়ামী প্র্যাকটিস’ বজায় থাকা নিয়ে যেমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, তেমনি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও ধ্বংসপ্রাপ্ত বিচার ব্যবস্থাকে পুনর্গঠনে সরকারকে সময় দেওয়ার পক্ষেও যুক্তি এসেছে।

পরিবর্তন শুধু গুম না থাকায়, বাকি সব আওয়ামী আমলের মতো: মনজিল মোরসেদ 

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ মনে করেন, বর্তমান সময়ে বিচারপ্রার্থীদের খুব বড় কোনো প্রাপ্তি ঘটেনি। তিনি বলেন, ছয় মাস তো আসলে একটা কম সময়। এখানে এর আগে ১৫ বছর, পরে আবার ইউনুস সাবের দুই বছর। এখন এই দেখানোর যে লক্ষণ, এইটা তো আসলে এই বিচারপ্রার্থী যারা, তারাই কিন্তু ভালো বলতে পারে—দেশের মানুষ, যারা বিচারের জন্য আসে। তো আমরা তো বলতে পারি তাদের কথা শুইনা। আমরা যা দেখি সেটা তো ইম্পর্টেন্ট (গুরুত্বপূর্ণ) না। অ্যাজ এ হোল মানুষের কাছ দিয়ে যা শুনি বা, তাতে তো খুব একটা বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন হইছে—সেরকম আমার কাছে মনে হয় না।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা যেটা ছিল, সেটা কোনো বাস্তবায়িত হয় নাই। ইন রেসপেক্ট অফ বিচার বিভাগ। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষায় তো ছিল যে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার হবে না। তো মামলা যেগুলো হয়, সবই তো ৮০%-ই তো মিথ্যা মামলা। তারপরে জেলখানায় বিনা বিচারে থাকবে না। তো জেলখানায় তো হাজার লক্ষ লক্ষ লোক বিনা বিচারে আছে। স্বাধীনভাবে কি কাজ করতে পারছে? এখনও তো আগের মতোই রিমান্ড চাইলে ১০ দিন, তারপরে গিয়া শ্যোন-অ্যারেস্ট একটার পর একটা চলতেই থাকে।

পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সবগুলাই তো চলছে, শুধুমাত্র একটাই পরিবর্তন আছে, সেটা হলো গুমটা নাই। পলিটিক্যাল পারসিকেউশন (রাজনৈতিক নিপীড়ন), বিচার বিভাগের ওপরে খড়গ, তারপরে অন্যান্য সবই আছে। শুধু একটাই দেখা যায় যে সেখানে ওই গুমটা আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি না। এটা একটা পরিবর্তন যদি বলেন, সেটা বলতে পারেন। কিন্তু অন্য ক্ষেত্রে বিচারপ্রার্থীদের আকাঙ্ক্ষা অভ্যুত্থানের পরে যেটা ছিল, সেরকম কিছু হয়েছে বলে আমার দৃষ্টিতে আসে নাই এখনও।

বিচার বিভাগের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মনজিল মোরসেদ বলেন, বিচার বিভাগের তো দুইটা পার্ট। একটা হলো সুপ্রিম কোর্ট, আরেকটা হলো নিম্ন আদালত। নিম্ন আদালত তো নিয়ন্ত্রণেই। কারণ আইন তো করে নাই, আইন করে তো সুপ্রিম কোর্টের সচিবালয় আলাদা করে দেয় নাই। না দেওয়ার অর্থই হলো যে তাদের নিয়ন্ত্রণে। এবং নিয়ন্ত্রণে কিনা এটা বুঝা যায়—আপনি যখন আসামি গ্রেফতার হয়, ওই যে ৩২ নম্বরে ফুল দিতে গেলে গ্রেফতার হয়, এটা কি কোনো অপরাধ? কিন্তু সেও তো আপনার রিমান্ডে যাচ্ছে, জেলখানায় যাচ্ছে। তাহলে এখানে তো বুঝাই যায়, আদেশ দেখলেই বুঝা যায় যে এখানে নিয়ন্ত্রণে কি নিয়ন্ত্রণে না। আর সুপ্রিম কোর্টের ওপরে ওই যে মব সৃষ্টি হয়েছিল, ওইগুলোর এখনো যে ভয়ভীতি মানুষের... বিচারকদের অন্তর থেকে চলে গেছে, ওইটা বলা যাবে না। বিচারকদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিত, দোসর হিসেবে আইডেন্টিফাই করত, এ সমস্ত বিভিন্ন রকমের থ্রেট ছিল।

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বাতিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা যদিও বলতেছে যে এই বাতিল সেই বাতিল না—মানে চূড়ান্ত বাতিল না, তারা ভালো কইরা নাকি করবে। ভালো কইরা তো এখনো আসে নাই। না আসা পর্যন্ত তো কর্তৃত্বটা ওখানেই আছে। আর সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে টানাপোড়েন হইতে পারত, কিন্তু আমি তো সেটা দেখি না। কারণ সুপ্রিম কোর্ট তো একটা রায় দিছিল তিন মাসের মধ্যে সচিবালয় নিয়ে আসার জন্য। আপিল বিভাগ তো সেটা স্টে (স্থগিত) করল। তো টানাপোড়েন হইলে তো আপিল বিভাগ বলত যে না, রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। কিন্তু আপিল বিভাগ তো সেটা বলে নাই। কাজেই সরকারের ইচ্ছাটাই তো পূরণ হচ্ছে আমার দৃষ্টিতে।

পুরানো প্র্যাকটিস নিয়ে তার মন্তব্য, আওয়ামী লীগ আমলের—মতই এখনো চলতেছে, তাহলে এখনো তো আওয়ামী লীগের আমলই বলতে হবে।  পরিবর্তন হলে তো আপনি বলতে পারতেন যে এটা আরেক আমল। একই কাজ তো হচ্ছে। পলিটিক্যাল পারসিকেউশন এখনো চলছে। ওই সময় বিএনপির উপরে, জামায়াতের উপরে হইত, আর এখন বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আছে, তাদের বিরুদ্ধে যারা আছে দল, তাদের ওপরে হচ্ছে—এইটুকু পার্থক্য। শুধু মুদ্রার পিঠটা পরিবর্তন হইছে। কিন্তু অ্যাকশন ঠিকই আছে।

বর্তমান বিচার বিভাগ সরকারের আজ্ঞাবহ: আসলাম মিঞা

আইনজীবী আসলাম মিঞা বলেন, প্রিভিয়াস গভর্নমেন্টের থেকে বর্তমান গভর্নমেন্টে কোনো পার্থক্য নেই। বিচার বিভাগ আগের মতো আর স্বাধীন হলো না, এখন স্বাধীন না। কারণ বিচার বিভাগে কিছুদিন পর পরই এই বেঞ্চগুলা পলিটিক্যাল মামলা বা এই কিছু অর্ডার স্থগিত, কোয়াশ ফাইল (বাতিল), স্টে, নতুন কোর্ট আবার স্টে। এতে সাধারণ বিচারপ্রার্থীরা হয়রানির শিকার। কারণ নতুন কোর্টে আসলে নতুন মামলা দেওয়া লাগতেছে এবং প্রতিটা কোর্টে গিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ বিভিন্নভাবে তাদেরকে হয়রানি বা তাদেরকে গাইডলাইন দিচ্ছে—কীভাবে কোন মামলায় জামিন দিতে হবে, কোন মামলায় জামিন দেওয়া যাবে না। এতে ন্যায়বিচার বিপন্ন হচ্ছে।

রাষ্ট্রপক্ষ এই গাইডলাইন দিচ্ছে জানিয়ে তিনি অভিযোগ করে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ কোনোভাবেই স্বাধীন বিচার বিভাগকে গাইডলাইন দিতে পারে না যে তুমি কোন মামলায় জামিন দিবে বা কোন মামলায় অর্ডার দিবে। বর্তমান যে বিচার বিভাগ, তা বলবো আমি এক কথায় এই সরকারের আজ্ঞাবহ। এবং সরকারের নির্দেশনা মেনেই বিচার বিভাগ পরিচালিত হচ্ছে। প্রিন্ট মিডিয়া বা ইলেকট্রনিক মিডিয়া ডিরেক্টলি (সরাসরি) সঠিক খবরটা প্রচার করতে পারছে না।

তিনি আরও বলেন, একটা মামলায় জামিন হচ্ছে, তো আরেকটা মামলায় অ্যারেস্ট হচ্ছে। জেলগেট থেকে অ্যারেস্ট হচ্ছে। এটাতে আমাদের কনস্টিটিউশনাল রাইটস (সাংবিধানিক অধিকার) ও হিউম্যান রাইটস (মানবাধিকার) ভায়োলেশন (খর্ব) হচ্ছে। সরকার প্রিভিয়াস গভর্নমেন্ট যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করছিল, সেইভাবেই আগাচ্ছে। আমি আহ্বান জানাবো, বিচার বিভাগকে স্বাধীনভাবে চলার সুযোগ করে দেওয়া হোক।

বিএনপির হাতে আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ নাই: মোহাম্মদ আলী

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, বিএনপি যখন ক্ষমতায় এসেছে তখন রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ছিল বিপর্যয়পূর্ণ। যেখানে ব্যাংক থেকে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা তছরুপ করে ব্যাংকগুলোকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ছয়টা ইসলামিক ব্যাংক ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। সেই অবস্থা থেকে রাষ্ট্রকে একটা অর্থনৈতিক স্ট্যাবল (স্থিতিশীল) অবস্থার দিকে অনেকটাই নিয়ে গিয়েছেন। প্রশাসন থেকে সর্বস্তরে একটা কমান্ডিং বা নিয়ন্ত্রণ অলরেডি চলে এসেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে কোনো দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায়নি।

আদালতে আস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অবশ্যই আদালতে মানুষের আস্থা ফিরেছে এবং আদালতে ন্যায়বিচার হচ্ছে। অতীতে আদালতের উপর বন্দুক রেখে বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার যেভাবে ফ্যাসিজমকে দীর্ঘায়িত করেছে—এখন আদালতে রাষ্ট্রের পক্ষে এমন কোনো আদেশ বা রায় হচ্ছে না যেটা জনগণের বিরুদ্ধে যায়। 

বিএনপির হাতে তো আর আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ নাই যে ফুঁ দিবে আর রাতারাতি সব চেঞ্জ হয়ে যাবে। ১৭ বছর যাবত এই দেশটা শুধু ধ্বংসের দিকেই গিয়েছে। সেইখান থেকে আমাদেরকে ধীরে ধীরে উত্তরণ করতে হবে। জনগণ এখনও খুশি বিএনপির উপর।

সচিবালয় আইন বাতিল প্রসঙ্গে তার দাবি, কোনো টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয় নাই। আইনটা তো একেবারে বাতিল হয়ে যায় নাই। নতুন করে জনমত যাচাই করে ভেবেচিন্তে একটা আইন করা হবে। এই মুহূর্তে বিচার বিভাগের উপর প্রশাসনের কোনো হস্তক্ষেপ হওয়ার সুযোগ নাই। আর পুনঃগ্রেফতারের বিষয়টি হলো—তদন্তের স্বার্থে বা নতুন অভিযোগে কাউকে পুনঃগ্রেফতারের প্রয়োজন হইতেই পারে। এটা ধারাবাহিক কাজ।

বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সরকার সুবিচার করছে না: তাজুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, জুলাই বিপ্লবের পরে মানুষের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। যে বিচার বিভাগ মানুষের স্বাধীনতা হরণ করেছে, বাকস্বাধীনতা হরণ করেছে, সিভিল রাইটস হরণ করেছে, সেখান থেকে মানুষ মুক্তি চেয়েছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বিচার বিভাগের সংস্কারের ব্যাপারে বড় ধরনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু আমরা খুবই হতাশ যে, এই নির্বাচিত সরকার এই আকাঙ্ক্ষার প্রতি কোন রকমের সুবিচার করছেন না। আগের মতোই চলছে। জাজ নিয়োগের আইন ল্যাপস করে দেওয়া হয়েছে। মনে হচ্ছে আগের ব্যবস্থাতেই বর্তমান সরকার স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন।

তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টে এই মুহূর্তে মাত্র চারজন বিচারক আছে। রিফর্মের (সংস্কার) কোনো কিছুই সরকারের মধ্যে নাই। এটা ফ্রাস্ট্রেটিং (হতাশাজনক)। ৬ মাসে দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি দেখতে পাইনি। এটা রাষ্ট্রের জন্য বিপদের কারণ।

সচিবালয় আইন বাতিল নিয়ে তিনি বলেন, একটা উৎসবমুখর পরিবেশে সচিবালয় উদ্বোধন হলো, বিল্ডিং হলো, জনশক্তি নিয়োগ হচ্ছে, হঠাৎ আপনি এটা বাতিল করে দিলেন। এটার মাধ্যমে বিচার বিভাগের সাথে সরকারের মারাত্মক দূরত্ব তৈরি হয়েছে এবং মারাত্মক ধরনের। কারণ এটা কেউই কামনা করেনি যে বিপ্লবের পরে এই কাজটা হবে। নিয়ন্ত্রণ চেষ্টা থেকেই এটা করা হয়েছে। সিস্টেম চেঞ্জ না করায় আগের মতোই হস্তক্ষেপ হচ্ছে।

মামলা ও গ্রেফতার নিয়ে তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর আমরা ভুলভাল মামলা ও জেলগেট গ্রেফতার দেখতে চাই না। যে অপরাধ করেছে তাকেই আবার বাইরে রাখছেন, হত্যাকারীদের প্রমোশন দেওয়া হচ্ছে, আর সাধারণ মানুষকে মামলায় ঢুকানো হচ্ছে। এটা একসেপ্টেবল (গ্রহণযোগ্য) না। সরকার পক্ষ এখনো পুরনো চরিত্র থেকে বেরিয়ে আসেনি। 

জেলগেট থেকে যেগুলো জামিন হয়ে যাওয়ার পরে আবার গ্রেফতার, এটা তো আওয়ামী কালচার ছিল। জুলাই বিপ্লবের পর আমরা এটা দেখতে চাই না।

সরকারের প্রতি পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের সামনে অভাবনীয় সুযোগ আছে। টু-থার্ড মেজোরিটি পেয়েছেন মানে এই নয় যে ভুলভাল কাজ করবেন। ফিন্যান্সিয়াল করাপশন (আর্থিক দুর্নীতি) বন্ধে কেন উদ্যোগ নিচ্ছেন না? দুদক কেন অ্যাক্টিভ না? আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কেন করছেন না? আপনারা স্বজনপ্রীতি, যেটা আওয়ামী লীগের আমলে এত বেশি অভিযোগ ছিল—নেপোটিজম, সেখান তো আপনি বেরিয়ে আসেন নাই! বিরোধী দলও চাচ্ছে না এই সরকারের পতন হোক। আপনারা ভালো কাজগুলো করেন। আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী কাজ করলে মানুষ চিরদিন মনে রাখবে।

যোগ করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক এই চিফ প্রসিকিউটর।

আরএনবি/এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর